ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৫৫ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ৭ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ২২ মুহাররম, ১৪৪১

ভ্রমন, মতামত আমি যখন ‘নায়ক’

আমি যখন ‘নায়ক’

শফিক আহমেদ সাজীব,নিরাপদ নিউজ :  ভারতের রাজস্থান রাজ্যের রাজধানী জয়পুরের আম্বর ফোর্ট ভ্রমণের দিন। সকাল ১০টা। আমাকে দেখে অটোগ্রাফ নেওয়ার জন্য ছাত্রছাত্রীদের সে কী ভিড়! এ বলে আমাকে, ও বলে আমাকে অটোগ্রাফ দিন। আমি কেন জানি সমানে অটোগ্রাফ দিয়ে যাচ্ছি।

এক পর্যায়ে মনে হলো, আমি তো এসব ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে গত দুই দিন ধরে আছি। কিন্তু আজ কেন ওরা আমার অটোগ্রাফ নিচ্ছে? এ ভেবে আমি অনেকটা অবাক হলাম। পরে জানলাম, ওরা আমাকে মনে করেছিল আমি জনপ্রিয় চিত্রনায়ক, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পুরোধা ইলিয়াস কাঞ্চন!

কিন্তু কে তাদের বোঝাবে যে, আমি ইলিয়াস কাঞ্চন নই। ওই সময় ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি ভ্রমণে আসা কিছু পর্যটকও আমার অটোগ্রাফ নিতে চান। তবে নিজেকে অনেক গর্বিত মনে হলো এ জন্য যে, আমি ইলিয়াস কাঞ্চন না হলেও তাঁরই তো ভক্ত-শিষ্য।

প্রিয় অভিভাবক নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের অটোগ্রাফ দেওয়ার দৃশ্য অনেকবার দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। কিন্তু কোনো সময় আমি তাঁর হয়ে অটোগ্রাফ দেব তা স্বপ্নেও ভাবিনি। অথচ আজ আমি ‘স্বপ্নের নায়ক’।

আমার অটোগ্রাফ নিতে হুমড়ি খেয়ে পড়ার বিষয়টি উপস্থিত সবাইকে যখন বোঝাতে পারলাম তখন সবাই এক সঙ্গে হেসে উঠলো। আমাকে সম্মান করে কেউ কিছু না বলে সবাই ধীরে ধীরে সরে পড়ল।

আসল ঘটনা হলো সড়ক নিরাপত্তা সপ্তাহের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আমি ও বাংলাদেশ জাতীয় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট-চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চলীয় সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ভারত সফরে যাই সম্প্রতি। সফরের অংশ হিসেবে জয়পুর পাবলিক স্কুল ও হিন্দুস্তান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং জয়পুর ন্যাশনাল কলেজের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর সবাই একসঙ্গে আম্বর ফোর্টে হাতির পাল দেখতে যাই।

তখন জয়পুর ন্যাশনাল কলেজের অধ্যাপক সত্যেন্দ্রনাথ সবার উদ্দেশে ইংরেজি ভাষায় বক্তব্য দেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘‘বাংলাদেশের রূপালি পর্দার নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রীকে হারিয়ে শোককে শক্তিতে পরিণত করে সড়কের শান্তি কামনায় ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন গড়ে তোলেন। যে আন্দোলনে বাংলাদেশ সরকার ও সাধারণ মানুষ সমর্থন দিয়েছেন এবং সরকার তাঁকে একুশে পদকও দিয়েছেন। আমরা আজ তাঁর প্রতিনিধি শফিক আহমেদ সাজীবকে আমাদের মাঝে পেয়েছি। এটি আমাদের জন্য অনেক আনন্দের বিষয়। আমরা জনাব শফিক আহমেদ সাজীবকে ধন্যবাদ জানাই আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে আমাদের ধন্য করেছেন। ব্যস্ততার মাঝেও তিনি আমাদের অনেক সময় দিয়েছেন। এ আন্দোলনে নিজেদের উৎসর্গ করার জন্য তাঁর প্রতি রইল কৃতজ্ঞতা। তিনিও একজন ‘সুপারস্টার’ আমাদের জন্য।’’

তাঁর বক্তব্য শেষ হতে না হতেই উপস্থিত ছাত্রছাত্রীরা আমার অটোগ্রাফ নিতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এ ঘটনা আমার আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমি গর্বিত এবং আমার জীবন সার্থক নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে যুক্ত হয়ে। যদিও বা আমি কোনোদিন কিছু পাওয়ার আশায় কিছু করিনি। নিঃস্বার্থভাবে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনে অংশ নিয়েছি এবং শ্রম দিয়েছি। নিঃস্বার্থভাবে যেকোনো কিছু করলে আল্লাহতা’য়ালা নিশ্চয় কোনো না কোনো উপহার দেন। যা আপনি কখনো ভাবেননি। হয়তো বা ভারতের ঘটনাটিও আমার উপহার।

আসুন, আমরা নিঃস্বার্থভাবে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের জন্য কাজ করে জনাব ইলিয়াস কাঞ্চনের হাতকে শক্তিশালী করি। শোককে শক্তিতে রুপান্তর করি।

লেখক : শফিক আহমেদ সাজীব, সাধারণ সম্পাদক, নিরাপদ সড়ক চাই, চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)