ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট মে ২১, ২০১৯

ঢাকা শুক্রবার, ৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

এই দিনে ইতিহাসের এই দিনে

ইতিহাসের এই দিনে

আজ (মঙ্গলবার) ২১ মে’২০১৯

(নাসিরউদ্দীনের মৃত্যু)
বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে সংবাদপত্র জগতের নক্ষত্র, বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে জাগরণ সৃষ্টিকারী নাসিরউদ্দীনের আজ মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯১৪ সালের এই দিনে বয়োবৃদ্ধ নাসিরউদ্দীন ইহলোক ত্যাগ করেন। এদেশের কবি সাহিত্যিকদের অনুপ্রেরণা তথা পুরস্কৃত করার জন্যে ১৯৭৬ সালে জীবদ্দশাতেই তিনি নিজের নামে নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক প্রবর্তন করে যান। তিনি নিজে পুরস্কৃত হয়েছেন বাংলা একাডেমী, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার। তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে শিরি-ফরহাদ, আল্লার নবী মোহাম্মদ (সঃ), বাংলা সাহিত্যে সওগাত যুগ, সওগাত যুগে নজরুল ইসলাম ইত্যাদি। নাসিরউদ্দীনের জন্ম ১৮৮৮ সালে চাঁদপুরের পাইকারদি গ্রামের এক সাধারণ গৃহস্থ পরিবারে। প্রাইমারি পাসের পর স্থানীয় চালিতাতলী এডওয়ার্ড ইনস্টিটিউশনে কয়েক ক্লাস পড়েন। পিতৃবিয়োগ এবং দারিদ্রজনিত কারণে পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। সামান্য বেতনে চাকরি নেন স্টিমার কোম্পানিতে। কিছুদিন পর স্টেশন মাস্টার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত হন। এ চাকরি ছেড়ে ইব্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে বেশ অর্থোপার্জন করেন। পাশাপাশি শুরু করেন সাময়িকী প্রকাশনা। মুসলমান সমাজের অশিক্ষা, অজ্ঞতা, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ব্রত গ্রহণ করেন। কলকাতা থেকে প্রকাশ করেন মাসিক সওগাত’ । এ পত্রিকাটি মুসলমান সমাজকে শিল্প-সাহিত্য এবং বিদ্যাশিক্ষার ক্ষেত্রে ভ্যানগার্ডের মতো ভূমিকা নেয়। কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য প্রতিভার বিকাশে সওগাতের ভূমিকা রয়েছে। পরবর্তীতে সাপ্তাহিক ‘বেগম’ পত্রিকা প্রকাশ তার আরেকটি ঐতিহাসিক কর্ম। দেশ বিভাগের পর ‘৫৪ তে সওগাত ও বেগম কলকাতা থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়। নাসিরউদ্দীন আবির্ভূত হন ঢাকার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক বিশিষ্ট নক্ষত্রে।

ফার্সি ১৩৫৯ সালের এ দিনে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আধুনিক কালের ইতিহাসের এক ন্যাক্কারজনক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিলো। ইরানের ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ের মধ্য দিয়ে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের চিরতরে সমাধি ঘটে। সদ্যজাত ইসলামী দেশটির উপর চাপ সৃষ্টি ও দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আপোস করতে বাধ্য করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ আরোপের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের মহান নেতা হজরত ইমাম খোমেনী (রহ) দৃপ্ত কন্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, অর্থনৈতিক অবরোধকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। আমাদের উপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করা হলে আমরা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আরো তৎপর হয়ে উঠব, যা আমাদের স্বার্থ অনুকূল হবে। তারাই অর্থনৈতিক অবরোধের কথায় ভীত হয়ে পড়ে যারা অর্থনীতিকে সকল কর্মের উৎস এবং দুনিয়াকে সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে ধরে নেয়।

ইতিহাসের এ দিনে ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে মার্কিন বিমান চালক চার্লস এ লিন্ডবার্গ প্রথম নিউইর্য়ক থেকে প্যারিস পর্যন্ত একটানা বিমান চালিয়ে প্যারিসের লে বুরগেটে অবতরণ করেন। তিনি স্পীরিট অব সেন্ট লুই নামের এক ইঞ্জিন বিশিষ্ট একটি বিমানে করে সাড়ে ৩৩ ঘন্টায় এই পথ পাড়ি দিয়েছিলেন। চার্লস লিন্ডবার্গের জন্ম হয়েছিলো ১৯০২ খ্রিষ্টাব্দে। তিনি ২০ বছর বয়স থেকে বিমান চালনা শুরু করেন। বিশ্বের দুঃসাহসিক বিমান চালকদের অন্যতম হিসেবে তাকে গণ্য করা হয়ে থাকে।

