ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ডিসেম্বর ১, ২০১৪

ঢাকা রবিবার, ৭ শ্রাবণ, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১৮ জিলক্বদ, ১৪৪০

প্রবাসী সংবাদ আমেরিকায় উৎযাপিত হলো থ্যাংকস গিভিংডে’র বর্ণাঢ্য প্যারেড

আমেরিকায় উৎযাপিত হলো থ্যাংকস গিভিংডে’র বর্ণাঢ্য প্যারেড

thanks giving day 1

ঢাকা, ০১ ডিসেম্বর ২০১৪, নিরাপদনিউজ : আমেরিকায় প্রতিবারের মতোই এবারও উৎযাপিত হলো ওয়ার্ল্ড ফ্যামাস ডিপার্টমেন্টাল স্টোর মেসিস’র ৮৮তম থ্যাংকস গিভিংডে’র বর্ণাঢ্য প্যারেড। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এ প্যারেডে অংশ নেয়ার জন্য অনেকেই মধ্য রাত্রি খেকে জড়ো হতে থাকে প্যারেড স্হানে ৭৭ স্ট্রীট থেকে ৩৪ স্ট্রীট আর সিক্স এভেনিউর উপর। সকাল ৯টায় এ প্যরেড শুরু হয় ৭৭নং স্ট্রীট থেকে সিক্স এভেনিউর উপর থেকে। ম্যানহারটনের সিক্স এভেনিউর উপর রাস্তায় মার্চ করে এই প্যরেড শেষ হয় হেরাল্ড স্কয়ারে ৩৪নং স্ট্রীট মেসিস’র সামনে। এখানে এসে কিছুক্ষন বিভিন্ন মহারা দেখায়। প্রচন্ড শীতকে উপেক্ষা করে এই বছর এই প্যরেডে প্রায় সাড়ে ৩ মিলিয়ন লোকের সমাগম ঘটে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এবং আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা প্রচুর পরিমান টুরিষ্টরা এই প্যারেড দেখতে এসেছিলো।
টার্কি, কর্নেকোপিয়া, পামকিন, সান্তা ক্লসসহ প্রায় ২৪টি কার্টুন চরিত্র স্পাইডার ম্যান, ডোড়া, স্পন্জপাপ, টিনেজ মিউটন নিন্জা টারটেল, ডাইরী দ্যা উইম্পি কিডস, হ্যালো কিটি, মিকি মাউস, কুংফু পান্ডা, পল ফ্রেংক, মিনিয়েম, এডভেনচার টাইম, কেডিফিলার, টমাস দ্যা ট্রেন, সুন্পী ইত্যাদি চরিত্রের বেলুন ছিল এই বারের প্যারেডের অন্যতম আকর্ষন। আমেরিকার অনেক বিখ্যাত্ সেলিব্রেটিদের উপস্হিতি ছিলো মেসিস এর থ্যাংকস গিভিং প্যারেডের মূল আকর্ষন। উপস্হিত হয়েছিলো মেগেন ট্রেইনার, নিক জোনাস, লুসী হেল, জিনি সাইমন, সাবরিনা কারপেন্টার, ব্যাকি জি প্রমুখ শিল্পীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের ফার্গুসন শহরে নিরস্ত্র এক কৃষাঙ্গ কিশোরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত না করার সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে তীব্র গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছে। হাজার হাজার লোক গ্র্যান্ড জুরির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানাতে রাস্তায় নেমে এসেছে। এই ঘঠনার বিরুদ্ধে প্যারেড শুরু হওয়ার ১৫ মনিট পরে সিক্সথ এভিনিউ এন্ড ৩৭ স্রীটের মাঝে হঠৎ করে একদল বিক্ষোভকারী ঢুকে পরে গ্র্যান্ড জুরির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানাতে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ নীল ফিতা দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয় এবং টিয়ার গ্যাস ছুড়ে। সাময়িক ভাবে কিছুক্ষনের জন্য প্যারেড থামিয়ে রাখা হয়। পরে পুলিশ ৬ জনকে গ্রেফতার করে।
১৮১৭ সালে নিউইয়র্কে সর্ব প্রথম ‘থ্যাংকস গিভিং ডে’ অফিসিয়ালি সরকারি ছুটির দিন হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এর পর ১৮২৭ সালে বিখ্যাত নার্সারি রাইম ‘মেরি হ্যাড আ লিটল ল্যাম্ব’ রচয়িতা সারাহ যোসেফা উদ্যোগ নেন, যেন ‘থ্যাংকস গিভিং ডে’-কে জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ ৩৬ বছর তিনি একটানা প্রচারাভিযান চালান থ্যাংকস গিভিং ডের পক্ষে। শেষ পর্যন্ত ১৮৬৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন সারাহ যোসেফের আবেদন গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেন এবং নভেম্বর মাসের শেষ বৃহস্পতিবারকে ‘থ্যাংকস গিভিং ডে’ হিসেবে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা দেন।
১৯৩৯ সাল পর্যন্ত এভাবেই পালিত হচ্ছিল থ্যাংকস গিভিং ডে। কিন্তু ১৯৩৯ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট তখনকার অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে ওঠার লক্ষে এ ছুটি এক সপ্তাহ এগিয়ে আনার ঘোষণা দেন এবং এরপর থেকে নভেম্বর মাসের চতুর্থ বৃহস্পতিবার ‘থ্যাংকস গিভিং ডে’ পালিত হয়। ‘থ্যাংকস গিভিং ডে’র ঠিক পরের দিনটি হচ্ছে আমেরিকার আরো একটি ব্যতিক্রমী দিবস। যাকে বলা হয় ব্ল্যাক ফ্রাইডে।
টানা চার দিনের ছুটি পেয়ে সকলেই ছুটছে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিকটজনের সাথে দেখা করতে। আকাশ ও সড়ক পথে যাত্রীদের প্রচন্ড ভিড় থাকে। প্রতিবারের চেয়ে এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিরাও ঘরে বসে নেই। পালন করেছে এই বিশেষ দিনটি। নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, পেনসেলভানিয়া, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটসসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি ও মুসলমান মালিকানাধীন গ্রোসারির দোকানগুলোতে প্রচুর পরিমানে হালাল টার্কি সংগ্রহ করা হয়েছে। গত তিন দিন ধরে উক্ত দোকানগুলোতে দেদারছে চলছে হালাল টার্কির বেচাকেনা। মুলধারার অন্যসব উৎসবের তুলনায় ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সার্বজনীন এই থ্যাংকস গিভিং উৎসবই অন্যান্য জাতি সত্তার মত বাংলাদেশী কমিউনিটিতে একটি আনন্দ মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)