ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট জুন ৩০, ২০১৯

ঢাকা শনিবার, ৫ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২০ সফর, ১৪৪১

এই দিনে ইতিহাসের এই দিনে

ইতিহাসের এই দিনে

আজ (রোববার) ৩০ জুন’২০১৯

৩ বাংলাদেশীকে দিয়ে কুয়েতে ২০ বছর পর আবার প্রকাশ্যে ফাঁসি শুরু
২০ বছর পর কুয়েতে আবার প্রকাশ্যে ফাসি শুরু হয় ২০০২ সালের এই দিনে। এটি কার্যকর হয় ৩ বাংলাদেশীকে দিয়ে। এ ৩ বাংলাদেশী হলেন- মোহাম্মদ জহর আবদুল সাত্তার, আনোয়ার আল জামান ও আনোয়ার খান মোহাম্মদ। এদিন সকাল ৮টা ১০ মিনিটে বিশেষভাবে নির্মিত মঞ্চে তাদের ফাসি কার্যকর হয়। এরপর মৃতদেহ দেখার জন্য সাংবাদিক ও জনসাধারণকে ওই মঞ্চে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। এ সময় মৃতদেহ তিনটি ফাঁসিকাষ্ঠে ১৫ মিনিট ঝুলিয়ে রাখা হয়। শিশুসহ শত শত কুয়েতি ও বিদেশী ঝুলে থাকা মৃতদেহ দেখতে মঞ্চের আশপাশে ভিড় জমায়। কুয়েতে গত ২০ বছরের মধ্যে এই প্রথম ফাসি দেয়া ব্যক্তির মৃতদেহ জনগণকে দেখতে দেয়া হয় ।
ফাঁসি কার্যকর করার দায়িত্বে নিয়োজিত চিকিৎসকরা তিন বাংলাদেশীকে মৃত ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মঞ্চের আশপাশে জনতা ঢুকতে শুরু করে। এরপর মৃতদেহগুলো নামিয়ে গলা থেকে ফাঁসির রজ্জ্ব খুলে ফেলা হয় এবং সাদা কাপড়ে ঢেকে নিয়ে যাওয়া হয়। কুয়েতে একটি বাড়ির দরজা ভেঙে একজন শ্রীলংকান পরিচারিকাকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যাশেষে ওই বাড়িতে ডাকাতি করার অপরাধে এ তিন বাংলাদেশীকে ফাঁসি দেয়া হয়। কুয়েতের আপিল আদালত ২০০১ সালের জানুয়ারিতে নিম্ন আদালতে দেয়া যাবজীবন কারাদ-াদেশ বাতিল করে তাদের ফাসির দ-াদেশ দেয়। লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল কুয়েত সরকারের কাছে ওই তিন বাংলাদেশীর ফাসি কার্যকর না করার আবেদন জানায় । বাংলাদেশ সরকার ৩ বাংলাদেশীর ফাসির দ- লাঘবের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও তাদের দ-াদেশ স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

১৯২০ সালের এই দিনে আয়াতুল্লাহ মীর্যা মোঃ ত্বাক্বী শিরাজীর নেতৃত্বে ইরাকের জনগণ বৃটিশ দখলদারদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মিত্রশক্তিগুলোর মধ্যে সমঝোতা অনুযায়ী ওসমানীয় সা¤্রাজ্যকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করা হয়। এ সময় ইরাক, জর্দান ও ফিলিস্তিনের অভিভাবকত্ব ন্যস্ত করা হয় বৃটেনের ওপর। উপনিবেশবাদী বৃটিশরা এই সুযোগে প্রকাশ্যেই ইরাকের প্রাকৃতিক সম্পদসহ অন্যান্য সম্পদ লুট করতে থাকে। আয়াতুল্লাহ মীর্যা মোঃ ত্বাক্বী শিরাজী দখলদারদের বিরুদ্ধে জিহাদের ফতোয়া দেয়ার পর গোটা ইরাকে বিপ্লব ও সশস্ত্র বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু পাশ্চাত্যের অন্যান্য উপনিবেশবাদী সরকার বৃটেনকে সহায়তা দেয়ায় এবং তাদের বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক পদক্ষেপের ফলে এ বিপ্লব তার লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে পারে নি। এ অবস্থায় মক্কার শরীফ হোসেনের পুত্র ফয়সাল ইরাকের বাদশাহ নির্বাচিত হন।

১৯৩৪ সালের এই দিনে জার্মানীর তৎকালীন চ্যান্সেলর এডলফ হিটলার নিজ দল ন্যাশনাল সোসিয়ালিস্ট পার্টি বা নাৎসী দলের মধ্যে এক শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে তার বিরোধী বহু নেতাকে নির্মূল করেন। এ দিনে তিনি নাৎসী দলের সামরিক শাখা বা দমন-পীড়ক বাহিনী তথা এস. এ’কে বিলুপ্ত করেন। হিটলার এই ঘটনার কয়েকমাস আগে কমিউনিস্টদের ওপর দমন অভিযান চালিয়েছিলেন। তিনি ১৯৩৪ সালে জার্মানীর ক্ষমতায় পৌঁছেন এবং নাৎসী দলে তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় নিজের আধিপত্যকামী তৎপরতা অব্যাহত রাখেন।

