আপডেট অগাস্ট ৯, ২০১৯

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১২ রবিউস-সানি, ১৪৪১

এই দিনে ইতিহাসের এই দিনে

ইতিহাসের এই দিনে

আজ (শুক্রবার) ০৯ আগস্ট’২০১৯

(নাগাসাকি দিবস)
হিরোশিমা দিবসের মতো নাগাসাকি দিবসও একটি মর্মান্তিক বিয়োগান্তক দিবস। হিরোশিমায় বর্বরোচিত পারমাণবিক বোমা হামলা ঘটনার মাত্র তিনদিন পর ৯ আগস্ট একইভাবে মার্কিন যুদ্ধবিমান পারমাণবিক বোমা ফেলে জাপানের আরেকটি শহর নাগাসাকিতে । পারমাণবিক বোমার আঘাতে নাগাসাকি শহরের এক তৃতীয়াংশ ভষ্ম হয়ে যায়। ৭০ হাজারেরও বেশি নিরপরাধ নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়ে বোমার আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ধ্বংসযজ্ঞ এতো বিশাল যে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত হিসাব ছিলো অসম্ভব। তারপরও হিসাব করে দেখা গেছে নাগাসাকির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ছিলো ৭৩,৮৮৪ জন, আহত ৭৪,৯০৯ জন, নিঃস্ব হয় ১,২০,৮২০ জন, আর গৃহ ক্ষতিগ্রস্ত হয় ১৮৪০৯। নাগাসাকির মোট জনসংখ্যা ২,১০,০০০। এর মধ্যে ১,৫০,০০০ জন অর্থাৎ ৭১.৪% মানুষ নিহত ও আহত হয়। হঠাৎ এবং অকল্পনীয় এই ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষেত্রে উদ্ধার কার্যক্রম মূলত হয়ে পড়ে অকার্যকর। যারা বেঁচে যায় এবং শহরে আসে তারাও প্রকৃত চিকিৎসা পায়নি।

নাগাসাকির মানুষ কখনো ভুলবে না সেই নিষ্ঠুরতার কথা। ১২শ শতাব্দীর একটি গ্রাম, ১৫শ শতাব্দীর ব্যবসা বন্দর-ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর ফিরে দাড়িয়েছে, অনেক বেশি উন্নত হয়েছে। নাগাসাকি এখন জাহাজ নির্মাণ শিল্পে জাপানের একটি উল্লেখযোগ্য স্থান। মৎস শিকার ও ব্যবসার ক্ষেত্রেও শহরটি বিখ্যাত। ১৬৪১ থেকে ১৮৫৯ পর্যন্ত এটি ছিলো জাপানের একমাত্র বন্দর। সেটি ছিলো বিদেশিদের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রবেশ পথ। এখন নাগাসাকি একটি পর্যটন স্পট, সেখানে প্রতি বছর ৫০ লাখ পর্যটকের আগমন ঘটে। দেশী-বিদেশী পর্যটকরা খুবই আগ্রহ নিয়ে নাগাসাকি ভ্রমণ করে। পরিদর্শন করে পারমাণবিক বোমাবর্ষণের স্মৃতি চিহ্ন। যেখানে শোনা যায় মানুষের নিঃশব্দ কান্নার ধ্বনি।
স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে রয়েছে একটি ভাঙা দেয়াল ঘড়ি। ঘড়িটি বোমার আঘাতে ভেঙে গিয়েছে। ঘড়িতে বাজছে সকাল ১১:০২ মিনিট। এই সময়ই বোমা ফেলা হয় নাগাসাকিতে আছে শান্তি পার্ক। এখানে প্রতি বছর ৯ আগস্ট হয় শান্তি সমাবেশ ।
এছাড়াও পারমাণবিক বোমা সংগ্রহশালাসহ অনেক স্মৃতিবাহী নিদর্শন।

(আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস)
৯ আগস্ট আরেকটি আন্তর্জাতিক দিবস আদিবাসী দিবস। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ প্রথম ১৯৯০ সালে ১৯৯৩ সালকে বিশ্ব আদিবাসী বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করে। মানবাধিকার কমিশনের উন্নয়ন ও সংরক্ষণ সাব কমিশনের আদিবাসী জনগণ সম্পর্কিত কর্মদল তাদের প্রথম সভায় ১৯৯২ সালে আদিবাসী দিবস পালনের জন্য ৯ আগস্টকে বেছে নেয়। আদিবাসী জনগণের মানবাধিকার, পরিবেশ, উন্নয়ন, শিক্ষা ও সাস্থ্য সম্পর্কিত বিরাজমান বিভিন্ন সমস্য নিরসনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সুদৃঢ় করা ও গণসচেতনতা সৃষ্টি করাই বিশ্ব আদিবাসী দশক, বর্ষ ও দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য। বিশ্বে ৭০টি দেশে প্রায় ৩০ কোটি আদিবাসী রয়েছে। তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ইন্ডিয়ান, অস্ট্রেলিয়ার ইনুইট বা এস্কিমোস, উত্তর ইউরোপের সামী, নিউজিল্যান্ডের মাত্তারি অন্যতম । বলিভিয়ার মোট জনসংখ্যার ৬০% আদিবাসী। পেরু ও গুয়াতেমালার মোট জনসংখ্যার অর্ধেক আদিবাসী। তাছাড়া চীন, ভারত, মায়ানমারেও বিরাট সংখ্যক আদিবাসী জাতি বাস করে। বাংলাদেশে ১৯৯১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী আদিবাসী জনসংখ্যা ১২,০৫,৯৭৮ জন। বাং ৪৫টি আদিবাসী জাতিসত্তা মিলে আদিবাসী জনসংখ্যা আনুমানিক ১৬ লাখেরও বেশি। বাংলাদেশের দুটি পৃথক ভৌগোলিক পরিবেশে বাস করে এরা। একটি পার্বত্য চট্টগ্রাম (রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) এবং আরেকটি উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবতী জেলাসমূহ। এর মধ্যে মধুপুরের গড়াঞ্চল বিশেষ বৈশিষ্ট্যম-িত । ৪৫ আদিবাসী হচ্ছে গারো, খিয়াং ¤্রাে, বন, চাকমা, চাক, পাংখু, লুসাই, মারমা,

ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গা, রাখাইন, খাসিয়া, মনিপুরী, ঘুনী, হাজং, বানাই, কোচ, ডালু, সাওতাল, মু-া পাহাড়িয়া, মাহাতো, সিং খারিয়া, খ-, আসাম (বহমিয়া) গোর্সা, মুরিয়ার তুরি মাহাসী, মালো, উরাও, ক্ষক্রিয় চমনি, রাজবশী। জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ মতে কিছু কিছু ভিন্নতা ছাড়া সকল আদিবাসীর মধ্যে অনেকক্ষেত্রে সামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়। মিলগুলো হচ্ছে তারা গরিব, দূরবতী ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস, অনেকেই লিখতে ও পড়তে জানে না, সীমাহীন নির্যাতন ও বঞ্চনার শিকার-তারা নিজ দেশে বাস করে অনাহুত পরবাসীর মতো। অথচ এই আদিবাসী বিশ্ব মানব পরিবারের অংশীদার এবং নিজ নিজ দেশ গঠনে, দেশের উন্নয়নে, সামাজিক সাংস্কৃতিক বিকাশে তাদেরও অবদান রয়েছে। বাংলাদেশেও আদিবাসী জনগণ স্বাধীনতা যুদ্ধে ও দেশ গঠনে তাদের অগ্রণী ভূমিকা ও কার্যক্রম রেখেছে।

(নবাব খাজা হাসান আসকারীর মৃত্যু)
বিশিষ্ট রাজনীতিক নবাব স্যার সলিমুল্লাহর পৌত্র, নবাব হাবীবুল্লাহর পুত্র খাজা হাসান আসকারী ১৯৮৪ সালের এই দিনে পাকিস্তানের করাচিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ১৯৭১-এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ঘোরত বিরোধিতা করেন। পাক বাহিনীকে সহযোগিতা করেন বিভিন্নভাবে । ১৯৭১’র ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের দিন পাকিস্তানে চলে যান এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন। তার জন্ম ঢাকার আহসান মঞ্জিলে ১৯২১ সালে। আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাসের পর ১৯৪৪ সালে ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে যোগ দেন। যুদ্ধে আহত হয়ে চাকরি ছেড়ে দেন। দেশ বিভাগের পর ১৯৪৭-এ পুনরায় পাকিস্তান সামরিক বাহিনীতে চাকরি নেন। ‘৬১ তে অবসর নেয়ার পর অংশগ্রহণ রাজনীতিতে। ’৬২ তে ঢাকা । সিটি থেকে জাতীয় পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে পাকিস্তান সরকারের পূর্ত ও যোগাযোগ মন্ত্রী নিযুক্ত হন। ৬৫ তে মন্ত্রীত্ব ত্যাগ। ’৬৮ তে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। খেলাধুলার প্রতি উৎসাহী ছিলেন। ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, পাকিস্তান ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড, পূর্ব পাকিস্তান স্পোর্টস ফেডারেশনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি।

১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে ইরান ও বৃটিশ সরকারের মধ্যে একটি লজ্জাজনক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ঐ চুক্তি অনুযায়ী ইরানের অর্থনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক তৎপরতা বৃটিশরা নিয়ন্ত্রণ করে। রুশ বিপ্লব এবং দেশটি উপনিবেশ স্থাপনের প্রতিযোগিতা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেয়ার পর বৃটিশ সরকার ঐ চুক্তি ইরানের উপর চাপিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু ইরানের স্বাধীনতা প্রিয় জনগণ ঐ চুক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। এমন কি আন্তর্জাতিক সমাজ এবং বৃটেনের বিরোধী কোন কোন পশ্চিমা দেশও ঐ চুক্তির বিরোধীতা করেছিল। অবশেষে ঐ চুক্তিটি বাতিল ঘোষণা করা হয়। এর দেড় বছর পর বৃটিশ সরকার ইরানে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে রেজা খানকে ক্ষমতায় নিয়ে আসে এবং তার মাধ্যমেই মূলত ইরানের উপর কর্তৃত্ব অব্যাহত রাখে।

