আপডেট ২৭ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড

ঢাকা শুক্রবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ , গ্রীষ্মকাল, ৯ রমযান, ১৪৩৯

এই দিনে ইতিহাসের এই দিনে

ইতিহাসের এই দিনে

আজ ১৭ মে (বৃহস্পতিবার) ২০১৮

বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস
বিশ্ব যোগাযোগ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, রাজনীতি, কূটনীতি সর্বক্ষেত্রে টেলিযোগাযোগ একটি অপরিহার্য মাধ্যম-এ উপলব্ধিকে সামনে রেখে বিশ্বব্যাপী ১৭ মে পালিত হয় বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস । বিশ্বে সকল ধরনের টেলিযোগাযোগের সদ্ব্যবহার ও উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মার্চ প্যারিসে এক আন্তর্জাতিক বৈঠকে টেলিযোগাযোগ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংগঠন আন্তর্জাতিক টেলিগ্রাফ ইউনিয়ন (আইটিইউ) প্রতিষ্ঠা লাভ করে। পরে ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন। ১৯৪৭-এ আইটিইউ পুনর্গঠিত হয় এবং টেলিযোগাযোগের ব্যাপারে জাতিসংঘের বিশেষ সংস্থায় পরিণত হয়। আইটিইউ-এর প্রতিষ্ঠার দিনটি স্মরণে প্রতি বছর ১৭ মার্চ পালিত হয় বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস ।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পাশাপাশি কারিগরি সুবিধার উন্নয়ন এবং টেলিযোগাযোগ সার্ভিসের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দক্ষ কার্যক্রম পরিচালনা, সার্ভিসের উপযোগিতা বাড়ানো ও জনসাধারণের কাছে এর সার্ভিস আরো সহজলভ্য করে তোলা আইটিইউ-এর কাজ। এই লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের রেডিও স্টেশনগুলোর মধ্যে ক্ষতিকর হস্তক্ষেপ এড়ানোর জন্য আইটিইউ রেডিওফ্রিকোয়েন্সির স্থান নির্দেশ ও রেডিওফ্রিকোয়েন্সি এসাইনমেন্টের রেজিস্ট্রেশনের ব্যাপারে এবং রেডিওফ্রিকোয়েন্সি স্পেকট্রামের ব্যবহার উপযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করে।

আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন এর সদস্যভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সংহতি রেখে বাংলাদেশও প্রতি বছর বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস পালন করে। প্রতি বছর নির্ধারিত প্রতিপাদ্য বিষয়ের চেতনায় দিবস পালনের লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয় নানাবিধ কর্মসূচি। উল্লেখ্য, টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে আধুনিক ধারার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নের জন্য জাতীয় টেলিযোগাযোগ নীতিমালা ঘোষণা করা হয়েছে। নীতিমালায় বেসরকারি খাতের ভূমিকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আর্থসামাজিক অঙ্গনে কুশলাদি বিনিময় থেকে শুরু করে শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্যে টেলিযোগাযোগের অভূতপূর্ব ভূমিকা ও অবদান এক বিস্ময়। এই বিশাল নেটওয়ার্ক জুড়ে রয়েছে সেবা গ্রহণকারী, সার্ভিস প্রদানকারী, নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী, যন্ত্রপাতি উৎপাদনকারী, অর্থবিনিয়োগকারী, নিয়ন্ত্রক এবং মান নির্ধারক ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান। সবার সহযোগিতা টেলিযোগাযোগকে করে চলেছে উন্নয়নে বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ।

(শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস)
১৯৮১ সালের এই দিনে শেখ হাসিনা প্রায় ৬ বছরের প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। ’৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হবার সময় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশের বাইরে ছিলেন। এ বিয়োগান্তক ঘটনার পর তারা দেশে না ফিরে প্রবাসেই থেকে যান। শেখ হাসিনা ’৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন । সেই থেকে আ’লীগ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে প্রতিবছর ১৭ মে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

