ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯

ঢাকা বুধবার, ৯ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২৪ সফর, ১৪৪১

সাহিত্য অনুভূতি

অনুভূতি

নাজমীন মর্তুজা, নিরাপদ নিউজ: পাইলাম তারে, না পাওয়ার রূপে,
আজ কিছুটা ব্যথাহীন দাঁড়িয়ে পড়েছি, এগিয়ে যাচ্ছি- যাচ্ছি, আর একটু এগোলেই কাকাবুড়া পাখির বাসা, আমাকে সে উপহাস করে, করবেই তো! যে পারে না উড়ে যেতে, দৌড়ে যেতে, ভেসে যেতে, কিছুটা হেঁটে যাকে দাঁড়িয়ে পড়তে হয়, তাকে কাকাবুড়া উপহাস করবে না তো কাকে করবে! কন্যাদের পাঠ শেষ, এবার আমার কাজ শুরু, হেঁসেলে থৈ থৈ নুন জল সিরকা, সস, বার্গার ফ্রাইড নুডুলস, ছেঁড়া ক্রোসেন্টস, পাস্তা, চিজ, আফগানি রুটি, হামুস, একেবারে আলুথালু। সখিনার আড়ালে, সাহেব বাবু যা করেছে আটপৌরে অগোছালো অভ্যেস বসত, তারপরেও বলার বেলায় উঁচু কন্ঠে বলে, গুড ফ্যামিলি থেকে আসা, এই গান বড় গর্বের বাবা!
শুনেছিলাম পুরুষদের অনন্ত বেদনা মর্তের মদিরা মাঝে স্বর্গের সুধার অন্বেষণ । সংসার জীবনে যেই না পা রাখা অমনি কাব্যের ভাষা বদলে যায়, কেউ আর বলেনা তখন তুমি আর আমি ভাসিয়া এসেছি যুগল প্রেমের স্রোতে। আর কেউ আকুল হয় বলেনা- যদি এ মাটিতে চলিতে চলিতে পড়িত তোমার দান, এ মাটি লোভিত প্রাণ।
মাছ ধরা জালে, দুই দশক জড়িয়ে থাকা সুতো জলে কাতর প্রাণ তবুও প্রজন্মের শিকড় গেঁড়েছে হাঁসপাতালে। এত শ্রম কি বৃথা নষ্ট হবে! যা ভেসে উঠছে কালের দেয়ালে, জীবন কাব্যের ম্যুরালের মত।
কত উপলব্ধি, উৎসরণ জারিত জীবন রস ছলকে পরে বাস্তবতার মোহনায়। কিছুটা গ্রহণীয়, কিছুটা বজর্নীয়। ঐ আর কি! সকালের পাখি বিকালের গানে এই আনন্দই বহে। আসলে সবই সংসারের মুড মাত্র। গোধুলী বেলার মেঘের মতো রঙ বদলায় ক্ষণে ক্ষণে। কত কোকিল গান গাইতে- গাইতে মোরেছে মগডালে, কত বাঈজি মরেছে মুজরার মাদুরে। এমনি করেই শেষ হয় মানুষের জীবনের পূণর্দৈঘ্য ছায়াছবি। আর সংসারে তো দেনা- পাওনা , আসা- যাওয়ার, ঠিক- ভুল করেই কাটে জীবন।
‘পাছে আমার আপন ব্যথা মিটাইতে
ব্যথা জাগাই তোমার চিতে
পাছে আমার আপন বোঝা লাঘব তরে
চাপাই বোঝা তোমার পরে’
কাল হঠাৎ নিম্বর ঝারের ঝিঁ ঝিঁর গান শুনেছিলাম, খুব ভয় করে আমার, সারাটা জীবন এই কীটাণুকীট গুলো আমার মগজ ঝাঝরা করে ফেলেছে, যেমন করে চলেছে ঘোষিটির ছল, কত আতংকে থাকা যায়, বাংলার সমস্ত সংসার ভেসে গেছে ছলাকলায়, মার্কা লাগালাম আজ, আমার প্রজন্ম খুব সহজেই চিনে নিতে পারবে সাক্ষ্যব্যতীত। মানুষের সুখ খেকোদের চেনা জরুরী কারণ তাদের সাথেই পাঞ্জা লড়েই চলতে হবে জীবন পথে। শুধু মাত্র ক্ষুধার বিবেক থাকলে হবে না, খাদ্য আহরণের সঠিক পথটাও চিনে নেওয়া জরুরী ।
‘সংসারের খেলারে যদি খেলা বলে মানো
হাসিতে হাস্য মিলাইতে জানো
তা হলে রবে না খেদ’
আমাদেরই অতি পরিচিত জগতের মাঝে এ যেন আরেক জগত। যেন আরেক অপরিচিত পৃথিবী। যতই আধুনিক কাল, ততই আবেগের আকাল!
ছোট বেলায় আগুনে পুড়ে যেতে দেখেছিলাম, আমাদের একান্নবর্তী পরিবারের স্বপ্নগুলো, তারপর পৃথক হাঁড়ির ভাত, ঐ যে ভাঙলো, আর জোড়া লাগলো না, দিন দিন ভেঙ্গেই যাচ্ছে। অবাক লাগে রোগ, তাপে যারা শ্লেষ করে, কিংবা নব্য রাঁধুনির রান্না খেয়ে যাদের বমি পায়। ভাঙ্গা সংসারের কাপে যারা দুধ, চিনি বেশী দিয়ে কড়া চা পান করে, তারা আসলে কে? অপছায়া! তারা আসলে ফুলের মাঝে জন্ম নেয়া প্রেত?
এইটুকু বুঝে রাখুন শরীরের চাহিদা, সমাজের চাহিদা শরণাগত না হয়ে জীব সংসারে কিছুই পায় না।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)