আপডেট ৩৯ মিনিট ৭ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ৯ রবিউস-সানি, ১৪৪১

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস, নিসচা সংবাদ, বিনোদন, লিড নিউজ, সাক্ষাৎকার আমাদের লক্ষ্য একটি মানুষও যাতে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা না যায়: ইলিয়াস কাঞ্চন

আমাদের লক্ষ্য একটি মানুষও যাতে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা না যায়: ইলিয়াস কাঞ্চন

নিরাপদনিউজ : ‘জীবনের আগে জীবিকা নয়, সড়ক দুর্ঘটনা আর নয়’ এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে চলছে নিরাপদ সড়ক চাই কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে মাসব্যাপী সচেতনতামুলক কর্মসূচি। ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০১৯ এবং জাহানারা কাঞ্চনের ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষে শুরু হয়েছে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের মাসব্যাপী কর্মসূচি। চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনকে বর্তমান সময়ে প্রায় প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে দেখা যাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশের ভুমিকায়। নিয়মিত তিনি তার নিজস্ব ফেসবুক লাইভেও আসছেন সেসব কার্যক্রম তার ফলোয়ারদের দেখিয়ে সবার মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইলিয়াস কাঞ্চনের এসব কার্যক্রমের ছবি এখন ভাইরাল। অভিনয়ের পাশাপাশি ইলিয়াস কাঞ্চন দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে জড়িত ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের সঙ্গে। আগামী ২২ অক্টোবর ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক চাই’ দিবস। সম্প্রতি এসব সমসাময়িক নানা বিষয়ে তার সঙ্গে কথা হয় গনমাধ্যমের। তাঁর দেয়া সাক্ষাৎকারের কিছু বিশেষ অংশ পাঠকদের জন্য আজ তুলে ধরা হলো।

নিরাপদ সড়ক চাই দিবসে প্রতিবারই নতুন স্লোগান থাকে, এবারের স্লোগান কী?

২২ অক্টোবর আমার স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। তার মৃত্যুর শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করেই ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন শুরু করেছিলাম। এবারের স্লোগান ‘জীবনের আগে জীবিকা নয়, সড়ক দুর্ঘটনা আর নয়’। এর আগে ছিল ‘পথ যেন হয় শান্তির, মৃত্যুর নয়’; ‘আইন মেনে চলব, নিরাপদ সড়ক গড়ব’; ‘সাবধানে চালাব গাড়ি, নিরাপদে ফিরব বাড়ি’ ইত্যাদি।

ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণের ব্যাপারে আপনি সব সময় জোর দিয়ে আসছেন…

দেশের ড্রাইভাররা অনেক কিছুই জানে না বলে দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণের প্রকল্পটা হাতে নিয়েছে সরকার। যারা আগে থেকে চালাচ্ছে তাদের ২৪ দিন আর বাকিদের ১৪ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাস করলে তাদের ট্রেনিং দেওয়া হবে। নভেম্বর থেকে শুরু হবে এই কার্যক্রম। এখানে ৬০ শতাংশ কাজ করবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ৪০ শতাংশ করব আমরা আর বিআরটিসি। এই উদ্যোগে আশা করি সড়ক দুর্ঘটনা কমবে।

আগের তুলনায় রোড অ্যাক্সিডেন্ট কমেছে বলে মনে করেন?

২৬ বছর আগে আমার স্ত্রী মারা যায়। তখন বাংলাদেশের মানুষ ছিল সাড়ে ১০ কোটি। গাড়ি কম, রাস্তা কম। এই ২৬ বছরে জনসংখ্যা বেড়েছে। তখন বছরে মানুষ মারা যেত ১৫ হাজার। পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী এখন প্রতি বছর সাড়ে ৫ হাজার লোক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে। জনসংখ্যা ও গাড়ির সংখ্যা বাড়ার পরও দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কমে গেছে। তবে আমাদের লক্ষ্য একটি মানুষও যাতে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা না যায়।

দুর্ঘটনা এড়াতে কোন বিষয়ে সবচেয়ে জোর দেওয়া দরকার?

ব্যক্তিগতভাবে ট্রাফিক আইন যথাযথ মেনে চলা, সতর্ক হয়ে চালান, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা না বলা। আর রেডিও, টিভির মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা সরকারের দায়িত্ব। স্কুল, কলেজ কর্তৃপক্ষকেও দায়িত্ব নিতে হবে।

নিরাপদ সড়কের জন্য নতুন কোনো পদক্ষেপের কথা জানাবেন কি?

পুরনো বাস বদলে নতুন বাস দেওয়ার একটা উদ্যোগ নিয়েছিলেন মেয়র আনিসুল হক। মূলত যানজট দূর করার জন্য। একেক বাসের একেক মালিক। সবার উদ্দেশ্য যাত্রী ভরা। কে কার আগে কত লোক নেবে। তাই মেয়র সাহেবের ইচ্ছা ছিল সব বাসকে এক কোম্পানির আওতাধীন নিয়ে আসা। একই কোম্পানির গাড়ি হলে বাস ড্রাইভাররা আর আগে আগে লোক নেওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করবে না। বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকন এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)