ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ২৩ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ১ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৬ মুহাররম, ১৪৪১

এই দিনে ইতিহাসের এই দিনে

ইতিহাসের এই দিনে

আজ (রোববার) ০১লা সেপ্টেম্বর’২০১৯

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-(বিএনপি)প্রতিষ্ঠা দিবস
আজ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-(বিএনপি) প্রতিষ্ঠার দিন। ১৯৭৮ সালের এই দিনে এ দল গঠন করে জিয়াউর রহমান এর চেয়ারম্যান হন। বিএনপি প্রথম সংসদ নির্বাচনে ২০৮টি আসন লাভ করে। উপরাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার গঠন করেছিলেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল)। ১৯৭৮ এর ১ মে জাগদল, ভাসানী ন্যাপ, ইউনাইটেড পিপলস পার্ট (ইউপিপি), মুসলিম লীগ, তফসিলী ফেডারেশনের সমন্বয়ে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট গঠন ও ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মনোনীত হন জিয়াউর রহমান । ১৯৭৮-এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। ১৯৭৮ এর ৩ জুন আলীগের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক ঐক্যজোটের প্রার্থী জেনারেল (অবঃ) এমএ জি ওসমানীকে প্রায় এক কোটি দশ লাখ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন । ৭৮’র ২৮ আগস্ট জাবদলে যোগ দেন। ৩ দিন পর ১ সেপ্টেম্বর তিনি নিজেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-(বিএনপি) গঠন করেন।

(শাহ আজিজের মৃত্যু)
সুবক্তা, দক্ষ পালামেন্টারিয়ান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমানের আজ মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৮৯ সালের এই দিনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন । একজন আইনজীবী হিসেবেও খ্যাতিমান ছিলেন শাহ আজিজ। তার জন্ম ১৯২৫ সালের ২৩ নভেম্বর কুষ্টিয়ায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ল’ পাস করেন অবিভক্ত বাংলার অন্যতম খ্যাতনামা ছাত্রনেতা হিসেবে ব্যাপক খ্যাতি ছিলো তার নিখিল বঙ্গ মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ব্যাপক ভূমিকা রাখেন পাকিস্তান সৃষ্টির আন্দোলনে। পাকিস্তান সৃষ্টির পর কলকাতা থেকে ঢাকায় এসে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগের যুগ্ম সম্পাদক নিযুক্ত হন। ৫২’র ভাষা আন্দোলনে বিরোধী ভূমিকা নেন। ওই বছরই হন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক। ‘৬২ তে মৌলিক গণতন্ত্র প্রথায় কুষ্টিয়া থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দুিতায় জাতীয় পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই বছর হোসেন শহীদ সোহরাওয়াদীর এনডিএফ-এ যোগ দেন। ৬৪ তে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নিখিল পাকিস্তান কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ’৬৫ তে পুনরায় জাতীয় পরিষদ সদস্য নির্বাচিত ও সংযুক্ত বিরোধী দলের উপনেতা নির্বাচিত হন । আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী পক্ষের অন্যতম আইনজীবীও ছিলেন তিনি । – দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ৭০ সালে বহিষ্কৃত হন আওয়ামী লীগ থেকে। ’৭১-এ স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেন। স্বাধীনতার পর দালাল আইনে গ্রেফতার হন। ’৭৩-এ সাধারণ ক্ষমায় মুক্তিলাভ ৷ ‘৭৬-এ সবুর খানের নেতৃত্বে মুসলিম লীগ পুনরুজ্জীবিত করে এর সাধারণ সম্পাদক হন। ’৭৮-এ জিয়াউর রহমান সরকারের শ্রম ও শিল্পমন্ত্রী এবং পরে প্রধানমন্ত্রী হন। সংসদে একজন সুবক্তা, একজন বাংলা, ইংরেজি, উর্দু, ফার্সি, আরবি ভাষায় অগাধ পা-িত্য ছিলো তার। ৮৫ তে বিএনপির আলাদা গ্রুপ গঠন এবং এরশাদের জাতীয় ফ্রন্টে যোগদান করেন। ৮৯ সালে আবার ফিরে আসেন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপিতে। তার ক’দিন পরই মৃত্যুবর ।