১৪২৬ খ্রীস্টাব্দের ১৭ই মে পর্তুগালে পৃথিবীর ইতিহাসের প্রথম নৌচালনা সংক্রান্ত স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। নৌচালনা বিদ্যায় ছাত্রদের দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং তাদেরকে নতুন নতুন ভূখন্ড আবিস্কারের কাজে লাগানো ছিল ঐ স্কুল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য। সে সময়কার অনেক বিখ্যাত নাবিক ও আবিস্কারক এই স্কুলে লেখাপড়া করেছিলেন। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও নৌচালনা বিদ্যা শেখানোর স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৮৬৫ খ্রীস্টাব্দের ১৭ই মে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বিশ্বের ২০টি দেশের প্রতিনিধিদের এক সম্মেলনে যোগাযোগ সংক্রান্ত প্রথম আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ঐ চুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক টেলিগ্রাফ ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা এবং এ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইন-কানুন অনুমোদন করা হয়। এ কারণে এ দিনটিকে বিশ্ব যোগাযোগ দিবস হিসেবে নামকরণ করা হয়। ১৯৩২ সালে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে আন্তর্জাতিক টেলিগ্রাফ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে আই.টি.ইউ. বা আন্তর্জাতিক টেলিফোন ইউনিয়ন রাখা হয়। ১৯৪৭ সাল থেকে আই.টি.ইউ আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের একটি শাখা হিসেবে নিবন্ধিত হয়।

৭০ বছর আগের এই দিনে ফিলিস্তিনে উপনিবেশ স্থাপনকারী বৃটিশ সরকার “হোয়াইট বুক” নাম একটি বই প্রকাশ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে ফিলিস্তিনে ইহুদীবাদী সরকার প্রতিষ্ঠার কাজ ত্বরান্বিত করা ছিল ঐ বই প্রকাশের লক্ষ্য। বইটিতে ফিলিস্তিন সমস্যার যে সমাধানের কথা বলা হয় তা হচ্ছে, তখন থেকে ১০ বছর পর ইহুদী ও মুসলমান অধ্যূষিত স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত হবে। হোয়াইট বুকে আরো বলা হয়, ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত আরো এক লাখ ইহুদি বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে ফিলিস্তিনে এসে বসতি স্থাপন করবে। তবে এরপর আর কোন ইহুদীকে ফিলিস্তিনী ভূখন্ডে আসতে হলে আরবদের সম্মতি নিতে হবে। বৃটিশ সরকারের এ পরিকল্পনা যে ফিলিস্তিনকে পুরোপুরিভাবে গ্রাস করে ইহুদীবাদীদের হাতে তুলে দেয়ার নীলনক্সা ছিল, তা ফিলিস্তিনী জনগণের বুঝতে অসুবিধা হয় নি। এ কারণে তারা ঐ বৃটিশ পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে। অন্যদিকে ইহুদীবাদীদের লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিনে একটি ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু বৃটিশ পরিকল্পনায় তাদের সে লক্ষ্যের পুরোপুরি বাস্তবায়ন না থাকায় তারাও তা প্রত্যাখ্যান করে। ১৯৪২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে ইহুদীবাদীরা ফিলিস্তিনে একটি পূর্ণাঙ্গ ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি উত্থাপন করে।

১৯৪৬ সালের ১৭ই মে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার এক বছর পর ইতালির জনগণ এক গণভোটে প্রজাতন্ত্রী ব্যবস্থার পক্ষে রায় দেয়। এর এক বছর আগে ১৯৪৫ সালে ইতালির স¤্রাট তৃতীয় ভিক্টর ইমানুয়েলকে সেদেশের পার্লামেন্ট বরখাস্ত করে এবং তার ছেলেকে স¤্রাটের দায়িত্বে বসায়। কিন্তু ১৯৪৬ সালের গণভোটের মাধ্যমে দেশটিতে প্রজাতন্ত্রী ব্যবস্থা চালু হয় এবং রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে। গণতন্ত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার ইতালির ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। কিন্তু শক্তিশালী কোন রাজনৈতিক দলের অনুপস্থিতি এবং দুর্বল সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী কোন সরকারই বেশীদিন ইতালির ক্ষমতায় থাকতে পারে নি।

