ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৩৬ মিনিট ৬ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২২ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

জাতীয়, লিড নিউজ আজ রক্তস্নাত ভয়াল ২১ আগস্ট

আজ রক্তস্নাত ভয়াল ২১ আগস্ট

নিরাপদ নিউজ: আজ রক্তস্নাত ভয়াল ২১ আগস্ট। ২০০৪ সালের আজকের এই দিনে আওয়ামী লীগের এক জনসভায় গ্রেনেড হামলা করা হয়। সেদিন খোলা ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়ে আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাসবিরোধী ওই সমাবেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন। এই সন্ত্রাস বিরোধিতার জবাব সেদিন দেয়া হয়েছিল সন্ত্রাস করেই। ট্রাক লক্ষ্য করে পর পর আটটি আর্জেস গ্রেনেড হামলা চালানো হয়।

এ হামলায় ২৪ জন নিহত হয় এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রায় ৩০০ লোক আহত হন। এই হামলায় নিহতদের মধ্যে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নারী নেত্রী মিসেস আইভি রহমান অন্যতম, যিনি বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী।

২০০৪ সালের সারাদেশে জঙ্গিদের বোমা হামলা এবং গোপালগঞ্জে পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ২১ আগস্ট বিকেলে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগদলীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশের প্রধান অতিথি শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানস্থলে বিকেল পাঁচটায় পৌঁছালে একটি ট্রাকের ওপর তৈরি মঞ্চে তিনি কুড়ি মিনিট বক্তব্য দেন। বক্তৃতা শেষে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করার ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা মঞ্চ থেকে নিচে নেমে আসতে থাকেন। ঠিক এমন সময় শুরু হয় মঞ্চ লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা। মাত্র দেড় মিনিটের মধ্যে বিস্ফোরিত হয় ১১টি শক্তিশালী গ্রেনেড। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন এবং পরে হাসপাতালে আরো ১২ জন নিহত হন।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন। আক্রমণ শুরু হওয়া মাত্র নেতাকর্মীরা মানববর্ম তৈরি করে তাদের নেত্রীকে রক্ষা করেছিলেন। ঘাতকরা ওই জনসভায় রক্তের বন্যা বইয়ে দিয়েছিল। চারদিকে শোনা যাচ্ছিল আহতদের আত্মচিৎকার। এক ভয়ঙ্কর দৃশ্য তৈরি হয়েছিল সেদিন। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা সবাই হতবিহ্বল হয়ে গিয়েছিলেন।

শেখ হাসিনা তখন বিরোধীদলীয় নেত্রী। ক্ষমতাসীনরা একজন বিরোধীদলীয় নেত্রীর যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করে এক রকম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছিল। ওই আক্রমণের দায় ক্ষমতাসীনরা কিছুতেই এড়াতে পারে না। কিন্তু এ ঘটনার যথাযথ তদন্ত না করে উল্টো যাবতীয় আলমত নষ্ট করে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে। এ রকম একটা ভয়ঙ্কর ঘটনাকে রীতিমতো প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল।

অনেকে এ ঘটনাকে মনে করে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের ফসল। পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়া প্রকাশ্য দিবালোকে এই ধরনের ভয়াবহ আক্রমণ হতে পারে। তাও আবার বিরোধীদলীয় নেত্রীর জনসভায়। হামলার ধরন ও গ্রেনেডের আলামত দেখে তখনই বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেছিলেন, এই ঘটনায় শক্তিশালী মহলের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

এ ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক জিয়া, চারদলীয় জোট সরকারের সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু, হরকাতুল জিহাদ প্রধান মুফতি হান্নান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ৫২ জনকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে অন্য মামলায় মুফতি হান্নানসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড হওয়ায়, তিনজন ছাড়াই বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

প্রতি বছর এই দিনটি স্মরণ করা হয় জাতীয় রাজনীতিতে এক ভয়ঙ্কর দিন হিসেবে। হামলা পাল্টা হামলা থাকলে রাজনীতিতে কখনোই সুস্থধারা থাকবে না। আক্রমণ, হানাহানি কেবল হিংসারই জন্ম দেয়। হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি পুরোপুরি বন্ধ না হলে সুস্থধারার রাজনীতি কখনোই প্রত্যাশা করা যায় না। এজন্য রাজনৈতিক দায়িত্বশীলদের আরো সচেতন হতে হবে, হতে হবে গণতান্ত্রিক। একমাত্র গণতান্ত্রিক সহমতের মাধ্যমেই রাজনীতিতে আসতে পারে সুবাতাস।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)