ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট অক্টোবর ১২, ২০১৯

ঢাকা সোমবার, ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৯ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

শিল্প-সংস্কৃতি আয়নাঘরে স্বাগতম

আয়নাঘরে স্বাগতম

রেজানুর রহমান, নিরপদ নিউজ: বলতে গেলে একটানা ১৫ বছর পর মঞ্চে অভিনয়ে ফিরছি। নাটকের নাম আয়নাঘর। নাটকটি আমারই লেখা। আমাদের নাটকের দল ‘এথিক’ থেকে নাটকটি নির্দেশনারও দায়িত্ব পেয়েছি। আয়নাঘর নিয়ে অনেক চমক আছে। আস্তে আস্তে তা প্রকাশ করবো। তবে আনন্দের খবর আজ থেকে আমার ফেসবুক বন্ধুদের জন্য নতুন একটি লেখা শুরু করলাম। নাম ‘আয়নাঘর’। ধারাবাহিক এই লেখাটি নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে। আজ প্রকাশ হলো পঞ্চম কিস্তি….
পাঁচ
আমিন মামা খুবই ভালো মানুষ। কত কি যে জানেন? অংক, ইংরেজিতে খুবই পটু। ফটাফট ইংরেজিতে কথা বলেন। সে কারণে আমিন মামাকে আমি আইডল ভেবে ফেললাম। তার মানে হতে চাই আমিন মামার মতো। আমিন মামা কোনো একটা কাজ দিলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করে ফেলতাম। আমিন মামা কিসে খুশি হবেন সেদিকেই আমার নজর ছিল বেশি। আমার মায়ের সাথে আমিন মামার খুব ভাব ছিল। মাকে ডাকতেন ‘বুবু’ বলে। কথা প্রসঙ্গে একদিন মা’ই আমিন মামাকে বললেন, ভাই, তুই কি আমার ছেলেটাকে একটু পড়াশুনা দেখিয়ে দিবি…
আমিন মামা গর্বের ভঙ্গিতে বললেন, আপনি কোনো চিন্তা করবেন বুবু। আজ থেকে দুদুর (আমার ডাক নাম) দায়িত্ব আমার।
পরের দিন থেকে আমিন মামা আমার শিক্ষক হয়ে উঠলেন। প্রতিদিন ৫টি করে নতুন ইংরেজি শব্দ শিখতে হবে। প্রতিদিন ৫টি করে হলে মাসে ১৫০টি ইংরেজি শব্দ শেখা হয়ে যাবে। কিন্তু আমার কাছে ব্যাপারটা খুব সহজ মনে হলো না। প্রথম দিনেই পরীক্ষায় ফেল করলাম। মানবদেহের বিভিন্ন অংশের ইংরেজি নাম শেখা দিয়েই পরীক্ষাটা শুরু হয়েছিল। প্রথম দিনে জিহ্বার ইংরেজি শব্দটা বলতে পারিনি। মামা বিরক্ত হয়ে বললেন, তোকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না। শাস্তি স্বরূপ পরের দিনের জন্য আরও নতুন ৫টি শব্দ জুড়ে দিলেন। অর্থাৎ পরের দিন ১০টি নতুন শব্দ শিখতে হবে।
মামার ওপর হঠাৎ আমি বিরক্ত হয়ে উঠলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম তার কাছে ইংরেজি শিখব না। কিন্তু রাতে ঘুমাতে যাবার আগে হঠাৎ কেন যেন মনে হলো মামা তো আমার ভালোর জন্যই ইংরেজি শেখাচ্ছেন। প্রতিদিন যদি ৫টি করে ইংরেজি শব্দ শিখতে পারি তাহলে মাসে ১৫০টি, বছরে ১৮শ ইংরেজি শব্দ শেখা যাবে। তখনকার দিনে বিজলীবাতি ছিল না। হ্যারিকেনের আলোয় লেখাপড়া করতে হতো। রাতে নানীর সাথে ঘুমাতাম। হঠাৎ তাকে বললাম লণ্ঠন জ্বালাও। আমি পড়ব।
নানীতো অবাক। এতো রাতে কি পড়বি? ঘুমা। সকালে পড়িস।
আমার জোড়াজুড়িতে নানী লণ্ঠন জ্বালিয়ে দিলেন।
মানবদেহ নিয়েই খটমটে ১০টি ইংরেজি শব্দ বানান সহ মুখস্থ করলাম।
পরের দিন দেখি মামা আমাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তার সামনে দিয়ে যাই, ঘুরঘুর করি। তবুও তার কোনো রিয়াকশন নাই। মনে হলো মামা বড়ই দুশ্চিন্তায় আছেন।
সাহস করে মামাকে বললাম, আজ ভুল হবে না। ১০টি শব্দই মুখস্থ হয়ে গেছে। বলব?
মামা হঠাৎ ব্যস্ত হয়ে বললেন, বাবা অভিনয় করতে পারবি?
অবাক হয়ে বললাম- অভিনয়?
মামা বললেন, হ্যা অভিনয়… তুই এক্ষুনি ডাক্তার বাড়ি যাবি….
ডাক্তার বাড়ির নাম শুনে আমি বেশ আগ্রহী হয়ে উঠলাম। কারণ ওই বাড়ির প্রতি আমারও একটা টান দেখা দিয়েছে। বাড়ির মানুষগুলো অনেক আধুনিক। গ্রামীণ ভাষায় কেউই কথা বলে না। ‘আমি তুমি, সে…’ এই ভাষায় পরিবারের সবাই কথা বলে। ভারী মিষ্টি লাগে বাড়িটির পরিবেশ। ওই বাড়ির ঘর দোরও বেশ পরিস্কার। আমরা নিমের দাতন দিয়ে দাঁত মাঝি। ওই বাড়ির লোকজন টুথপেস্ট ব্যবহার করে। একদিন সকালে কি কাজে যেন ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম। দেখি কি… বারান্দায় বসে একটি ছোট্ট মেয়ে টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত মাজছে। মুখে কি সুন্দর সাদা সাদা ফেনা উঠেছে। ফেনা মুখে মেয়েটিকে অপূর্ব লাগছিল…
(চলবে)

 

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)