আপডেট ৪ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ১০ চৈত্র, ১৪২৫ , বসন্তকাল, ১৬ রজব, ১৪৪০

এই দিনে ইতিহাসের এই দিনে

ইতিহাসের এই দিনে

আজ (শুক্রবার) ১৫ মার্চ’২০১৯

বিশ্ব ক্রেতা অধিকার দিবস
ক্রেতা বা ভোক্তাদের অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। বিশ^ব্যাপী নতুন নতুন পণ্য আসছে। বাজারের বিস্তৃতি ঘটছে। পাশাপাশি ক্রেতাদের অধিকার সে হারে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে না। জানা গেছে, ১৯৬০ সালের আগ পর্যন্ত সারা বিশে^র এমনকি আমেরিকাতেও পণ্য বিপণনে ছিলো সীমাহীন প্রতারণা, পণ্যে ছিলো ঝুঁকিপূর্ণ ভেজাল, পণ্য সম্পর্কে দেয়া হতো না বিশদ তথ্য, গড়ে উঠেছিলো একচেটিয়া কারবারী পরিবেশ আর ক্রেতারা ছিলো ব্যবসায়ীদের হাতের পুতুল। এসব অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে ক্রেতা হয়ে ওঠে সোচ্চার। গড়ে ওঠে আন্দোলন। প্রতারিত ভোক্তা ক্রেতার স্বার্থ সংরক্ষণে উদ্ভব হয় ভোক্তাবাদ বা কনজুমারিজম । আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ১৯৬০ সালের এপ্রিলে হেগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, অষ্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি দেশের ক্রেতা সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সভায় গঠিত হয় আন্তর্জাতিক ক্রেতা সংগঠন (আইওসিইউ)।
১৯৬২’র ১৫ মার্চ তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি ক্রেতার ৪টি অধিকার সম্বলিত এক ঘোষণা দেন, যার ঐতিহাসিক বিল মার্কিন কংগ্রেসে অনুমোদিত হয়। ক্রেতা অধিকার সংরক্ষণের এই আনুষ্ঠানিক যাত্রার পরিপূর্ণতা অর্জিত হয় ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে । এ বছরে ১৬ এপ্রিল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত এক প্রস্তাবে কার্যকরভাবে ক্রেতা সাধারণের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য ৭টি মূলনীতি গ্রহণ এবং সকল সদস্য রাষ্ট্র ও জাতিসংঘের সকল সংগঠনকে ক্রেতা স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য বিস্তারিত কর্মসূচি প্রণয়নের অনুরোধ জানানো হয়। এভাবেই ক্রেতা অধিকার আন্দোলন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পরিণত হয়। আর জন এফ কেনেডির ক্রেতা অধিকার ঘোষণার দিন ১৫ মার্চ পালিত হয় বিশ^ ক্রেতা অধিকার দিবস হিসেবে। জন এফ কেনেডি ঘোষিত ক্রেতাদের ৪টি অধিকার হচ্ছে নিরাপত্তা, জানা, অভিযোগ এবং পছন্দের অধিকার ।
প্রত্যেক ক্রেতার অধিকার আছে ক্ষতিকারক পণ্য থেকে নিজেকে রক্ষা করা। তাই এমন কোনো পণ্য বিপণন করা যাবে না, যা জনস্বাস্থ্য ও জীবনের প্রতি হুমকি সৃষ্টি করে: – প্রতিটি পণ্যের গুণাগুণ সম্পর্কে প্রতিটি ক্রেতার জানার অধিকার আছে। পণ্যের ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে ভোক্তা ক্রেতাকে অবশ্যই অবহিত করতে হবে; ক্রেতা স্বার্থ পরিপন্থী যে কোনো বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করার অধিকার থাকবে। সেই সাথে যে সমস্ত পর্যায়ে ক্রেতা স্বার্থ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় সেসব পর্যায়ে ক্রেতা প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রতিটি ক্রেতারই ন্যায্য মূল্যে নিজস্ব পছন্দ ও প্রয়োজন মাফিক পণ্য ক্রয় করার অধিকার আছে। একচেটিয়া কারবার ব্যবস্থা নিয়ে কোনো কৃত্রিম পরিবেশ সৃষ্টি করে ক্রেতার এই অধিকার ক্ষুন্ন করা যাবে না। বর্তমান বিশে^ ক্রেতাবাদ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সত্যিকার অর্থে বিশ^ব্যাপী ক্রেতার ৮টি অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। এই অধিকারগুলো হচ্ছে (১)
জীবন ধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণের অধিকার (২)
নিরাপত্তার অধিকার (৩)
জ্ঞাত হবার অধিকার (৪)
অভিযোগ করার এবং প্রতিনিধিত্বের অধিকার (৫)
ন্যায্যমূল্যে পছন্দসই পণ্য বাছাই করার অধিকার (৬)
ক্ষতিপূরণ পাবার অধিকার (৭)
ক্রেতা শিক্ষা লাভের অধিকার ও (৮)