১৯৪৫ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্র জাপানের নাগাসাকি শহরে দ্বিতীয় আণবিক বোমা বিক্ষেপ করে শহরটিকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছিল। এর তিন দিন আগে জাপানের হিরোশিমা শহরেও অনুরূপ বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয় নিশ্চিত করা, কোন শর্ত ছাড়াই দেশটিকে আত্মসমর্পনে বাধ্য করা এবং মার্কিন সামরিক ক্ষমতা প্রদর্শন করাই ছিল ঐ পরমাণু বোমা হামলার লক্ষ্য। নাগাসাকিতে আণবিক বোমা হামলার সাথে সাথে ৮০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল এবং ঐ বোমার ক্ষতিকারক তেজস্ক্রিয়তা আজও অব্যাহত রয়েছে। হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে আণবিক বোমা হামলার ফলে জাপান আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হয়েছে ঠিকই কিন্তু বিশ্ববাসীর কাছে এটাও স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, পরমাণু অস্ত্রধারী দেশগুলো বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র যে কোন সময় এ ধরণের বোমার ব্যবহার করতে পারে।

১৯৬২ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে জার্মানীর বিখ্যাত কবি ও লেখক হোরম্যান হ্যাসে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ১৮৭৭ সালে ধর্মীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং শৈশবকাল থেকেই কবিতা আবৃত্তি শুরু করেন। মাত্র বিশ বছর বয়সে তার প্রথম কবিতার বই প্রকাশিত হয়। জার্মানীর এই কবি প্রাচ্যের বেশ কিছু দেশ সফর করেন এবং প্রাচ্যের মানুষের নৈতিক শিক্ষা ও সংস্কৃতির দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। তিনি ১৯৪৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। ব্জ€˜মরুভূমির নেকড়ে বাঘ’ ও ব্জ€˜রাজনৈতিক মতামত’ তার অন্যতম দুটি বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম।

১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিকসন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। ঐ কেলেঙ্কারীর ঘটনাটি ওয়াটার গেট নামে পরিচিত। রিচার্ড নিকসন জালিয়াতির মাধ্যমে নির্বাচিত হলেও আস্থা ভোটের সম্মুখীন হয়েছিলেন। কিন্তু কেলেঙ্কারীর ঘটনা আরো বেশী ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড পরবর্তী চার বছর দেশ পরিচালনা করেন।

১৯৭৫ সালে এই দিনে খ্যাতনামা রুশ সঙ্গীতজ্ঞ দিমিত্রি শুসতাকোভিস্ত মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তিনিই প্রথম সিম্ফনি যন্ত্র তৈরী করেন। এরপর তিনি বেশ কিছু গানের সুর তৈরী করার কারণে খ্যাতি অর্জন করেন। তার এসব সুর চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত হয়।

বিশ্ব ইতিহাসে এ দিনে সংঘটিত আরো কয়েকটি ঘটনা এবার তুলে ধরছি।

১৯০২ খৃষ্টাব্দের এ দিনে রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড সিংহাসনে বসেন।
১৯৫৮ সালের ৯ ই আগস্ট আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশ দিয়ে প্রথম কেবল স্থাপন করা হয় ।

ফ্রান্সের প্যারিসে সরকারের প্রভাবমুক্ত বিপ্লবী স্বশাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা (১৭৯২)
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে সীমানা নির্ধারণ (১৮৪২)
ব্রিটেনে প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস (১৮৭০)
উড়োজাহাজ আবিষ্কারক অলভিন ব্রাইটের জন্ম (১৮৭১)
রানী ভিক্টোরিয়ার মৃত্যুর ফলে তার পুত্র সপ্তম এডোয়ার্ড ইংল্যান্ডের রাজা নিযুক্ত (১৯০২)
ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ভারত ছাড় বা বিয়াল্লিশের আগস্ট আন্দোলন শুরু (১৯৪২)
মালয়েশিয়া ফেডারেশন থেকে সিঙ্গাপুরের স্বাধীনতা ঘোষণা (১৯৬৪)
জাপানের নাগাসাকিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক দ্বিতীয় আণবিক বোমা বর্ষণ (১৯৪৫)
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সনের পদত্যাগ। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটিই প্রথম কোনো প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ (১৯৭৪)
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কুয়েত-ইরাক সংযুক্তি খারিজ (১৯৯০)
জেট ইঞ্জিনের জনক স্যার ফ্রাঙ্ক হুইটলের মৃত্যু (১৯৯৬)

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)