সংবাদ শিরোনাম

২৩শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং

00:00:00 শুক্রবার, ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ , হেমন্তকাল, ৬ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী
ব্যবসা-বাণিজ্য, লিড নিউজ আইটি নিরাপত্তা সম্পর্কে ৫০ শতাংশ ব্যাংক কর্মকর্তাই অজ্ঞ

আইটি নিরাপত্তা সম্পর্কে ৫০ শতাংশ ব্যাংক কর্মকর্তাই অজ্ঞ

পোস্ট করেছেন: মোবারক হোসেন | প্রকাশিত হয়েছে: মে ১৭, ২০১৭ , ১:০৫ অপরাহ্ণ | বিভাগ: ব্যবসা-বাণিজ্য,লিড নিউজ

কর্মশালার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী।

১৭ মে ২০১৭, নিরাপদ নিউজ : আইটি নিরাপত্তা সম্পর্কে ৫০ শতাংশ ব্যাংক কর্মকর্তাই অজ্ঞ। যার মধ্যে ২৮ শতাংশ খুবই অজ্ঞ এবং ২২ শতাংশ কিছুটা কম অজ্ঞ। এছাড়া সামান্য ধারণা রয়েছে ২০ শতাংশ কর্মকর্তার। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইন্সস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) অডিটোরিয়ামে ‘আইটি সিকিউরিটি ইন ব্যাংক’ শীর্ষক কর্মশালায় বিআইবিএমের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান আলম। কর্মশালার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশের ব্যাংকগুলোতে আইটি নিরাপত্তা সম্পর্কে খুবই ভালো ধারণা রয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ কর্মকর্তার। এছাড়া কিছুটা ভালো ধারণা ১০ শতাংশ এবং মোটামুটি ধারণা রয়েছে ১৬ শতাংশ ব্যাংক কর্মকর্তার। ২১ টি ব্যাংকের উপর এই জরিপ চালায় বিআইবিএম। যার মধ্যে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ১৪টি, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক ৩ টি এবং বিদেশী ব্যাংক ৩টি। বাংলাদেশের ৫৭টি ব্যাংকে প্রায় ২ লাখ কর্মকর্তা রয়েছে।

গ্রাহকদের মধ্যেও একই জরিপ চালিয়েছে বিআইবিএম। এতে দেখা গেছে, ৫৪ শতাংশ গ্রাহক সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে অজ্ঞ।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ৯০ শতাংশ ব্যাংক কর্মকর্তা জানিয়েছে, ব্যাংকিং খাতে সাইবার ঝুঁকি বাড়ছে। ব্যাংকিং খাতের তথ্য নিরাপত্তা বাধায় আরও কিছু কারণ রয়েছে। এগুলো হল- নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে ব্যাংক কর্মকর্তাদের জানা-শোনার অভাব, গ্রাহকদের অসচেতনতা, ব্যাংকগুলোর বাইরের আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর অতি নির্ভরশীলতা, ব্যাংকিং খাতে আইটি এক্সপার্টের অভাব, প্রশিক্ষণ না থাকা এবং বাজেটের স্বল্পতা থাকার কারণে ব্যাংকিং খাতে সাইবার ঝুঁকি বাড়ছে।

কর্মশালায় দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। সাইবার সিকিউরিটি ইন ব্যাংক শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নাজডাক টেকনোলজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাজ আহমেদ। অ্যান এক্সপে­ারেশন অব দ্যা ডিজিটাল ব্যাংকিং রিভুলুয়েশন ইন বাংলাদেশ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান আলম।

এস কে সুর বলেন, সাইবার নিরাপত্তার জন্য গত কয়েক বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিবছর আইটি নিরাপত্তায় রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ আরও দেড় হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। দেশের ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইন অনুযায়ী নিরাপত্তার মানে পৌঁছাতে পারেনি। এ কারণে ব্যাংকিং খাতে সাইবার ঝুঁকি এখনও রয়েছে।

তিনি বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উপর সাইবার আক্রমণ প্রায়ই ঘটছে এবং সেগুলো খুব বড় ধরনের ও জটিল। আর্থিক খাতের পুরো সিস্টেমটাকে নষ্ট করে ফেলেছে। এই অপরাধীরা সাইবার আক্রমণ করে বড় অংকের তহবিল হাতিয়ে নিচ্ছে এবং এটিএম জালিয়াতির মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে।

বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধূরী বলেন, সাইবার ঝুঁকিকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। এ ধরনের একটি বড় ঝুঁকি ব্যাংকিং খাতে থাকলেও ব্যাংকিং খাতে দক্ষ কর্মীর অভাব রয়েছে। তাই ভারতের মতো আলাদা প্রতিষ্ঠান গড়ে ব্যাংকারদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তা না হলে আরও ঝুঁকিতে পড়বে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক দেবদুলাল রায় বলেন, সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে গাইডলাইনে বেশকিছু পরিবর্তন আনা হবে। আইটি নিরাপত্তা জোরদারে ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

পূবালী ব্যাংকের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মাদ আলী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে আইটি নিরাপত্তা খাতে আরও জোর দিতে হবে। কোনো সংকেত আসলেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ ব্যাংকে অ্যালার্ট ম্যাসেজ দেখলেও ঠেকানোর জন্য দক্ষ জনবল নেই।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn2Digg thisShare on Tumblr0Email this to someonePin on Pinterest0Print this page

comments

Bangla Converter | Career | About Us