স্বাস্থ্যকর পরিবেশের অধিকার। মানুষ মাত্রই ক্রেতা, ভোক্তা। ক্রেতা হিসেবে তাদের অধিকার সার্বজনীন। আজ পৃথিবীর সর্বত্র কোটি কোটি ক্রেতা, ভোক্তা তাদের স্বার্থের পরিপন্থী বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করেছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতা সংগঠন আইওসিইউ এর সঙ্গে সংহতি রেখে বাংলাদেশসহ বিশে^র বহু দেশের প্রতিনিধিত্বকারী ক্রেতা সংগঠন ক্রেতার অধিকার নিয়ে গড়ে তুলেছে আন্দোলন। বাংলাদেশে ক্রেতা স্বার্থ সংরক্ষণ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ১৯৭৮ সালে গঠিত হয় প্রথম ক্রেতা সংগঠন কনজুমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। পরবর্তীকালে ক্রেতা স্বার্থ সংরক্ষণ সমিতি, সবার জন্য স্বাস্থ্য, ধূমপান নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সমিতিসহ অন্যান্য সংগঠন আবির্ভূত হয়। এসব ক্রেতা সংগঠন বিশেষ করে ক্যাব ও অন্যান্য সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের ব্যাপক প্রচেষ্টার ফলে সরকার কিছু কিছু ক্ষেত্রে আইন প্রণয়ন করে। ক্রেতাদের ক্যাবসহ বিভিন্ন সংগঠন পালন করে বিশ^ ক্রেতা অধিকার দিবস। আয়োজন করে সেমিনার সভা আলোচনা অনুষ্ঠান, প্রচার করে ক্রেতা অধিকার সম্বলিত লিফলেট, পোস্টার,পুস্তিকা ।

৮৩ হিজরীর ৭ই রবিউল আউয়াল পবিত্র আহলে বাইতের বা নবী বংশের অন্যতম সদস্য হজরত ইমাম জাফর সাদেক (আ) জন্ম গ্রহণ করেন। ৩৪ বছরের ইমামতিকালে ইমাম সাদেক ( আ ) সর্বমোট ৭ জন শাসকের শাসনকাল দেখেছেন। এদের মধ্যে ৫জন হলো উমাইয়া শাসক আর ২ জন আব্বাসীয়। এই দীর্ঘ সময়ে ইমাম দুটি কর্মসূচিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। একটি হলো অত্যাচারী শাসকদের জুলুম-অত্যাচারের বিরোধিতা এবং অপরটি হলো জনগণের চিন্তা চেতনার উন্নয়ন ও উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানগত বৈপ্লবিক ভিত রচনার পাশাপাশি তাদেরকে ইসলামের প্রকৃত স্বরূপ ও মৌলিক দিকগুলোর সাথে পরিচয় করানোর চেষ্টা। এই দুটি কর্মসূচির মাধ্যমে ইমাম চেয়েছেন ইসলামের উজ্জ্বল ও পবিত্র স্বরূপের ওপর যেসব বিকৃতি বা কুসংস্কার আরোপিত হয়েছিল,সেগুলোকে দূর করা ।নৈতিক এবং চারিত্র্যিক মহান বৈশিষ্ট্যের কারণে জনগণের মাঝে ইমাম সাদেক ( আ ) এর জনপ্রিয়তা দিনের পর দিন বেড়েই যাচ্ছিলো। এতে ভয় পেয়ে গিয়েছিল আব্বাসীয় শাসকরা। জনগণ যেভাবে ইমামের সাহচর্য পিয়াসী হয়ে উঠেছিল,তাতে খলিফা মানসুর ইমামের অস্তিত্বের উজ্জ্বল সূর্যালোক সহ্য করতে পারছিল না। তাই চক্রান্ত করে ইমামকে বিষপান করিয়ে শহীদ করেছিল। তাঁর সেই শাহাদাতের বার্ষিকীতে আপনাদের সবার প্রতি রইলো আবারো সমবেদনা। “আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু এবং ভাই তিনিই,যিনি আমার দোষগুলো ধরিয়ে দেন। ”

ফার্সি ১৩৬৬ সালের ২৫শে ইসফান্দ অর্থাৎ ১৯৮৮ সালের এ দিনে ইরাকের তৎকালীন বার্থপন্থী শাসকের বিমান বাহিনী কুর্দিস্তানের হালাবচা শহরে বিমান থেকে রাসায়নিক বোমা নিক্ষেপ করেছিলো। হালাবচা ইরাকের শহর হলেও সাদ্দামের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এখানকার জনগণ ইরানের সৈন্যবাহিনীকে স্বাগত জানিয়েছিলো এবং সাদ্দাম বাহিনী কিছুতেই ইরানের অসম সাহসী বাহিনীর সাথে পেরে উঠছিলো না। এ অবস্থায় বাগদাদের তৎকালীন বার্থপন্থী শাসক গোষ্ঠি প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে উঠে এবং হালাবচার উপর নির্বিচারে রাসায়নিক বোমা নিক্ষেপের পথ বেছে নেয়। এই হামলায় অন্তত ৫ হাজার নিরীহ হলাফজাবাসী মর্মান্তিক ভাবে প্রাণ হারায়। পাশ্চাত্যের কোনো কোনো দেশ ইরাকের কাছে এ প্রাণঘাতী রাসায়নিক বোমা এবং এ সব বোমা নিক্ষেপের প্রযুক্তির যোগান দিয়েছে। এমন বর্বরোচিত এবং নজিরবিহীন বোমা হামলার পরও পাশ্চাত্যের দেশগুলো তৎকালীন ইরাকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা দূরে থাকুক সমালোচনা পর্যন্ত করে নি।

