ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২২ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

শিল্প-সংস্কৃতি আয়নাঘরে স্বাগতম

আয়নাঘরে স্বাগতম

রেজানুর রহমান, নিরাপদ নিউজ: বলতে গেলে একটানা ১৫ বছর পর মঞ্চে অভিনয়ে ফিরছি। নাটকের নাম আয়নাঘর। নাটকটি আমারই লেখা। আমাদের নাটকের দল ‘এথিক’ থেকে নাটকটি নির্দেশনারও দায়িত্ব পেয়েছি। আয়নাঘর নিয়ে অনেক চমক আছে। আস্তে আস্তে তা প্রকাশ করবো। তবে আনন্দের খবর আজ থেকে আমার ফেসবুক বন্ধুদের জন্য নতুন একটি লেখা শুরু করলাম। নাম ‘আয়নাঘর’। ধারাবাহিক এই লেখাটি নিয়মিত প্রকাশ হবে। আজ প্রকাশ হলো প্রথম অংশ-
এক.
এতো কিছু থাকতে মঞ্চ নাটকের প্রতি কেন আকৃষ্ট হলাম সেটাই আগে বলি। ছোট বেলার কথা। সৈয়দপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন সাবর্ডিনেট কলোনী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণীতে পড়ি। আমার বাবা ওই স্কুলের একজন শিক্ষক। অনেকেই তাকে খেলারস্যার বলে চিনেন। আবার অনেকে মন্ডল স্যার বলেও জানেন। তখনও দেশ স্বাধীন হয়নি। সৈয়দপুর শহরটা মূলত অবাঙ্গালীদের নেতৃত্বেই পরিচালিত হতো। সে কারণে শহরের বাংলাভাষাভাষি মানুষেরা একটু কোণঠাসা ছিল। শহরের মর্তুজা ইনসটিটিউট নামের একটি মিলনায়তনে নিয়মিত মঞ্চ নাটক হতো। সেই নাটকের টিকিট পাওয়াও ছিল দুস্কর। সৈয়দপুর শিল্পসাহিত্য সংসদ নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন সেই সময় শহরের বাঙ্গালীদের সাংস্কৃতিক জাগরনের কেন্দ্র বিন্দু হয়ে উঠেছিল। শিল্পসাহিত্য সংসদ নিয়মিত ভাবে বাৎসরিক মঞ্চ নাটক করতো। আমার বাবা মরহুম নূর বকস মন্ডল ছিলেন মঞ্চপাগল একজন নাট্যকর্মী। হঠাৎ একদিন রাতে তিনি বাসায় ফিরে মাকে বললেন, বেনু (আমার মায়ের ডাক নাম) একটা সুখবর আছে। মা আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইলেন, সুখবর? কী…?
মাকে কাছে টেনে বাবা বললেন, আমাদের নতুন নাটকে দুদু (আমার ডাক নাম) অভিনয় করবে। ডিরেকটর আমাকে কথা দিয়েছেন। আমাদের নতুন নাটকে একজন শিশুশিল্পীর দরকার হবে। দুদুকেই ওই ক্যারেকটারে নিতে চান। কাল ওকে নিয়ে আমি রিহার্সেলে যাব।
বিছানায় ঘুমের ভান করে আমি শুয়ে আছি। মা কয়েকবার ডাক দিলেন। ইচ্ছে করেই সাড়া দিলাম না। কারণ বাবার কথা আমার বিশ্বাস হচ্ছিলো না। মনে হচ্ছিলো আমি স্বপ্ন দেখছি। শহরের বড় বড় মানুষেরা যে নাটকে অভিনয় করবেন আমিও সেই নাটকে যুক্ত হব। আহা! কী আনন্দ। যত না আনন্দ অভিনয় করতে পারবো বলে… তার চেয়ে বেশি আনন্দ নাটকের সাথে যুক্ত হলে নাটক মঞ্চায়নের দিন কেউ আর মিলনায়তনে ঢোকার জন্য বাধা দিবে না। টিকিট অথবা গেটপাস চাইবে না। বরং দেখা মাত্রই গেট খুলে দিবে। আনন্দে রাতে ভালো করে ঘুম হলো। পরের দিন স্কুলে এসে বন্ধুদের বললাম, আমি নাটকে অভিনয় করতে যাচ্ছি… কেউ বিশ্বাস করলো। আবার কেউ হেসে উড়িয়ে দিল।
আমাদের স্কুলের পাশেই মর্তুজা ইনসটিটিউট। স্কুল ছুটি হওয়ার পর মর্তুজা ইনসটিটিউটের খোলা জানালা দিয়ে ভিতরটা ভালো করে দেখে নিলাম। মনের ভিতর বিপুল আনন্দ। রাতে অর্থাৎ সন্ধ্যার পর মর্তুজা ইনসটিটিউটের ভিতর ঢোকার সুযোগ পাব। বড়দের সাথে নাটক করার ঘোষণাও হয়তো পেয়ে যাব আজ। সন্ধ্যায় বাসায় সেজেগুজে বসে আছি। অপেক্ষা করছি বাবা কখন ডেকে বলবেন, আব্বু চলো আমরা রওয়না দেই। কিন্তু বাবার যেন কোনো তাড়া নেই। তাহলে কী আজ তিনি মহড়ায় যাবেন না? নাকি আমার ব্যাপারে নেগেটিভ কোনো খবর আছে? আমি কি নাটক থেকে বাদ পড়ে গেছি?
(চলবে)

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)