১৯২১ খ্রিস্টাব্দের এ দিনে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের হাইড্রোজেন বোমার জনক বিশিষ্ট পর্দাথবিদ আদ্রে শাখারভ জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি মানবাধিকারবাদী হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন এবং নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। স্কুল শিক্ষকের পুত্র শাখারভের জন্ম হয়েছিলো মস্কোয়। তিনি ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পদার্থবিদ্যায় ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি পরমাণু বিষয়ক গবেষণায় মনোনিবেশ করেন। তিনি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের হাইড্রোজেন বোমা বানানোর ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি ‘রিফ্লেকশনস অন প্রোগ্রেস, পিসফুল কোএক্সিটেন্স এন্ড ইন্টেলিকটুয়াল ফ্রিডম শীর্ষক প্রবন্ধে পূর্ব এবং পশ্চিমের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন ও দাতাদের পক্ষে জোর যুক্তির অবতারণা করেন। এ কারণে তিনি সোভিয়েত নেতাদের চক্ষুশুল হয়ে উঠেন। তিনি পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণের পক্ষের জোর অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। এ জন্য ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে তাকে শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। তবে সোভিয়েত প্রশাসনের বিরোধিতা করার অপরাধে ৫ বছর পর তাকে গোর্কি শহরে নির্বাসন দেয়া হয়েছিলো। তবে তিনি ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে সোভিয়েত গণ-কংগ্রেসের প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং একই বছর তিনি পরলোকগমন করেন।

ইতিহাসের এ দিনটি একজন স্বৈরশাসকের পতন প্রত্যক্ষ করেছিলো। ১৯৯৮ সালের এ দিনে ইন্দোনেশিয়ার স্বৈরশাসক জেনারেল সুহার্তো গণ-আন্দোলনের মুখে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। ৩২ বছরের শাসনামলে সুহার্তো কঠোর হাতে ইন্দোনেশিয়ার রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। প্রেসিডেন্ট সুহার্তো ও তার পরিবারের ব্যাপক দুর্নীতি জনগণকে সুহার্তোর শাসনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ করে তুলে। একই সাথে ১৯৯১-৯৮ সালে এশিয়ার অর্থনৈতিক সংকট ইন্দোনেশীয়দের জন্য প্রচন্ড দুর্ভোগের কারণ হয়ে দেখা দেয়। আর এসব কিছুর অনিবার্য পরিণতি হয়ে দেখা দেয় সুহার্তো বিরোধী গণ-বিক্ষোভ। তারই পরিণতিতে তিনি পদত্যাগ করেন।২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে ৮৬ বছর বয়সে সুর্হাতো পরলোকগমন করেন।

১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দের এ দিনে নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী তামিল মহিলা গেরিলার আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন। ১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দের ২০ শে আগষ্ট মুম্বাই নগরীতে রাজীব গান্ধীর জন্ম হয়েছিলো। তিনি ছিলেন ভারতের ৭ম প্রধানমন্ত্রী এবং নেহেরু পরিবারের দিক থেকে তিনি ছিলেন তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী। ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে তার ৩১ অক্টোবর শিখ দেহরক্ষীর গুলিতে তার মা এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী নিহত হওয়ার পর রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ইন্দিরা গান্ধী নিহত হওয়ার পর সমগ্র ভারত জুড়ে প্রচন্ড শিখ বিরোধী দাঙ্গা হয়েছিলো। অনেকেই এই দাঙ্গাকে পরিকল্পিত বলে মনে করে থাকেন।

ইংল্যান্ড-ফ্রান্স যুদ্ধ শুরু (১৭৪৪)
ক্যাপ্টেন হবসনের নিউজিল্যান্ডে ব্রিটিশ সার্বভৌমত্ব দাবি (১৮৪০)
হৃদরোগের চিকিৎসায় ইলেকট্রো কার্ডিওগ্রাফির প্রবর্তক ওলন্দাজ চিকিৎসক উইলিয়াম আইটোফোন ডাচের জন্ম (১৮৬০)
জোয়া দ্য নোভা সেন্টের হেলেনা দ্বীপ আবিষ্কার (১৫০২)
দশম রুশ-তুরস্ক যুদ্ধ শুরু (১৮৭৭)
ফেডারেশন অব ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল এসোসিয়েশন (ফিফা) গঠিত (১৯০৪)
প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হাইড্রোজেন বোমা বিস্ফোরণ (১৯৫৬)
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সাহায্য চুক্তি স্বাক্ষর (১৯৭৪)
ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী বোমা বিস্ফোরণে নিহত (১৯৯১)
ক্রিকেট তারকা সাঈদ আনোয়ারের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ (১৯৪) রানের বিশ্বরেকর্ড (১৯৯১)
দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বাধীনতা ঘোষণা (১৯৯৪)

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)