ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৪৪ মিনিট ১৬ সেকেন্ড

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ , হেমন্তকাল, ৫ রবিউস-সানি, ১৪৪০

সড়ক সংবাদ অবৈধ্য ইট,বালুবাহী ট্রাক্টর, ট্রলির আতঙ্কে জনসাধারণ: ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা

অবৈধ্য ইট,বালুবাহী ট্রাক্টর, ট্রলির আতঙ্কে জনসাধারণ: ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা

ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা

১১ মার্চ ২০১৮, নিরাপদ নিউজ : অবৈধ্য ইট, বালু মাটি বহনকারী ট্রলি, মেঠো ট্রাক্টরে অতিষ্ঠ এবং আতংকিত জনসাধারণ। প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনার কারণে ঝরে যাচ্ছে তরতাজা প্রান। সারা বাংলাদেশে কৃষি জমির জন্য প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে একটা যান্ত্রিক লাঙ্গল। সেটা হলো কৃষিযান মেঠো ট্রাক্টর। যেটার পরিবর্তে পূর্বে ব্যবহার করা হত গরুর লাঙ্গল। কিন্তূ একাধিক প্রয়োজনীয়তা ও সুবিধার ভিত্তিতে  কৃষিজমি চাষাবাদের জন্য ঐ ট্রাক্টর বর্তমান খুবই প্রয়োজন গ্রাম বাংলার চাষীদের জন্য। যে প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেই বাংলাদেশ সরকার বিদেশ থেকে আমদানি করার অনুমতি এবং ব্যবহারের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। কিন্তূ সেই কৃষি জমিতে ব্যবহারের কৃষিযান ট্রাক্টর সুযোগ পেয়েই উল্টো জনপদ এবং জনজীবনে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।সাতক্ষীরা যশোরের বিভিন্ন উপজেলায় তার ব্যপক প্রভাব বিস্তার করেছে। চলছে হরহামেশে আবাদী জমি ছেড়ে গ্রামাঞ্চল, শহর ও বাজার কেন্দ্রিক সড়কে। সারা দেশে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও কম নয়। এমনকি দুর্ঘটনাও ঘটে চলেছে প্রতিনিয়ত।তেমনি প্রভাব দেখা যায় সাতক্ষীরার কলারোয়া ও পার্শ্ববর্তী যশোরের মণিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে । চাষাবাদের জন্য আমদানিকৃত ট্রাক্টর এখন অবৈধ ট্রাক বা পরিবহন হয়ে গ্রামীণ জনপদে সর্বনাশ ঘটাতে শুরু করেছে। আতংকিত জনপথ ও জনসাধারণ। কৃষি উন্নয়নের জন্য এসব ট্রাক্টর আমদানি করা হলেও মালিকরা এগুলো ব্যবহার করছে ইট, বালু, মাটি, কাপড়, কাঠ , তরিতরকারি, ফার্নিচার ইত্যাদি মালামাল পরিবহনের কাজে। ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচল গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট ভেঙে চুরমার করে ধুলোই পরিনত করে দিচ্ছে। কৃষি জমির টপ সয়েল কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করছে। জমি খুড়ে গ্রাম থেকে বালু এবং মাটি বহন করে নিয়ে যাচ্ছে শহর ও বিভিন্ন এলাকায় । ট্রাক্টরের অত্যাচারের মুখে গ্রাম ও শহরের মানুষ যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে না সেটা বললে ভুল হবে। তাছাড়া দেখে না দেখা এমনই একটি ভাব অস্বীকৃতি মুল্যয়ইত হবে । রোডে অনুমোদিত ট্রাক্টর ও সনদবিহীন ড্রাইভারদের কারণে রাস্তা-ঘাটে চলাচলকারী মানুষ সার্বক্ষণিক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে চলাচল করছে। চোখের সামনে অবৈধ এই বাহনের অবাধ চলাচল দেখেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না বলে আলোচিত সচেতন মহলে । জানা যায় , দেশের কৃষি উন্নয়ন তথা চাষবাসের কাজে ব্যবহার করার জন্য এসব ট্রাক্টর বিদেশ থেকে আমদানির সুযোগ দেয় সরকার। সরকারি সুযোগ পেয়ে এক শ্রেণীর আমদানিকারক অবাধে আমদানি করে ট্রাক্টর। আমদানিকারকরা এসব ট্রাক্টর বিক্রি করে ইটভাটার মালিক, মাটি ও বালু ব্যবসায়ী, কাঠ ব্যবসায়ী, লোহা ব্যবসায়ী, শিল্প মালিকসহ সাধারণ পরিবহন ব্যবসায়ীদের কাছে। ট্রাক্টর ও এর ড্রাইভারের জন্য কোনো লাইসেন্সের প্রয়োজন না হওয়ায় এসব পরিবহন ব্যবসায়ীরা স্বল্পমূল্যে সহজেই কিনে আনে এসব ট্রাক্টরসমূহ। তারা এসব ট্রাক্টর কিনে কৃষি কাজের পরিবর্তে করছে পরিবহন কাজে ব্যবহার। যেটা ব্যবহার করায় গ্রামগঞ্জ ও শহরে ট্রাক্টরের সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। জানা যায় ট্রাকের চেয়ে ট্রাক্টরের ভাড়া কম হওয়ায় এই ট্রাক্টরের চাহিদাও বেড়ে যায় কয়েকগুণ। দেশের সকল উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায়  একাধিক ইটভাটায় কত সংখ্যক ট্রাক্টর রয়েছে তা জানার সহজ কোনো উপায় নেই। তবে বেসরকারি হিসেব মতে, এক এক উপজেলায় কমবেশি শহশ্রাধীক ট্রাক্টর এখন গ্রামের রাস্তায় অবাধে চলাচল করছে। এই ট্রাক্টরের লৌহ নির্মিত চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে পিচঢালা পথে পিচ উঠে যাচ্ছে । পাকা রাস্তার পেভমেন্ট ভেঙে যাচ্ছে। চুর্নবিচুর্ন হচ্ছে ইটের রাস্তা ।