আপডেট ২৫ মিনিট ১ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ৫ আষাঢ়, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১৫ শাওয়াল, ১৪৪০

এই দিনে ইতিহাসের এই দিনে

ইতিহাসের এই দিনে

আজ (সোমবার) ১০ জুন’২০১৯

১৭৫২ খ্রিষ্টাব্দের এ দিনে বেঞ্জামিন ফ্র্যাংকলিন ঘুড়ি উড়িয়ে বজ্র থেকে বিদ্যুৎ আহরণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। আর এর মাধ্যমে তিনি বিদ্যুতের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করতে পেরেছিলেন। ১৭৪০এর দশকের মাঝামাঝি থেকে তিনি বিদ্যুতের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠেন। সে সময় বিদ্যুৎ সম্পর্কে তেমন কোনো জানা শোনা ছিলো না। তারপর প্রায় পুরো একটি দশক বেঞ্জামিন ফ্র্যাংকলিন বিদ্যুৎ নিয়ে গবেষণা করেছেন। বিদ্যুৎ নিয়ে আজকের দিনে যে সব শব্দ ব্যবহার করি তার অনেকগুলো তিনিই প্রথম চালু করেছিলেন। এ সব শব্দের মধ্যে রয়েছে, ব্যাটারি, কন্ডাক্টর বা পরিবাহী এবং ইলেকট্রিসিয়ান। ১৭০৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই জানুয়ারি বোষ্টনে বেঞ্জামিন ফ্র্যাংকলিনের জন্ম হয়েছিলো। তার বাবা-মার ছিলো সতর সন্তানের বিশাল সংসার। মাত্র দশ বছর বয়সে বেঞ্জামিন ফ্র্যাংকলিনের আনুষ্ঠানিক শিক্ষার ইতি ঘটে। পরবর্তীতে তিনি ফিলাডেলফিয়ায় চলে যান এবং সেখান থেকে সফল ব্যবসায়ী, বিজ্ঞানী এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।১৭৯০ খ্রিস্টাব্দের ১৭ই এপ্রিল ৮৪ বছর বয়সে তিনি পরলোকগমন করেন।

১৬১০ খ্রিষ্টাব্দের এ দিনে গ্যালিলিও শনি গ্রহের দ্বিতীয় চক্র আবিষ্কার করেছিলেন। নিজ আবিষ্কৃত আদিম টেলিস্কোপ বা দূরবীন নিয়ে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ করার সময় তিনি এই চক্রকে চিহ্নিত করেন। পরবর্তীকালে বৈজ্ঞানিকরা এই চক্রকে শনির দ্বিতীয় চক্র হিসেবে চিহ্নিত করেন। বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে বিপ্লব সৃষ্টিকারী গ্যালিলিও ১৫৬৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই ফেব্রুয়ারিতে ইতালির তুসকান শহরে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি কোর্পানিকাসের আবিষ্কারকে সমর্থন করেছিলেন এবং ক্যাথলিক পাদ্রীদের সমর্থিত ভূ-কেন্দ্রিকতাকে তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। খ্রিস্টান ধর্মবিশ্বাসের সাথে জড়িত এই মতবাদে পৃথিবীকে সকল কিছুর কেন্দ্র হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে এবং সূর্য, চাদ তারা সকল কিছুই পৃথিবীকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় বলে দাবি করা হয়েছে। আর প্রত্যাখ্যানের ফলে তিনি খ্রিষ্টান ধর্মগুরুদের রোষানলে পড়েছিলেন এবং জীবনের শেষ কয়েকটি বছর তাকে গৃহবন্দি হিসেবে কাটাতে হয়।

১৭৯০ খ্রিস্টাব্দের এ দিনে ইংরেজ সেনাবাহিনী মালয় নামে পরিচিত বর্তমানকালের মালয়েশিয়ার উপর হামলা চালায়। এ দেশটি তখন হল্যান্ডের উপনিবেশ ছিলো এবং তারা মালয়ের সম্পদ বিশেষ করে টিনের খনি লুটপাট করছিলো। ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দে শেষ পর্যন্ত মালয় থেকে হল্যান্ড উপনিবেশ গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে ইংরেজরাও ইন্দোনেশিয়া থেকে নিজেদের উপনিবেশ গুটিয়ে আনে। আর এ ভাবে ইউরোপের দুইটি সা¤্রাজ্যবাদী শক্তি মুসলিম এই দেশ দুইটিকে বছরের পর বছর ধরে অব্যাহতভাবে শোষণ করেছে। ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে মালয়েশিয়া এবং তার এক বছর আগে ইন্দোনেশিয়া স্বাধীনতা লাভ করে।