১৯১৭ সালের এ দিনে রাশিয়ার জার দ্বিতীয় নিকোলাস সিংহাসন ত্যাগ করতে বাধ্য হন। পেট্রোগ্রাডের সেনা বিদ্রোহীদের চাপের মুখে তিনি সিংহাসন ত্যাগ করেন। এরপর রাশিয়ায় একটি অন্তবর্তী সরকার প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৮৯৪ সালের ২৬শে মে দ্বিতীয় নিকোলাস সিংহাসনে আরোহন করেছিলেন। তবে রাজ্য চালনার মতো কোনো প্রশিক্ষণ তার ছিলো না। এমনকি রাজ্য চালনার কোনো ইচ্ছাও তার মধ্যে দেখা যায় নি। ক্ষমতা ত্যাগ করার পর তোবোলেস্কো শহরের কাছাকাছি একটি প্রাসাদে তাকে সপরিবারে বন্দি করে রাখা হয়। ১৯১৮ সালের দিকে বিপ্লব বিরোধী বাহিনী এগিয়ে আসতে থাকলে সোভিয়েত বাহিনী মনে করে তারা দ্বিতীয় নিকোলাসকে হয়ত উদ্ধার করতে পারবে। ফলে গোপন এক বৈঠকের পর তার মৃত্যু দন্ড প্রদান করা হয়। দ্বিতীয় নিকোলাস তার স্ত্রী, শিশু সন্তনদের সহ তার কয়েকজন ভৃত্যকে ১৬ই জুলাই হত্যা করা হয়।

১৮৫৪ সালের এ দিনে এমিল এডলফ ভন বেহরিং জন্ম গ্রহণ করেন। বিশিষ্ট এই ব্যাকটেরিয়ালজিস্ট বা ব্যাকটেরিয়া বিশেষজ্ঞকে ইমমিউনোলজি বা দেহ প্রতিরক্ষা বিজ্ঞানের জনক বলে মনে করা হয়। ১৯০১ সালে তিনি প্রথম চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। সিরাম থেরাপির জন্য তাকে এই পুরস্কার দেয়া হয়েছিলো। সে সময় তিনি অন্য এক বিজ্ঞানীর সাথে কাজ করার সময় দেখতে পান যে টিটেনাস বা ধনুষ্টংকার এবং ডিপথেরিয়া রোগ থেকে সেরে উঠছে এমন প্রাণীর সিরাম বা রক্তরস প্রদান করা হলে মানব দেহে এই দুই রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা তৈরি হয়। ভন বেহরিং ১৯১৭ সালের ৩১ মার্চ পরলোকগমন করেন।

আমেরিকায় প্রথম সফর শেষে কলম্বাসের স্পেন প্রত্যাবর্তন (১৪৯৩)
মার্কিন কংগ্রেসে ব্রিটিশকে দমনের সিদ্ধান্ত (১৭৭৬)
লোহা ও ইস্পাত চুল্লির উদ্ভাবক স্যার হেনরি বেসিমার মৃত্যু (১৮৯৮)
ব্রিটিশদের উত্তর নাইজেরিয়া দখল সম্পন্ন (১৯০৩)
বেলজিয়াম রুয়ান্ডার শাসনভার ব্রিটেনের কাছে হস্তান্তর (১৯২১)
রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদীনের সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর (১৯৪৮)
ভারতীয় মিত্রবাহিনীর বাংলাদেশ ত্যাগ (১৯৭২)
সোভিয়েত রাষ্ট্রপতি চেরনেনকোর মৃত্যুর ফলে মিখাইল গরবাচেভ সোভিয়েত কমিউনিষ্ট পার্টির প্রধান নিযুক্ত (১৯৮৫)
ভারতে বিস্ফোরণে টেন নদীতে ছিটকে পড়ে ২২ জন নিহত (১৯৮৭)
বুড়িগঙ্গার ওপর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর উদ্বোধন (১৯৮৯)
জরুরি অবস্থা ঘোষণায় ব্যর্থ হয়ে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট বোরিসাভ জোভিচের পদত্যাগ (১৯৯১)
তুরস্কে ভূমিকম্পে ৮শ লোকের প্রাণহানি (১৯৯২)

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)