ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৩৪ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ৫ শ্রাবণ, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১৬ জিলক্বদ, ১৪৪০

ভ্রমন আজমীর শরীফ আসা মানুষের মনে স্বপ্ন জাগে নিজামুদ্দিন আউলিয়ার মাজার জিয়ারত করার

আজমীর শরীফ আসা মানুষের মনে স্বপ্ন জাগে নিজামুদ্দিন আউলিয়ার মাজার জিয়ারত করার

শফিক আহমেদ সাজীব,নিরাপদ নিউজ:  হযরত শায়খ খাজা সৈয়দ মুহাম্মদ নিজামুদ্দিন আউলিয়া (রাঃ) মাজার দেখতে মন ব্যাকুল হলো দিল্লি পৌঁছেই। রাতটা কাটিয়ে পরদিন সকালেই প্রস্তুতি নিলাম হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া (রাঃ) মাজার গিয়ে যদি একটু দোয়া মেলে তবেই তো জীবনটা হবে সার্থক।

সকাল ১১টায় গিয়ে পৌঁছলাম নিজামুদ্দিন আউলিয়ার মাজার । যে দিকে তাকাই মনে হয়- এ যেনো এক পবিত্র ভূমি। কত না মানুষের মনে স্বপ্ন জাগে, নিজামুদ্দিন আউলিয়ার মাজার আসার।

কারো স্বপ্ন পূরণ হয়, কারো বা পূরণ হয় না! বাহ তবুতো এসেছি। ভাবছি আর ভাবছি- কোথায় আমার বাংলাদেশ আর কতই না দূরে এই নিজামুদ্দিন আউলিয়ার মাজার শরীফ!

সুলতান উল মাশায়েখ, মেহবুব-ই-ইলাহী, হযরত শায়খ খাজা সৈয়দ মুহাম্মদ নিজামুদ্দিন আউলিয়া (রাঃ) সংক্ষিপ্ত জীবনী।

সুলতান উল মাশায়েখ , মেহবুব ই ইলাহী , হযরত শায়খ খাজা সৈয়দ মুহাম্মদ নিজামুদ্দিন আউলিয়া (রাঃ) (১২৩৮ – ১৩২৫) এছাড়াও হযরত নিজামউদ্দিন আউলিয়া নামে পরিচিত , তিনি ভারতীয় উপমহাদেশ মধ্যে চিশতিয়া তরিকার একজন বিখ্যাত সূফী আউলিয়া ছিলেন। .তিনি ভারতে চিশতিয়া তরীকার মহান সূফীদের একজন। তার পূর্বসুরীদের মধ্যে হজরত ফরিদ গাঞ্জশাকার, হজরত বখতিয়ার কাকী এবং গরীবে নেওয়াজ হজরত খাজা মঈনউদ্দীন চিশতী (রঃ) ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের চিশতিয়া তরিকায় আধ্যাত্মিক চেইন বা সিলসিলা।

হজরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া (রঃ), তার পূর্বসুরীদের মত, ঈশ্বর কে বুঝতে ভালোবাসার জোর এবং তার জন্য ঈশ্বরের প্রেম মানে মানবতার প্রেম এ বিশ্বাসে বিশ্বাসী ছিলেন। তার ধর্ম- নিরপেক্ষতা ও উদারতা এবং অত্যন্ত প্রসূত জ্ঞানের জন্য দিল্লি মুসলমানদের উপর তার প্রভাব আর উপলব্ধ বিস্তার হয়েছিল। ১৪ তম শতাব্দীর ইতিহাসলেখক জিয়াউদ্দিন বারানি দাবি করেন, যে দিল্লি মুসলমানদের উপর তার প্রভাব এবং উপলব্ধীর কারনে তাদের পার্থিব বিষয়ের দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন হয়।

১৬ শতকে মোঘল সম্রাট আকবর এর উজির আবুল-ফাযল ইবনে মুবারাক লিখিত “আইন-ই-আকবর” এ উল্লেখ আছে সুলতান উল মাশায়েখ , মেহবুব ই ইলাহী , হযরত শায়খ খাজা সৈয়দ মুহাম্মদ নিজামুদ্দিন আউলিয়া (রাঃ) উত্তর প্রদেশের ( দিল্লি পূর্ব ), বাদাউন এ জন্মগ্রহণ করেন। পাঁচ বছর বয়সে তার পিতা হজরত আহমদ বাদাউনি মৃত্যুর পর তিনি তার মা বিবি জুলেখা সঙ্গে দিল্লি চলে আসেন।

বিশ বছর বয়সে, হজরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া আজওধান ( পাকিস্তান উপস্থিত পাকপাতাআন শরীফ ) যান এবং সেখানে হজরত বাবা ফরিদ নামে পরিচিত সুফী সন্ত ফরিদ গঞ্জেসাকার (রঃ) এর সাথে দেখা হয় এবং তিনি তার বায়াত নেন। হজরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া আজওধানে স্থায়ী বসবাস করলেন না। তিনি একযোগে সুফী ধার্মিক পদ্ধতি এবং নির্ধারিত দিল্লিতে তাঁর আধ্যাত্মিক গবেষণার সঙ্গে অব্যাহত থাকেন। তিনি বাবা ফরিদ গাঞ্জসাকার (রঃ) কাছে প্রতি বছর রমজান মাস কাটাতেন। যখন তিনি তৃতীয় বার বাবা ফরিদ এর কাছে আসেন, বাবা ফরিদ গঞ্জসাকার (রঃ) তাকে তার উত্তরাধিকারী ঘোষণা করেন। হজরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া দিল্লী ফিরে আশার কিছু দিন পরই বাব ফরিদ (রঃ) পর্দা গ্রহন করেন। হজরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া গিয়াসপুর খানকা শরিফ করার আগে দিল্লির বিভিন্ন শহরে বসবাস করেন।শহর জীবনের গোলমাল এবং তাড়াহুড়া জন্য তিনি এখানে খানকা শরিফ করেন।

তিনি ১৫২৫ সালের ৩ই এপ্রিল সকালে পর্দা গ্রহন করেন। তার দরগা দিল্লিতে অবস্তিত, উনার দরগা বর্তমান কাঠামো ১৫৬২ সালে নির্মাণ করা হয়। তার পর্দা গ্রহনের দিন প্রতি বছর এখানে ওরশ হয় এবং লাখ লাখ মানুষ তার দরগা জিয়ারত করতে আসেন। তথসুত্র- উইকিপিডিয়া।
লেখক : শফিক আহমেদ সাজীব, সাধারণ সম্পাদক, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)