ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৬ সেকেন্ড

ঢাকা সোমবার, ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২০ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস, নিসচা সংবাদ, লিড নিউজ আজ ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস

আজ ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস

নিরাপদ নিউজ:  আজ ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস’ ।  নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে সড়ককে নিরাপদ করার লক্ষ্যে আন্দোলন করে আসছে। সড়ককে নিরাপদ করার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হয়। ২৬ বছর আগে চট্টগ্রামের অদূরে চন্দনাইশে বান্দরবানে স্বামী ইলিয়াস কাঞ্চনের কাছে যাবার পথে মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় জাহানারা কাঞ্চন নিহত হন। রেখে যান অবুঝ দুটি শিশু সন্তান জয় ও ইমাকে। ইলিয়াস কাঞ্চন সে সময় ছবির স্যুটিংয়ে বান্দরবান অবস্থান করছিলেন। স্ত্রীর অকাল মৃত্যুতে দু’টি অবুঝ সন্তানকে বুকে নিয়ে শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে ইলিয়াস কাঞ্চন নেমে আসেন পথে। পথ যেন হয় শান্তির, মৃত্যুর নয়- এই শ্লোগান নিয়ে গড়ে তুলেন একটি সামাজিক আন্দোলন ‘নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’। আজ ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস এবং মরহুমা জাহানারা কাঞ্চনের ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী, যাঁর অকাল মৃত্যুতে সড়ককে নিরাপদ করার এই সামাজিক আন্দোলনের জন্ম।

২০১৭ সালের ৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রী সভার বৈঠকে ২২ অক্টোবরকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও অনুমোদন করা হয়। একই বছরের ২২ অক্টোবর বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হয়।  ‘জীবনের আগে জীবিকা নয়, সড়ক দুর্ঘটনা আর নয়’-এ প্রতিপাদ্য নিয়ে তৃতীয়বারের মতো দিবসটি পালিত হতে যাচ্ছে আজ। দিবসটি উপলক্ষে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) ১ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করছে। সরকারিভাবে রাজধানীসহ প্রতি জেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

দিবসটি পালনে সরকারিভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। এরমধ্যে রয়েছে ক্রোড়পত্র প্রকাশ, আলোচনা সভা, র‌্যালি ও সড়ক সচেতনতা কার্যক্রম। দিবসের শুরুতে সকাল সাড়ে ৭টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হবে।সকাল ১০টায় ফার্মগেট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। বিকেল চারটায় রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হবে। এর পাশাপাশি পরিবহন মালিক, চালক, যাত্রী ও পথচারীদের সচেতন করার লক্ষ্যে বিতরণ করা হবে লিফলেট, পোস্টার ও স্টিকার। দেশের সব জেলা ও উপজেলায় এ দিবসে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ভিডিও চিত্র প্রদর্শনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানান সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. আবু নাছের।

সরকারি এসব কর্মসূচিতে সারাদেশ ব্যাপী একযোগে সকল নিসচা শাখা সংগঠন কর্মিরা অংশগ্রহন করবেন। এবারের জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন বলে সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানিয়েছে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই উপস্থিতির মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় অনেক দুর এগিয়ে যাবে মনে করছেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সকল নেতাকর্মিগণ।

গতকাল সোমবার শেখ হাসিনা ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০১৯’ উপলক্ষে এক বাণীতে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা দেশের সড়কগুলোকে নিরাপদ হিসেবে গড়ে তুলে সড়ক দুর্ঘটনা কাঙ্খিত পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সক্ষম হব।’

‘বাংলাদেশে তৃতীয়বারের মতো আজ মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০১৯’ পালন করা হচ্ছে জেনে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘জীবনের আগে জীবিকা নয়, সড়ক দুর্ঘটনা আর নয়’ অত্যন্ত যথার্থ ও সময়োপযোগি হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, উন্নত যোগাযোগ অবকাঠামো ও পর্যাপ্ত পরিবহন সেবা অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত। এ উপলব্ধি থেকে স্বাধীনতার পর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের বিধ্বস্ত সড়ক ও ধ্বংসপ্রাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থাকে স্বল্প সময়ের মধ্যে সংস্কার ও পুনঃনির্মাণ করে সুষ্ঠু যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে বিগত পৌঁনে এগার বছরে দেশের উন্নত সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। দেশের সকল জাতীয় মহাসড়ক পর্যায়ক্রমে চার বা তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীতকরণ, মেট্রোরেল, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি), এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ফ্লাইওভার, ওভারপাস-আন্ডারপাস নির্মাণসহ নতুন নতুন সড়ক, সেতু, কালভার্ট নির্মাণ, পুনঃনির্মাণ করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়নের পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

তিনি বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে ন্যাশনাল রোড সেফটি স্ট্র্যাটেজিক অ্যাকশন প্ল্যান  (২০১৭-২০) প্রণয়ন করা হয়েছে এবং সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ জাতীয় সংসদে পাশ করা হয়েছে। এ আইনটি প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্ঘটনা ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সড়ককে নিরাপদ করতে ডিভাইডার স্থাপন, বাঁক সরলীকরণ, সড়ক ৪-লেনে উন্নীতকরণ, গতিনিয়ন্ত্রক বসানোসহ নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘সড়ক পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা আনয়ন এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে আমরা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং টেকসই নিরাপদ মহাসড়ক নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের সরকারের লক্ষ্য।’

তিনি উল্লেখ করেন, সড়ক দুর্ঘটনা মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে, আবার কাউকে পঙ্গু করে দিতে পারে। একটি দুর্ঘটনা কোন ব্যক্তি বা তার পরিবারের জন্যও সারাজীবন দুঃসহ কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অস্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চালানো সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিয়ন্ত্রিত গতিতে এবং সাবধানে গাড়ি চালানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন হতে হবে। মনে রাখতে হবে জীবনের প্রয়োজনে জীবিকা, জীবিকার প্রয়োজনে জীবন নয়।

এদিকে দেশ/বিদেশের সকল নিসচা শাখা কর্মিদের জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালনে সরকারি সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহন এবং নিজ নিজ শাখার আয়োজনে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালনের আহবান জানিয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেই সাথে তিনি দেশবাসি সকলকে আহবান জানান সড়ক দুর্ঘটনারোধে দিবসটি পালনে সকলকে এগিয়ে আসতে। তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করে বলেন, যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে এই আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে সর্বমহলের এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে সফলতা অতি নিকটে। তিনি সরকারকে বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় আমরা কৃতজ্ঞ। নিরাপদ সড়ক চাই এর দীর্ঘদিনের একটি দাবি নিরাপদ সড়ক দিবসকে জাতীয় করন করা সেটি তিনি পুরন করেছেন। আজ ২২অক্টোবর সারাদেশে ৩য় বারের মতো জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালন করা হচ্ছে এবং এবারের অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানান। সড়ককে নিরাপদ করতে সরকারের এমন আন্তরিক মনোভাব সব সময় যেন অব্যহত থাকে সেই আশা ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, ‘জীবনের আগে জীবিকা নয়, সড়ক দুর্ঘটনা আর নয়’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে একইভাবে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর দেশব্যাপি বিদ্যমান ১২০টিরও বেশি শাখার উদ্যোগে স্থানীয়ভাবে র‌্যালী, মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, সৌদিআরবসহ বিদেশেও জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি পালিত হবে। নিসচার গৃহীত সকল কর্মসূচিতে নিসচাকর্মীসহ সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত, তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশ নিবেন। সেইসাথে সারাদেশে ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচির পাশাপাশি ডকুমেন্টারীও প্রদর্শন করা হবে বলে জানিয়েছে নিসচা।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)