গ্রামের মেঠো পথগুলোর মাটি আলগা হয়ে জমিতে মিশে যাচ্ছে।হচ্ছে ধুলোই পরিনত। বিলীন হতে শুরু করেছে মেঠো পথগুলো। সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তাঘাট বিনষ্ট হয়ে অর্থ জলানজলিতে পরিনত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক দিক। ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রয়োজন না হওয়ায় ২০ থেকে ২৫ বছরের শিশু-কিশোররাও অদক্ষ ভাবে এসব ট্রাক্টর অবাধে চালাবার সুযোগ পাচ্ছে। বেপরোয়া গতি ও কানফাটা আওয়াজে চলাচলকারী এসব ট্রাক্টরের কারণে গ্রামগুলোতে ব্যাপকভাবে পরিবেশ দূষণ দেখা দিয়েছে। শব্দ ও বায়ূদুষণ এখন গ্রামের প্রতন্ত অঞ্চলে পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে এসব ট্রাক্টর ও অবৈধ ইটবাহি ট্রলিসহ দানব যন্ত্র ।বিগত কয়েক বছরে বহুসংখ্যক মানুষ ট্রাক্টরের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছে। যেটা প্রতিনিয়ত পেপার পত্রিকা এবং অনলাইন গণমাধ্যমে হেডলাইনগুলো আলোর ঝল্কানীতে পরিনত হয় । সনদ না থাকায় এসব ট্রাক্টর ও ড্রাইভারদের বিরুদ্ধে মামলা করারও সুযোগ থাকছে না বলে আলোচিত সচেতন মহল ।সনদবিহীন ট্রাক্টর ড্রাইভারদের ভয়ে সচেতন মানুষ সার্বক্ষণিক আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। বিশাল চাকার এই জটিল প্রযুক্তির কৃষিযান এই ট্রাক্টরগুলো রাস্তায় চলাচলের সময় কার উপর গিয়ে উঠে তা বলা মুশকিল হয়ে পড়ে। এসব ট্রাক্টরের চাকার নিচে পিষ্ট হলে কেউ আহত হয় না। তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যু ঘটে মানুষের। বিগত কয়েক বছরে বহুসংখ্যক গরু, ছাগল ও মানুষ পিষ্ট হয়েছে এই ট্রাক্টরের নিচে। তাছাড়া সম্প্রতি একাধিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে যার পরিমাণ অনেক। যার মুল্যে রয়েছে ইটবাহি ট্রলি, মাটি বালুবাহী মেঠো ট্রাক্টরসহ অন্যান্য অবৈধ্য যানবাহন ।যেটা শুধু মানানসই কৃষি জমিতে দিগন্ত খোলা মাঠে। সেখানেই আবদ্ধ থাকার দাবি জানান সাতক্ষীরা যশোরের উপজেলা পর্যায় ও গ্রামাঞ্চলের সচেতন মহল। শুধু তাই নয় ট্রাক্টরের সাথে সংঘর্ষ ঘটলে কোনো ক্ষুদে যানবাহন আস্ত থাকে না। ভেঙে চুরমার হওয়া দুরে থাক অনেক সময় চিহ্ন দেখা যায় না বলে মনে করছেন জনসাধারণ । সিএনজি, ইজিবাইক, নছিমন, করিমন, ছোট হলার, মোটর চালিত রিকশা, প্যাডেলচালিত রিকশা, মোটরসাইকেলসহ বহুসংখ্যক যানবাহন ভেঙে চুরমার হয়েছে বলে জানা যায় । কিন্তু কোনো ট্রাক্টরের মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়নি। এসব ব্যাপারে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করা হলে সে রকম কোন কাজ হয় না। তবে কোন অদৃশ্য শক্তিতে সড়ক ও গ্রামাঞ্চলের মেঠোপথে চলছে এসব অবৈধ ট্রাক্টর? প্রশ্ন রাখেন সচেতন মহল । এমনিভাবে কোন অদৃশ্য শক্তির জন্য  দিনের পর দিন হাইওয়ে থেকে শুরু করে গ্রামের রাস্তা পর্যন্ত চলাচল করছে ট্রাক্টর। এসব ট্রাক্টরকে কোনো ক্রমেই আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে কেউ কার্যকরী পদক্ষেপও গ্রহণ করছে না বলে দাবি করেছেন সাতক্ষীরা ও যশোর জেলার সকল উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সচেতন মহল।সাতক্ষীরা যশোরের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সচেতন মহলের দাবি, ঐ সমস্ত কৃষিযানট্রাকটর যেন কৃষি জমিতে চাষাবাদের ভিতরে আবদ্ধ থেকে মোঠোপথ বিনষ্ট ও সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে রক্ষা করে জনজীবন। এবং উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)