(বিমান দুর্ঘটনায় খাদেমল বাশারের মৃত্যু)
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং স্বাধীনতার পর বিমান বাহিনী পুনর্গঠনে নেতৃত্বা দানকার সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান বীরেত্তম খাদেমূল বাশারের আজ মৃত্যু দিবস। ঢাকা বিমান ঘাটিতে এক বিমান দুর্ঘটনায় ১৯৭৬ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। খাদেমুল বাশারের জন্ম ১৯৩৫ সালে বগুড়ায়। সাতক্ষীরায় প্রাণনাত স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং রাজশাহী কলেজ থেকে আইএসসি পাসের পর ১৯৫ সালে ক্যাডেট হিসাবে যোগ দেন পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে। দক্ষতা ও নৈপুণ্যের জন্যে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর নবগঠিত বোমারু স্কোয়াড্রনের একটির অধিনায়ক ছিলেন তিনি। তিনিই একমাত্র বাঙালি যিনি এ সম্মান লাভ করেছিলেন । এজন্যে টিবিটি খেতাব পেয়েছেন । ১৯৭০-এ উইং কমান্ডার পদোন্নতি এবং রাডার স্কোয়াড্রন কমান্ডার হিসেবে ঢাকায় বদলি । ১৯৭১-এ স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ। বৈমানিক হওয়া সত্ত্বেও রংপুর-দিনাজপুর জেলা সমন্বয়ে গঠিত ৬ নম্বর সেক্টরের যুদ্ধ পরিচালনা করেন। স্বাধীনতার পর রংপুর ব্রিগেড কমান্ডার নিযুক্ত হন। ’৭২-এ হন গ্রুপ ক্যাপ্টেন। এ দেশের যুদ্ধবিধ্বস্ত বিমান ও ঘাটি পুনর্গঠনে তার অবদান অপরিসীম। ১৯৭৩-এ পদোন্নতি পান এয়ার কমোডর পদে ‘৭৬-এ বিমান বাহিনীর স্টাফ প্রধান। একই বছরের ৩ মে এয়ার ভাইস মার্শাল পদে পদোন্নতি এবং একই সঙ্গে উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত হন। এর কয়েক মাস পরই পহেলা সেপ্টেম্বর তারিখে সংঘটিত বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন।

১১৭৪ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে ইতালীর পিসা শহরে বিখ্যাত পিসার হেলান টাওয়ার নির্মাণ কাজ শুরু হয়। টাওয়ারের চুড়ায় একটি বৃহৎ ঘড়ি স্থাপন করাই ছিল এটি নির্মাণের উদ্দেশ্য। কিন্তু ৫৫ মিটার উচ্চতা সম্পন্ন এই টাওয়ার নির্মাণ কাজ শুরু করার কিছু দিন পর নীচ থেকে প্রায় পাঁচ মিটার উপরে গিয়ে টাওয়ারটি হেলে বাঁকা হয়ে যায়। এ কারণে এটি পিসার হেলান টাওয়ার নামে পরিচিত। বর্তমানে এটি বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় কিছুটা সংস্কার করা হয়েছে।

১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে জার্মানীর সেনারা পোল্যান্ড আক্রমণ করলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। হিটলার জার্মানীতে উগ্র জাতীয়তাবাদী চেতনা উস্কে দিয়ে একটি শক্তিশালী সেনা বাহিনী গঠন করে এবং বর্ণবাদী চিন্তাদর্শন ও সম্প্রসারণকামী নীতির ব্যাখ্যা তুলে ধরে। হিটলার অতি অল্প সময়ের মধ্যে ইউরোপের একটা বড় অংশ এবং উত্তর আফ্রিকার বেশ কিছু জায়গা দখল করে নিতে সক্ষম হয়। তাছাড়া দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে জার্মানীর দুই মিত্র ইতালী ও জাপানও এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশের অনেক দেশ দখল করে নিতে সক্ষম হয়।কিন্তু সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে যুদ্ধে জার্মান বাহিনী পরাজিত হওয়ায় ১৯৪৩ সাল থেকে একের পর এক জার্মানীর পতন প্রক্রিয়া শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ১৯৪৫ সালের আগষ্টে জাপানে আণবিক বোমা নিক্ষেপের আগ পর্যন্ত দেশটি প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে থাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রায় চার কোটি মানুষ নিহত হয়।

