ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ডিসেম্বর ৫, ২০১৪

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৮ সফর, ১৪৪১

ফিচার আটক অবৈধ সোনার সব চালান রাষ্ট্রীয় ভাণ্ডারে জমা হয় কি?

আটক অবৈধ সোনার সব চালান রাষ্ট্রীয় ভাণ্ডারে জমা হয় কি?

আটক অবৈধ সোনা

আটক অবৈধ সোনা

নিরাপদ নিউজঃ এত সোনা যায় কোথায়। আটক অবৈধ সোনার সব চালান রাষ্ট্রীয় ভাণ্ডারে জমা হচ্ছে না। জব্দ করা চালানের তালিকা হওয়ার আগেই একটি চক্র সেখান থেকে কৌশলে সোনা সরিয়ে ফেলছে। ফলে আটকের প্রকৃত পরিমাণও জানা যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যে সোনা জমা দেয়া হয় শুধু সেটুকুর হিসাবই পাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবে উদ্ধারের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়া সোনার হিসাবে ব্যাপক পার্থক্যের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা চক্রটি আটক সোনা সরানোর কাজটি নিপুণ দক্ষতায় সম্পন্ন করে। ফলে সোনা লোপাটের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠে না। পরবর্তীকালে বোঝা যায়। কিন্তু তখন কিছুই করার থাকে না। ভারতসহ পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার হয়ে যায়। এসব ঘটনার তদন্তে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড উচ্চ পর্যায়ের সাত সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। কাস্টমস, বিমান, পুলিশ, বিজিবি, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবি আরসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী গত ৫ বছরে তাদের ভল্টে জমা হয়েছে ১ হাজার ২৪২ কেজি সোনা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে দেয়া কাস্টমস ও শুল্ক গোয়েন্দা অফিদফতরের প্রতিবেদন অনুযায়ী গত ৫ বছরে তাদের আটককৃত সোনার পরিমাণ সাড়ে ৮০০ কেজি। এটা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা হয়েছে। এছাড়া পুলিশ, জিআরপি, বিজিবি, এপিবিএনসহ অন্যান্য সংস্থা এ সময়ের মধ্যে প্রায় ৪০০ কেজি সোনা আটক করে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়েছে। এর বাইরে ওজন করা হয়নি এমন ১ হাজার ৬৯৩টি সোনার বার ও ৬৮টি সোনার চেইন উদ্ধার করা হয়। এই পরিমাণ সোনা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা নেই। ভুয়া মালিক সেজে মামলার মাধ্যমে উদ্ধারকৃত বড় বড় সোনার চালান ছাড় করিয়ে নেয়ার ঘটনাও ঘটছে। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, গত এক বছরেরও বেশি সময়ে রেকর্ড পরিমাণ সোনা, বৈদেশিক মুদ্রাসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দারা। আটক চোরাই পণ্য রাষ্ট্রীয় সম্পদ। পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতেই তদন্তের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য গত সপ্তাহে সাত সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এর আগে শুল্ক গোয়েন্দা সংস্থা চোরাই পণ্য আটকের পুরো প্রক্রিয়াটি তদন্তের সুপারিশ করেছে। এনবি আর চেয়ারম্যানও ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি তদন্তে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। ভারতসহ প্রতিবেশী দেশে সোনা পাচার হচ্ছে কিনা এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মইনুল খান বলেন, ভারতে পাচার হচ্ছে বা প্রতিবেশী দেশে পাচারের জন্যই যে সোনা আসে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে সম্প্রতি ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তে সোনা আটকের বিষয়টি দেখে বোঝা যায়, ভারতে সোনা পাচার হয়। এর আগে মার্চ মাসে কলকাতা থেকে ৪১ কেজি সোনাসহ তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সদস্যকে আটক করে বিএসএফ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে সোনা পাচারের কথা স্বীকার করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মাহফুজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক সোনার কাস্টডিয়ান হিসেবে কাজ করে। এখানে শুধু সোনা জমা রাখা হয়। আর মামলা নিষ্পত্তির পর আদালত নির্দেশ দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ফেরত দেয়া হয়। আর বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিলে রিজার্ভে যোগ করে বাজারে টাকা ছাড়া হয়। তিনি বলেন, গত ৫ বছরেও সোনার কোনো নিলাম হয়নি। কাস্টমসের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০০৯ সালে বিমানবন্দর থেকে ১২ কেজি, ২০১০ সালে ৯ কেজি, ২০১১ সালে ৪ কেজি, ২০১২ সালে ২৪ কেজি, ২০১৩ থেকে ২০১৪ সালের মে পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৮০০ কেজি সোনা আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৩-১৪ সালে বাংলাদেশে আটককৃত ১২৪ কেজি, ১০৭ কেজি এবং ১০৫ কেজির সোনার তিনটি বড় চালান ছিল। ২০১৩ সালের জুলাই মাসে আটক করা হয় ৩৪ কেজি ৩৫০ গ্রাম। আগস্টে ২৬ কেজি ২৮০ গ্রাম। সেপ্টেম্বরে ১৩ কেজি ৯৩০ গ্রাম। অক্টোবরে ৪ কেজি ৫০০ গ্রাম। নভেম্বরে ৪০ কেজি ৭৩০ গ্রাম। ডিসেম্বরে ৩১ কেজি ৭৫০ গ্রাম। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে আটক সোনার পরিমাণ ৬ কেজি ২৭০ গ্রাম। ফেব্রয়ারিতে ৮৮ কেজি ৭৭০ গ্রাম। মে মাসে ২২ কেজি ১২০ গ্রাম এবং জুন মাসে আটক করা হয় ২৩ কেজি ৯০ গ্রাম সোনা। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবছর বিভিন্ন সংস্থা যে পরিমাণ সোনা আটক করছে অবৈধপথে তার ৩-৪ গুণের বেশি সোনা ঢুকছে দেশে। এরপর বিভিন্ন পথে এ সোনা পাচার হচ্ছে ভারতসহ পার্শ^বর্তী বিভিন্ন দেশে। অভিযোগ সীমান্তরক্ষী বাহিনী, কাস্টমস, শুল্ক ও গোয়েন্দা, থানা পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার অসাধু সদস্যদের যোগসাজশে সোনা পাচার হচ্ছে। এছাড়া আটককৃত সোনার বড় বড় চালান সংশ্লিষ্ট গুদাম থেকে চুরি হচ্ছে। সুত্রঃ যুগান্তর। ভুয়া মালিক সেজে মামলার মাধ্যমে শুল্ক বিভাগের গুদাম থেকে সোনা ছাড়িয়ে নেয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে কাস্টমস বিভাগের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা জড়িত। নামে-বেনামে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে লোপাট হচ্ছে বিপুল পরিমাণ সোনা। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের জমা দেয়া সোনার পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)