ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট জুলাই ১১, ২০১৯

ঢাকা শনিবার, ৬ শ্রাবণ, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১৭ জিলক্বদ, ১৪৪০

বহির্বিশ্ব, লিড নিউজ আফগানিস্তানকে শীর্ষ এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

আফগানিস্তানকে শীর্ষ এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

নিরাপদ নিউজ: আফগানিস্তান সরকারের শীর্ষ এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে দেশটিতে তোলপাড় চলছে। তবে সে অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে সরকার। বিবিসি ওয়ার্ল্ডের অনুসন্ধানে যে তথ্য বেরিয়ে এসেছে, তাতে বলা যায়; নারী নির্যাতন বা হয়রানি আফগানিস্তানে সংস্কৃতির (?) অংশ হয়ে উঠেছে। এমনকি উচ্চ শিক্ষিত ও কর্মদক্ষ নারীরাও আফগান পুরুষদের আগ্রাসনের বাইরে থাকতে পারছেন না। মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পদে চাকরি পাওয়া এক নারী যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন সরকারের প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে।

 

ওই নারী পরিচয় গোপন রেখে তার হয়রানির অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, মন্ত্রী তাকে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন। উপায় না দেখে মন্ত্রীর খপ্পর থেকে বাঁচতে নারী কর্মকর্তা চাকরিই ছেড়ে দিয়েছেন। দেশটির সাবেক সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই মন্ত্রী আরো দুজন নারী কর্মকর্তাকে যৌন নির্যাতন করেছেন বলে তাদের কাছে তথ্য আছে। কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা কুণ্ঠাবোধ ছাড়াই নির্বিকারভাবে প্রভাবশালী ওই মন্ত্রী তার এসব কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ওই মন্ত্রী এতোই প্রভাবশালী যে মন্ত্রিসভার এক নারী সদস্য যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।

 

আফগানিস্তানের জাতীয় ঐক্য বিষয়ক মন্ত্রী নারগিস নেহান টুইটারে লিখেছেন: আমি আস্থার সঙ্গে বলতে পারি, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। এ নিয়ে নারী অধিকার কর্মী ফওজিয়া কুফি বলেছেন, বর্তমান সরকারের বেশ কয়েকজন পুরুষ সদস্যের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগের খবর তিনি পেয়েছেন। ফওজিয়া কুফি নিজেও সম্প্রতি এমপি হয়েছেন। বিশ্বে নারীদের বসবাস অযোগ্য দেশগুলোর অন্যতম হচ্ছে আফগানিস্তান। গত কয়েক বছর ধরে এ বিষয়ে র‌্যাংকিংয়ে দেশটি একই অবস্থানে রয়েছে। ২০১৮ সালে জাতিসংঘ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আফগান নারীরা যৌন নির্যাতনের বিষয়ে মুখ খুলতেই ভয় পায়। অভিযোগ প্রকাশ করলেও তা প্রত্যাহার করে নিতে চাপ দেওয়া হয়। এ পরিস্থিতিতে সরকারের প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি বা নির্যাতনের অভিযোগ আনা অত সহজ নয়। কেবল উচ্চ পর্যায়ের পুরুষ নয়, যৌন নির্যাতন আফগানিস্তানে সাধারণ ঘটনায় রূপ নিচ্ছে দিনে দিনে। হয়ে পড়ছে দৈনন্দিন চর্চার অংশ। সে কোনো সেক্টরের যে কোনো পর্যায়ের পুরুষ চেনা-অচেনা নারীর প্রতি যৌন আকাক্সক্ষা প্রকাশে দ্বিধা করে না বলে নির্যাতিত নারীদের অভিযোগ।

 

এসব নারীরা বলছেন, “আপনি কার কাছে অভিযোগ করবেন? কার কাছে বিচার চাইবেন? আপনি যদি কোনো বিচারক, কোনো পুলিশ, কোনো আইনজীবী বা অন্য যে কেউ, যার কাছে আপনি কোনো সহযোগিতা চাইতে যাবেন; তিনিই আপনাকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে যৌন লিপ্সা প্রকাশ করবেন।” সেদেশে নারীরা বলতে বাধ্য হচ্ছেন, যৌন নির্যাতন আফগান পুরুষের সংস্কৃতির (?) অংশ হয়ে পড়েছে। আপনার চারপাশে যে পুরুষকে পাবেন সেই আপনার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক তৈরি করতে চাইবে। এরকম হাজারো নারীর নির্যাতনের কাহিনি অজানাই থেকে যায়। গত মে মাসে আফগান প্রেসিডেন্টের সাবেক উপদেষ্টা হাবিবুল্লাহ আহমদজাই এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, দেশটির রাজনীতিবিদরা পতিতাবৃত্তিকে উৎসাহিত করছে। যদিও আফগান সরকারের এ নিয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে আহমজাই’র দাবির পর প্রেসিডেন্টের অফিস থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, ওসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

 

ব্যক্তিগত আকাক্সক্ষা চরিতার্থ করতে আহমদজা ওরকম অভিযোগ করেছেন। নারীদের অভিযোগ, সরকার রাজনৈতিক বিষয়ে যত আগ্রহী, নারী নির্যাতন বন্ধে ততোটা নয়। ধর্ষকামী পুরুষরা এমন সরকারেই নিজেদের নিরাপদ মনে করে। সরকারের অবস্থানের কারণেই পুরুষরা বরং যৌন নির্যাতনে আগ্রহী হয়। মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

ওই কমিটির প্রধান সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল। অ্যাটর্নির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সংবিধানমতে অ্যাটর্নি জেনারেল স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন। এ দপ্তরের প্রতি জনগণ আস্থা রাখতে পারে। কারণ যেকোন অভিযোগ নিয়ে এই দপ্তর নিরপেক্ষভাবে কাজ করে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)