১৯৬১ সালের এই দিনে সাবেক ইউগোশ্লাভিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে ২৫টি দেশের প্রতিনিধিদের অংশ গ্রহণে জোট নিরপেক্ষ দেশগুলোর প্রথম শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রাচ্য ও পশ্চিমা ব্লকের মোকাবেলায় তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি সমর্থন জানানোর উদ্দেশ্যে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন গড়ে তোলা হয়। এই জোটে অন্তর্ভুক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল সদস্য দেশগুলো প্রাচ্য কিংবা পাশ্চাত্যের কোন বৃহৎ শক্তির সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটবদ্ধ হতে পারবে না। জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন বা ন্যামের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দুটি ধারা বা পক্ষ লক্ষ্য করা যায়। এক পক্ষ উপনিবেশবাদী দেশগুলোর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। এদের মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নেহেরু, ইন্দোনেশিয়ার আহমদ সুকর্ণ ও সাবেক ইউগোশ্লাভিয়ার নেতা টিটোর মত ব্যক্তিত্বদের কথা উল্লেখ করা যায় যারা আপোষহীন নেতা হিসাবে পরিচিতি পান। অন্যপক্ষে ন্যামের সদস্য এমন কিছু দেশ ছিল যারা পরাশক্তিগুলোর উপর নির্ভরশীল ছিল এবং তারা বৃহৎ শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিতে চাইতো না। জোট নিরপেক্ষ দেশগুলোর মধ্যে এখনও মত বিরোধ রয়েছে এবং এ কারণে এটি বৃহৎ শক্তিগুলোর মোকাবেলায় এখন পর্যন্ত কার্যকরী কোন ভূমিকা রাখাতে পারেনি।

১৯৬৯ সালের এই দিনে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কর্ণেল গাদ্দাফি লিবিয়ার ক্ষমতা দখল করেন। সামরিক অভ্যুত্থানের আগে লিবিয়ায় রাজতন্ত্রী শাসন ব্যবস্থা চালু ছিল। সর্বশেষ বাদশাহ ইদ্রিস চিকিৎসার জন্য তুরস্কে গেলে সেই সুযোগে কর্ণেল গাদ্দাফীর নেতৃত্বে একদল তরুণ সেনা অফিসার ক্ষমতা দখল করে লিবিয়ায় সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করেন। এরপর থেকে লিবিয়া সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের দিকে ঝুকে পড়ে এবং সেদেশে বৃটিশ ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিও উচ্ছেদ করা হয়। উত্তর আফ্রিকা ও ভূমধ্য সাগরের তীরে লিবিয়ার অবস্থান।

১৯৭৮ সালের এই দিনে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল” বা বি.এন.পি. প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। প্রথমে তিনি “জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক” নামে একটি দল প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর আরো কয়েকটি দলের সমন্বয়ে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট গঠনের পর ১লা সেপ্টেম্বর বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠা করা হয় বিএনপি। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও ইসলামী মূল্যবোধকে আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করে ১৯ দফা কর্মসূচী নিয়ে যাত্রা শুরু হয় বিএনপির। সমাজতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির বিপরীতে জিয়ার বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের নতুন দর্শন দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি ও জনসমর্থন পেয়েছিল, যা আজো অব্যাহত রয়েছে। এরপর ১৯৮১ সালের ৩০শে মে একদল বিপথগামী সৈন্যের হাতে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপিতে নেতৃত্ব সংকট দেখা দিলে এক পর্যায়ে জিয়ার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দলের হাল ধরেন। বর্তমানে বিএনপি বাংলাদেশের অন্যতম একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত।

ফ্রান্সের রাজা পঞ্চম লুই’র মৃত্যু (১৭১৫)
ব্রিটিশ রাজ কর্তৃক বঙ্গভঙ্গের নির্দেশ জারি (১৯০৫)
বঙ্গবীর ওসমানীর জন্ম (১৯১৮)
জাপানের টোকিও এবং ইয়াকোহামায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২ লাখ লোকের মৃত্যু (১৯২৩)
জার্মানির পোল্যান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা (১৯৩৯)
আজাদ হিন্দু ফৌজ প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষণা (১৯৪২)
প্রিন্সিপাল আবুল কাশেমের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠা (১৯৪৭)
ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের মৃত্যু (১৯৫০)
কর্নেল গাদ্দাফির লিবিয়ার ক্ষমতা দখল (১৯৬৯)
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা (১৯৭৮)
বিশ্ব ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন কর্তৃক ১ সেপ্টেম্বরকে যুদ্ধবিরোধী দিবস ঘোষণা (১৯৮৫)
কৃষ্ণসাগরে সোভিয়েত জাহাজ ডুবে ৪ শতাধিক যাত্রী নিহত (১৯৮৬)

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)