ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট অক্টোবর ৭, ২০১৯

ঢাকা বুধবার, ৯ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২৪ সফর, ১৪৪১

শিল্প-সংস্কৃতি আয়নাঘরে স্বাগতম

আয়নাঘরে স্বাগতম

রেজানুর রহমান, নিরাপদ নিউজ: বলতে গেলে একটানা ১৫ বছর পর মঞ্চে অভিনয়ে ফিরছি। নাটকের নাম আয়নাঘর। নাটকটি আমারই লেখা। আমাদের নাটকের দল ‘এথিক’ থেকে নাটকটি নির্দেশনারও দায়িত্ব পেয়েছি। আয়নাঘর নিয়ে অনেক চমক আছে। আস্তে আস্তে তা প্রকাশ করবো। তবে আনন্দের খবর আজ থেকে আমার ফেসবুক বন্ধুদের জন্য নতুন একটি লেখা শুরু করলাম। নাম ‘আয়নাঘর’। ধারাবাহিক এই লেখাটি নিয়মিত প্রকাশ হবে। আজ প্রকাশ হলো চুতর্থ কিস্তি-
চার.
আমিন সরকার। আমার মায়ের আপন চাচাত ভাই। তুখোর মেধাবী ছাত্র। ৬০ দশকের কথা বলছি। তখনকার দিনে আজকের দিনের মতো ঘরে ঘরে এমন মেধাবী ছেলে-মেয়ে ছিল না। অবশ্য আজকের দিনের অনেক মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। ঢাকা শহরের একটি স্কুলের ৫ম শ্রেণীর ফাস্ট বয়কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, বাবা বলোতো ১৯৭১ সাল কি জন্য গুরুত্বপুর্ণ? আমার প্রশ্ন শুনে সে যেন একটু হোচট খেলো। পরক্ষণেই সামলে নিয়ে বলল, না মানে, ইয়ে, ১৯৭১ সাল গন্ডগোলের বছর, তাকে থামিয়ে দিয়েছিলাম। বুঝিয়ে বলেছিলাম, বাবা ৭১ সাল মোটেই গন্ডগোলের বছর নয়। ৭১ সাল আমাদের দেশের মহান স্বাধীনতার বছর। খবরদার, এখন থেকে ’৭১ সালকে আর গন্ডগোলের বছর বলবে না। কী মনে থাকবে?
ছেলেটি আমার কথা শুনে আবারও যেন হোচট খেলো। পরক্ষণেই আগের মতো নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, কিন্তু আংকেল আমার আব্বু যে বরে ৭১ সাল গন্ডগোলের বছর। কোনটা সত্য? আপনি যা বলছেন সেটা, নাকি আব্বু যা বলছে সেটা?
তাকে আবার বুঝিয়ে বলেছিলাম, বাবা আমার কথাটাই সত্যি। ৭১ সালে গন্ডগোল নয় আমাদের দেশে স্বাধীনতা সংগ্রাম হয়েছে। একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর আমাদের দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। কাজেই ৭১ কে গন্ডগোলের বছর বলো না বাবা। গর্বে বুক ফুলিয়ে বলবে মহান ৭১ আমাদের স্বাধীনতার বছর।
ছেলেটি আমার কথা শেষ পর্যন্ত বুঝেছিল কিনা জানিনা। কারণ কোনো কথায় কেউ আনন্দ বা স্বস্থি পেলে সেটা তার মুখ দেখেই বোঝা যায়। মুখই তো মানুষের মনের আয়না। সে জন্য আমরা প্রিয়জনের মুখ দেখেই বুঝতে পারি সে সুখে আছে না দুঃখে আছে? বিশেষ করে মা-বাবা সহজেই ব্যাপারটা ধরতে পারেন। সন্তানের মুখ দেখেই বুঝে নেন সন্তান ভালো আছে নাকি মন্দ আছে। শুধু কি মুখ দেখে প্রিয়জনের ভালো মন্দ বোঝা যায়? কণ্ঠ শুনেই প্রিয়জনের ভালো মন্দ বোঝা যায়।
মোবাইল সংস্কৃতি চালু হওয়ায় এখন তো মন চাইলেই যে কাউকেই যখন তখন ফোন দেয়া যায়। মন খারাপ থাকলেই ঢাকা থেকে সৈয়দপুরে আমার মাকে ফোন দেই। প্রথমে চেষ্টা করি মা যেন বুঝতে না পারেন আমার মন খারাপ। তবুও মা বুঝতে পারেন। ফোন ধরেই উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন- বাবা তোর কি মন খারাপ? তখন কান্না লুকাতে পারি না। একটা বয়সে পরিবারের প্রবীণ সদস্যরা বোধকরি চরম ভাবে একা হয়ে যায়। স্ত্রী, সন্তান কেউই খুব একটা কাছে থাকার প্রয়োজন মনে করে না। করবে কি করে? সবাই তো ব্যস্ত। আমার বেলায়ও বোধকরি সে রকমই কিছু ঘটছে? মাঝে মাঝে প্রচন্ড একা মনে হয়? আজই ফেসবুকে আমার এক শুভাকাঙ্খীর জন্মদিনের অনেকগুলো ছবি দেখলাম। নতুন বন্ধুরা তাকে নিয়ে অনেক হইচই, আনন্দ করছে। সেখানে আমি নাই। অথচ এক সময় আমিও তার অনেক আপন ছিলাম। সময়টা কি জন্য দায়ী? তাহলে বোধকরি আমি সময়ের জন্য জরুরি হয়ে উঠতে পারিনি। যারা আমার এই লেখা পড়ছেন তারা একটু সচেতন থাকবেন আশাকরি। চলার পথে আপনার অনেক বন্ধু হবে। কিন্তু সবাই আপনার সাথে শেষ পর্যন্ত যাবে না। কাজেই বন্ধুকে উজার করে কিছু দেয়ার আগে ভেবে নিবেন তার কাছ থেকে ভবিষ্যতে প্রতিদান পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এটা ভেবে যদি আপনি বন্ধুকে সহায়তা করেন তাহলে ভবিষ্যৎ জীবনে কষ্ট কম পাবেন।
ও হ্যা, যে কথা বলছিলাম, আমার মামা আমিন সরকার এতোটাই ভালো ছাত্র ছিলেন যে আশে-পাশের বাড়ির উঠতি বয়সী মেয়েরা তো বটেই দূর গ্রামের সুন্দরী মেয়েরাও তার সাথে প্রেম করার জন্য উঠে পড়ে লেগে গেল। মামা বাড়ির পাশেই ছিল (এখনও আছে) একজন ডাক্তারের বাড়ি। ৬০ দশকেই ওই ডাক্তারের ছেলে-মেয়েরা আধুনিক জীবন যাপন করতেন। গান-বাজনা, নাটক, সিনেমার প্রতি ওই পরিবারের সকলেরই ঝোক ছিল বেশী। ওই পরিবারেই একটি মেয়ে। ডাক নাম বেগম। সুন্দরী। সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাওয়া আসা করে। ষাট এর দশকে গ্রামের একটি মেয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় সাইকেল চালায়। চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। এনিয়ে অবশ্য গ্রামের মুরুব্বীরা অনেক ক্ষুব্দ। ডাক্তার এবং তার পরিবারের প্রতি তারা নাখোশ। আমিন মামার বাবা আরও বেশি নাখোশ। অথচ আমিন মামার সাথেই পাশের বাড়ির সুন্দরী বেগমের প্রেম হয়ে গেল।
(চলবে)

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)