১৯৭৭ সালের ১৭ই মে আন্তর্জাতিক মিউজিয়াম কমিটির ১২তম সম্মেলনের ঘোষণাপত্র অনুযায়ী এ দিনটিকে ‘বিশ্ব মিউজিয়াম দিবস’ হিসেবে নামকরণ করা হয়। সারাবিশ্বে যাদুঘর ছড়িয়ে দেয়া, সাংস্কৃতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন যাদুঘরের মধ্যে সার্বিক সহযোগিতা, স্থানীয় সংস্কৃতিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা এবং বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ রোধ করা ছিল ঐ ঘোষণাপত্রের প্রধান লক্ষ্য। উল্লেখ্য, ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অতীত ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে রাখার উদ্দেশ্যে প্রথম যাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

৮৩২ বছর আগের এই দিনে ইরানের বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ, দার্শনিক ও গনিতবিদ খাজা নাসিরউদ্দিন তুসি ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তুস এলাকায় জন্মগ্রহন করেন। মোগল শাসক হালাকু খানের যুগে নাসিরউদ্দিন তুসি উত্তর-পশ্চিম ইরানের মারাগে শহরের বিখ্যাত মান-মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি তার মান-মন্দিরের জন্য সূর্য্য ঘড়ি ব্যবহারের আধুনিক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। তিনি ব্যাপক গবেষণার মাধ্যমে তার মান-মন্দিরকে এতটা আধুনিক ও সুসজ্জিত করেছিলেন যে, এর ৩০০ বছর পরও ঠিক এরকম কোন মান-মন্দির স্থাপন করা পশ্চিমা কোন দেশের পক্ষে সম্ভব হয় নি। খাজা নাসিরউদ্দিন তুসি তার মারাগেহ মান-মন্দিরের পাশে একটি বিশাল লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেন যার বইয়ের সংখ্যা ছিল চার হাজারেরও বেশী। আরবি ও ফার্সি ভাষায় ইরানের এই বিখ্যাত বিজ্ঞানীর লেখা ৮০টিরও বেশী বই ও গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ আজো রয়ে গেছে। ফার্সি ৬৭২ সালে এই বিশিষ্ট বিজ্ঞানী মৃত্যুবরণ করেন এবং ইরাকের কাযেমাইন শহরে তাকে দাফন করা হয়।

কনৌজের যুদ্ধে শেরশাহর কাছে হুমায়ুনের পরাজয় (১৫৪০)
রাশিয়ার স¤্রাজী প্রথম ক্যাথরিনের মৃত্যু (১৭২৭)
বসন্তের টিকা আবিষ্কারক ইংরেজ চিকিৎসক এডওয়ার্ড জেনারের জন্ম (১৭৪৯)
ব্রিটিশ ও মারাঠাদের মধ্যে আরারের যুদ্ধ সংঘটিত (১৭৭৫)
সিপাহী বিপ্লবের আপোসহীন নেত্রী ঝাঁসি রানী লক্ষীবাই’র মৃত্যু (১৮৫৭)
ইরানের ধর্মীয় নেতা, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের স্থপতি আয়াতুল্লাহ খোমেনীর জন্ম (১৯০০)
বিশ্বের প্রথম যাত্রীবাহী বিমান চলাচল শুরু (১৯২০)
বুলগেরিয়ায় নির্বাচিত সরকার হটিয়ে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখল (১৯৩৪)
জার্মান বাহিনীর ফ্রান্স দখল (১৯৪০)
প্রথম মহিলা পর্বতারোহী জাপানের জনুকার এভারেস্ট জয় (১৯৭৫)
মালাবিতে ৩০ বছরের মধ্যে প্রথম বহুদলীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত (১৯৯৪)
জায়ারের নাম পরিবর্তন করে কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ঘোষণা (১৯৯৭)
ইসরাইলে লেবার পার্টি প্রার্থী ইহুদ বারাকের কট্টরপন্থী প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জয়লাভ (১৯৯৯)
দারিদ্র বিমোচন সংক্রান্ত জাতিসংঘ সম্মেলনে একটি নতুন ওয়ার্ল্ড ট্রেড ইউনিভার্সিটি চালুর ঘোষণা (২০০১)

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)