২০০০ খ্রিস্টাব্দের এ দিনে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হাফিজ আল আসাদ দীর্ঘ রোগভোগের পর ইন্তেকাল করেন। ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে তার জন্ম হয়েছিলো। ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি সিরিয়ার বিমান বাহিনীর পদ লাভ করেন এবং এর তিন বছর পর দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠিত হন। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনি সিরিয়ার নেতৃত্ব নিজের হাতে তুলে নেন। এর এক বছর পর এক গণভোটের মাধ্যমে সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর তিনি বেশ কয়েক দফা গণভোটের আয়োজন করেছেন এবং তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৬৭ সালে হাফিজ আল আসাদ সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী থাকার সময় ইহুদিবাদী ইসরাইল গোলান মালভূমি দখল করে নেয়। আসাদ সিরিয়ার সশস্ত্রবাহিনীকে শক্তিশালী করে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং ১৯৭৩ সালের আরব ইসরাইল যু্দ্েধর সময় সিরিয়া গোলান মালভূমির অংশ বিশেষ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। হাফিজ আল আসাদের সময় থেকে সিরিয়ার পররাষ্ট্র নীতিকে ইহুদিবাদ বিরোধী করে গড়ে তোলা হয়েছিলো। একই সাথে সিরিয়া সে সময় থেকে ইরানের মত ইসরাইল বিরোধী দেশগুলোর সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তুলছে।

১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে রাশিয়ার বিখ্যাত লেখক কাউন্ট লিও তলস্তয় চাষীর ছদ্মবেশে একটি মঠের দিকে তীর্থযাত্রা শুরু করেন। এর আগেই ওয়ার এন্ড পিস এবং অ্যানা কারিনেনা নামের সফল দুইটি বিশাল উপন্যাস তিনি রচনা করেছিলেন। রুশ আভিজাত গোষ্ঠির একজন সদস্য হিসেবে তলস্তয় সব সময় দোটানায় ভুগেছেন। একদিকে নিজের সম্পদ বিলিয়ে দিতে চেয়েছেন অন্যদিকে সম্পদশালী হিসেবে নিজ কর্তব্য কর্ম তাকে তাড়া করে ফিরেছে। এমনি এক পর্যায়ে তলস্তয় ঘোষণা করেন, তার সকল সাহিত্য কর্মের মালিকানা জনগণের। কিন্তু তার স্ত্রী সোফিয়া তাদের ১৩টি সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। শেষ পর্যন্ত সোফিয়া ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দে আগে প্রকাশিত তলস্তয়ের সকল সাহিত্য কর্মের কপিরাইট পেয়ে যান। ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দে তলস্তয়ের জন্ম হয়েছিলো। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও শিক্ষার মান সম্পর্কে হতাশ হয়ে তিনি কোনো ডিগ্রি না নিয়েই নিজ জমিদারীতে ফিরে আসেন। এরপর মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবুর্গে বুনো জীবন কাটিয়েছেন, সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন, ক্রিমিয়ার যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছেন, এ সময় তার লেখা বেশ কয়েকটি পুস্তক প্রকাশিত হয়েছে। ১৯১০ সালে নিউমেনিয়ায় ভুগে তিনি রাশিয়ার একটি অখ্যাত রেল স্টেশনে প্রাণ ত্যাগ করেন।

সার্বিয়ার রাজা তৃতীয় মাইকেল নিহত ((১৮৬৮)
অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্যোগে বঙ্গীয় কলা সংসদ গঠিত (১৯০৫)
ইংল্যান্ড-ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ইতালির যুদ্ধ ঘোষণা (১৯৪০)
জর্দানে নিরাপত্তা বাহিনী ও গেরিলাদের সংঘর্ষে ১শ’ নিহত (১৯৭০)
ভারতের প্রথম তাপানুকূল যাত্রীবাহী জাহাজ হর্ষবর্ধনের সমুদ্র যাত্রা (১৯৭২)
রুয়ান্ডায় ক্যাথলিক গীর্জায় ১৭০ জনকে হত্যা (১৯৯৪)
মিডিয়া স¤্রাট সিলভিও বালুসকনি দ্বিতীয়বারের মতো ইতালির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত (২০০১)

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)