১৯৬০ সালের এ দিনে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র বা জায়ার স্বাধীনতা ঘোষণা করে। পেট্রিস লুমুম্বা দেশটির প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচিত হন। এর আগে কঙ্গো ছিল বেলজিয়ামের উপনিবেশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পেট্রিস লুমুম্বার নেতৃত্বে কঙ্গোর স্বাধীনতা সংগ্রাম জোরদার হয়ে ওঠে এবং দেশটি স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনের পর বেলজিয়ামের মদদে কঙ্গোর বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্রোহ দেখা দেয়। অন্যদিকে উপনিবেশবাদীদের দোসর মুসা চোম্বার সাথে লুমুম্বার সংঘাত দেশটির সংকটকে তীব্রতর কোরে তোলে। এ অবস্থায় বিজাতীয়দের অনুচর গোষ্ঠী পেট্রিস লুমুম্বকে হত্যা করায় কঙ্গোর পরনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।

১৯৬৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মদদপুষ্ট জেনারেল মোবোতো এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কঙ্গোর ক্ষমতা দখল করেন এবং তিনি জনগণের ওপর ব্যাপক দমন পীড়ন চালান। ১৯৭০ সালে কঙ্গো ডেমোক্রেটিক প্রজাতন্ত্রের নাম পরিবর্তন করে দেশটির নাম রাখা হয় জায়ার প্রজাতন্ত্র। কিন্তু ১৯৯৭ সালে জেনারেল মোবোতোর পতন ঘটলে দেশটির পুরনো নাম পুনর্বহাল করা হয়। আফ্রিকা মহাদেশের মাঝামাঝি অঞ্চলে অবস্থিত কঙ্গোর আয়তন ২৩ লক্ষ বর্গকিলোমিটার। জাম্বিয়া, এঙ্গোলা, তাঞ্জানিয়া, কেন্দ্রীয় আফ্রিকা, সুদান, উগান্ডা, বুরুন্ডি ও রুয়ান্ডা কঙ্গোর প্রতিবেশী দেশ।

১৯ বছর আগে ১৯৭৯ সালের এই দিনে সুদানের জেনারেল ওমর আল বাশীর অভ্যন্তরীন সংকটের সম্মুখীন সুদানের সাদেক আল মাহদীর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। অভ্যুত্থানের পর তিনি হাসান আল তুরাবীর আদর্শিক নেতৃত্বের আওতায় সুদান জাতীয় কংগ্রেস দল গঠন করেন এবং জেনারেল বাশীর নিজের এ দলের প্রধান হন। বাশীর সুদানের প্রেসিডেন্ট হবার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবমুক্ত হয়ে দেশ পরিচালনার চেষ্টা করেন। ফলে মার্কিন সরকার বাশীরের শত্রুতে পরিনত হয়। মার্কিন সরকার তেল সমৃদ্ধ সুদানের বিদ্রোহীদের মদদ দিচ্ছে এবং ১৯৯৭ সালের আগষ্ট মাসে সুদানে মার্কিন ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালানো হয়। কিন্তু এতসব বাধা সত্ত্বেও ওমর আল বাশীর অধিকাংশ প্রতিবেশী দেশের সাথে এবং নিজ দেশের অভ্যন্তরে তার বিরোধীদের সাথে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন।

১৯৯১ সালের এ দিনে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসনের অবসান ঘটে। ১৯৪৮ সাল থেকে দেশটির শতকরা মাত্র ২০ ভাগ শেতাঙ্গ সেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতাসহ অধিকাংশ সুযোগ সুবিধা শেতাঙ্গদের জন্য কুক্ষিগত করে রেখেছিল। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন নেলসন ম্যান্ডেলা। এ জন্য তাকে ২৭ বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে। নেলসন ম্যান্ডেলা ১৯৯৪ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হন।

এবারে এ দিনে সংঘটিত আরো কয়েকটি গুরত্বপূর্ণ ঘটনা সংক্ষেপে তুলে ধরছি।

আজ থেকে ৬০৪ বছর আগে এ দিনে বিখ্যাত আলেম শেখ জামাল উদ্দিন মেকদাদ হিল্লী আসাদী ইরাকের পবিত্র নাজাফ শহরে ইন্তেকাল করেন। ফাজেল মেকদাদ নামে পরিচিত এই বিখ্যাত আলেমের দুটি মূল্যবান বইয়ের নাম আদাবুল হজ¦ ও আয়াতুল আহকাম।

১৭৫৭ সালের এ দিনে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ উদদৌলা ত্রিশ হাজার সেনা নিয়ে ইংরেজ অধিকৃত কোলকাতা দখল করেন।

১৯১৬ সালের এ দিনে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৯৯৩ সালের এ দিনে ভারতে বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার প্রতিবাদে ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে লাখো জনতা অযোধ্যা অভিমুখে প্রতীকি লংমার্চ শুরু করেন।

ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রা:)’র খেলাফত লাভ (৬৫৬)
নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ-র ইন্তেকাল (১৭২৭)
বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদদৌলা নিহত (১৭৫৭)
বাংলাদেশের রংপুরে ফকির মজনু শাহর জেহাদ শুরু (১৭৭২)
তুর্কি সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ খাঁর মৃত্যু (১৮৩৯)
ভারতের চব্বিশ পরগনায় সাওতাল বিদ্রোহ (১৮৫৫)
লন্ডনের টাওয়ার ব্রিজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন (১৮৯৪)
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রথম এশীয় সদস্য দাদাভাই নওরোজির মৃত্যু (১৯১৭)
হিটলারের বিরোধিতা করায় প্রায় এক হাজার লোককে নারকীয়ভাবে হত্যা (১৯৩৪)
বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চীনের হংকং হস্তান্তর (১৯৯৭)

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)