ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৫ মিনিট ১৯ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৯ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

কিডস, লিড নিউজ, শিক্ষা ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়: ল্যাম্পপোষ্টের আলোয় পড়ালেখা

ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়: ল্যাম্পপোষ্টের আলোয় পড়ালেখা

ল্যাম্পপোষ্টের আলোয় পড়ালেখা

ল্যাম্পপোষ্টের আলোয় পড়ালেখা

ঢাকা, ১১ এপ্রিল ২০১৫, নিরাপদনিউজ : রাত ৯ টা। উত্তরা ১২ ও ১৩ সেক্টরের জনপথ রোড। প্রশস্ত রাস্তা, সবাই চেনে সিটি কর্পোরেশন ময়লার ডাম্পিং এলাকা হিসেবে। রাস্তার অপর পাশে হঠাৎ চোখ আটকে গেল। দুটো বাচ্চা ছেলে গভীরে মনযোগ দিয়ে পড়ালেখা করছে ফুটপাতে সোডিয়াম লাইটের হলুদ ঝাপ্সা আলোয়। ওদের শরীরের ভাষা বলে দিচ্ছিল ওরা পড়ালেখায় কতটুকু নিমগ্ন। অনেকক্ষন খেয়াল করলাম রাস্তার গাড়ির শব্দ বা পথচারীর আনাগোনা কোন কিছুই তাদের এই নিমগ্নতা ভাঙ্গনের কারণ হচ্ছে না। কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করতে জানতে পারলাম একজনের নাম রাজু। আর একজন আমি যেতে যেতেই চলে গেল। রাজু রাস্তার পাশের ঐ ঝুপড়ি ঘরে একা মায়ের সাথে থাকে। বাবা নেই। ক্লাস টু তে পড়ে। খুব বুদ্ধিদীপ্ত, স্মার্ট কথাবার্তা এবং অসম্ভব বিনয়ী। রাস্তার পাশের একটি বাচ্চা ছেলের মুখে এত শুদ্ধ উচ্চারন দেখে মুগ্ধ হলাম। বাসায় একটি মাত্র কুপি, তাতে মা অন্য কাজ করেন বলে রাতের বেলা রাস্তায় এসে লাইটের আলোয় পড়ালেখা করতে হয়। তাদের ঠিক পিছনে আলকোজ্জল আলিসান দালানের সারি। মনে আসল ঐসব দালানে বকে যাওয়া সন্তানদের চিন্তায় মা-বাবা নির্ঘুম রাত কাটান। সর্বস্ব দিয়েও একটি সন্তান মানুষ করতে পারেন না। রাজুকে দেখে তাঁর জন্য দীর্ঘশ্বাস নয় বরং গর্বিত হলাম যে একটি লাইট পোস্টের নিছে একটি সূর্যের দেখা পেলাম। চেতনা জুড়ে অদ্ভুত এক সুখানুভুতি এনে দিল এই আলোর প্রদীপটি। রাস্তার উপর ঐ ছোট্ট স্কুলের ব্যাগটি আমার ভাবনাটা এলোমেলো করে দিল। আমরা এত ভাল সুযোগ পেয়েও পজিটিভ চিন্তা করতে পারিনা। কিন্ত এরা এত প্রতিকুলতাকে কেমন অবলীলায় সহজভাবে নিয়ে পজিটিভ চিন্তা করতে পারে। তাঁর উপর ছোট্ট একটি শিশু কিই বা বুঝে জীবন সম্পর্কে। ফিরে আসার আগে দেখলাম মা এসে ছেলেকে পড়া বুঝিয়ে দিচ্ছেন। আমি এক প্যাকেট মোমবাতি আর ছোট একটি চার্জ লাইট ছেলেটির হাতে তুলে দেওয়ার পর এত বিনয়ের সাথে Thank You বলল যে প্রান ভরে গেল। খুব খুশি হল তা মুখ দেখেই বুঝলাম। কিন্তু তা নিয়ে উচ্চসিত হল না। ঐ গুলো পাশে রেখে আবার পড়ায় মনযোগ দিল। ব্যাপারটা এমন যে এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কাজ তাঁর পড়া শেষ করতে হবে।আসার সময় আবার এত সুন্দর করে Thank You বলল যে এখনও সেই মিষ্টি শব্দের রেশ কানে বাজে। মাথায় হাত দিয়ে চুল গুলো নেড়ে দিয়ে বাসায় ফিরলাম আর মনে মনে গাইছিলাম –
ও আলোর পথযাত্রী এ যে রাত্রি এখানেই থেম না।

সূত্র: ফেইসবুক বাই Ziniya Khan shared RadioMunna.com‘s photo. (১০.০৪.১৫)

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)