ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ২৪ সেকেন্ড

ঢাকা সোমবার, ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২০ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

সম্পাদকীয় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশু নির্যাতন: দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন অপরাধীদের

আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশু নির্যাতন: দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন অপরাধীদের

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

নিরাপদনিউজ : দেশে সাম্প্রতিককালে শিশু নির্যাতন বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। সর্বশেষ হবিগঞ্জে বাহুবল উপজেলায় পাঁচদিন আগে নিখোঁজ ৪ শিশুর লাশ বিল এলাকা থেকে মাটিচাপা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের বাড়ির পাশে মাঠে খেলতে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয় এই চার শিশু। গাজীপুরে ঋণের টাকার জামিনদার না হওয়ায় ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীর ৪ বছরের শিশু পুত্রকে হত্যা করে এক সেলুন মালিক।

রবিবার রাজধানীর ডেমরায় ১০ বছরের এক শিশুকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি সোমবার গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় অপহরণের পর এক শিশুকে মুক্তিপণ না পেয়ে হত্যার খবর আছে। এর বাইরেও প্রায় প্রতিদিনই ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্টিং মিডিয়ায় শিশুহত্যা ও নির্যাতনের খবরা-খবর স্থান পায়।
সাম্প্রতিককালে সংঘটিত সিলেটের শিশু রাজন হত্যা এবং খুলনায় রাকিব হত্যা বহুল আলোচিত ঘটনা, যা দেশব্যাপী রীতিমতো আলোড়ন তোলে। সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে প্রবল ক্ষোভ ও ঘৃণা। গণমাধ্যমের চাপে পড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ দুটো ঘটনায় দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে চার্জশীট দিতে সক্ষম হয়। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার সম্পন্ন হওয়ায় এ দুটো ক্ষেত্রেই অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া সম্ভব হয়।

সঙ্গত কারণেই আশা করা গিয়েছিল যে, এর ফলে জনমনে কিছুটা হলেও স্বস্তি আসবে এবং শিশু নির্যাতনকারীরা আইনের শাসনের ভয়ে তটস্থ থাকবে। বাস্তবে আদৌ এর কোন প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না, এটা দুঃখজনক।
পৃথিবীকে যা কিছু সুন্দর ও বাসোপযোগী করে তোলে, তার মধ্যে মা ও শিশু অন্যতম। সেই মা ও শিশুই যখন কারণে-অকারণে সময়ে-অসময়ে নির্যাতন, হত্যা ও জুলুমের শিকার হয় তখন তা অবশ্যই নিন্দনীয়। আমাদের দেশে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন নিঃসন্দেহে আন্তরিক ও নিবিড়।

সত্য বটে দেশের আর্থ-সামাজিক সমস্যা-সঙ্কট ও আর্থিক টানাপোড়েনে সর্বদাই এ বন্ধনটুকু ধরে রাখা যাচ্ছে না। সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধেও কেন যেন অবক্ষয় ও ভাঙ্গন ধরতে শুরু করেছে। সমাজবিজ্ঞানীদের উচিত এর যথার্থ কারণ ও প্রতিকার খুঁজে বের করা। কেননা, শিশুর সঙ্গে কারও দ্বন্দ্ব-সংঘাত থাকে না।
দেশে গত কয়েক বছরে শিক্ষার হার বেড়েছে আশাব্যঞ্জক হারে। সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে দেশের সব শিশুকে প্রাথমিক বিদ্যালয়মুখী করার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে যা সম্পূর্ণ অবৈতনিক ও বিনামূল্যের বইয়ের আওতায় পরিচালিত। অনগ্রসর অঞ্চলে স্কুলে ধরে রাখার লক্ষ্যে শিশুদের জন্য মিড-ডে মিলেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিশুশিক্ষা ও কল্যাণের জন্য এসবই নিঃসন্দেহে ভাল উদ্যোগ। তবে সব ভাল উদ্যোগই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে যদি না সর্বস্তরে সচেতনতা আসে। শিশুদের প্রতি মা-বাবার যেমন কর্তব্য আছে, তেমনি আছে তার আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীর। তাদের মধ্যে সবাই শিশুদের প্রতি সদয় হবে এমন ভাবা ঠিক নয়।

সমাজে ভাল মানুষের পাশাপাশি দুর্বৃত্ত ও দুরাচার থাকবেই। বর্তমান সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় নানা অবক্ষয়ের মধ্যে অমানবিকতা ও পাশবিকতার বিষয়টি লক্ষণীয়। তা না হলে সামান্য একটি মোবাইল চুরির মিথ্যা অপবাদে একদল বয়স্ক লোক শিশুকে বেধড়ক পেটাবে কেন!

আর কেনইবা আত্মীয়তার বন্ধন থাকা সত্ত্বেও শিশুকে অপহরণ করেই শুধু ক্ষান্ত হবে না, মুক্তিপণ পাওয়ার পর মেরে ফেলবে। সার্বিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরী হয়ে পড়েছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)