ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ফেব্রুয়ারী ৪, ২০১৫

ঢাকা শুক্রবার, ৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২৪ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

খুলনা আজ ৫ ফেব্রুয়ারি ফাদার মারিনো রিগনের ৯১ তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে-রিগন মেলা

আজ ৫ ফেব্রুয়ারি ফাদার মারিনো রিগনের ৯১ তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে-রিগন মেলা

 ফাদার মারিনো রিগন

ফাদার মারিনো রিগন

নিরাপদ নিউজ, মংলা থেকে মোঃ নূর আলম : আজ ৫ ফ্রেব্রুয়ারি ফাদার মারিনো রিগনের ৯১ তম জন্ম বার্ষিকী। ফাদার মারিনো রিগন মানব সেবায় নিবেদিত খ্রিষ্ট সন্ন্যাসী। ফাদার রিগন নামেই তিনি দেশে-বিদেশে সমধিক পরিচিত। তিনি জন্মগ্রহন করেন ১৯২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ইতালির ভেনিসের অদূরে ভিচেন্সার ভিল্লারভেরলা গ্রামে। বাংলাদেশে তাঁর আগমন ১৯৫৩ সালের ৭ জানুয়ারি। বাংলাদেশে তিনি কেবল ধর্মীয় কাজে সীমাবদ্ধ থাকেন নি, নিজেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি আর মানব কল্যানমূলক বহুমাত্রিক কর্মকান্ডে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার কাছে হয়ে উঠেছেন প্রিয় মানুষ। ফাদার রিগনকে বাংলাদেশের তাঁর শিক্ষামূলক, সৃজনশীল কর্মকান্ড ্ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০০৯ সালে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রদান করেছে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব। এ ছাড়্ওা তিনি দেশে-বিদেশে বহু পুরস্কার ্ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। কর্মসূত্রে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে অবশেষে তিনি স্থায়ী নিবাস গড়ে তোলেন সুন্দরবন সংলগ্ন মংলার শেলাবুনিয়াতে। বর্তমানে ফাদার রিগন শারিরীক অসুস্থতার দরুন উন্নততর চিকিৎসা নিতে ইটালিতে অবস্থান করছেন। ফাদার মারিনো রিগনের ৯১তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে মংলার হলদিবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৫ থেকে ৭ ফেব্রুযারি পর্যন্ত তিনদিন ব্যাপী ”রিগন মেলা-২০১৫” আয়োজন করা হয়েছে। আজ ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহ্পতিবার বিকেল ৩ টায় তিনদিন ব্যাপী রিগন মেলার উদ্বোধন করবেন বাগেরহাট-৩ ( মংলা-রামপাল ) এর সংসদ সদস্য আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক। রিগন মেলায় প্রতিদিন থাকবে কবি গান, বাউল গান, লালন গীতি, রবীন্দ্র সংগীত, জারি গান, গনসংগীত, নৃত্য, আলোচনা সভা ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রদান করা হবে শিক্ষা বৃত্তি।
ফাদার রিগনের সামগ্রিক কর্মপ্রবাহের মধ্যে চিরন্তন মানবতাবাদী চরিত্রটি উদ্ভাসিত। তাই তাকে দেখি চিরমানবতাবাদী রবীন্দ্র নাথ ্ও লালনের জীবন দর্শনে উদ্দীপ্ত। সেই জন্যে তিনি অকটপটে বলেন আমার মস্তকে রবীন্দ্র নাথ আর অন্তরে লালন।

বাংলা শিল্প-সাহিত্য প্রেমেমগ্ন এ মানুষটি কেবল এ দেশের সাহিত্য পাঠ করেন নি, সেগুলোর ব্যাপক অংশ ইতালি ভাষায় অনুবাদ করে বাংলা সাহিত্যকে করেছেন মহিমান্বিত। তাঁর হাত দিয়ে ইতালিয়ান ভাষায় অনুদিত হয়েছে রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলি-সহ প্রায় ৪০ টি কাব্যগ্রন্থ, লালন সাঁই এর সাড়ে ৩ শতাধিক গান, জসীম উদ্দীনের নক্সীকাঁথার মাঠ, সোজনবাদিয়ার ঘাট, নির্বাচিত কবিতা, বঙ্কিম চট্টপাধ্যায়, শরৎ চন্দ্র ছাড়া বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ন কবিদের অসংখ্য কবিতা।

ফাদার রিগনের কর্ম পরিধির বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে শিক্ষামূলক কার্যক্রম। তাঁর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় মংলাসহ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে প্রতিষ্টিত হয়েছে ১৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া হাজার হাজার সুবিধাবঞ্চিত ছেলে-মেয়েদের নিরবিচ্ছিন্ন পড়ালেখার সুযোগ করে দেন তিনি।

ফাদার মারিনো রিগন মনে করেন বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ স্মরনীয় ঘঠনা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় তিনি এ দেশে কাটান জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। তিন্ওি মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখেন আর দশজন বাঙ্গালীর মতো। যুদ্ধপীড়িতদের আশ্রয় ্ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবায় এগিয়ে আসেন তিনি। তাই ফাদার রিগন বাংলাদেশে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত। ###

 

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)