আপডেট ২৪ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ১ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৬ মুহাররম, ১৪৪১

এই দিনে ইতিহাসের এই দিনে

ইতিহাসের এই দিনে

আজ (বৃহস্পতিবার) ০৫ সেপ্টেম্বর’২০১৯

আবদুল আলীমের মৃত্যু
পল্লীগীতির সম্রাট আবদুল আলীমের মৃত্যুদিবস আজ। ১৯৭৪-এর এই দিনে এই মরমী শিল্পী ইহলোক ত্যাগ করেন। মরমী লোক সঙ্গীতের একনিষ্ঠ গায়ক আবদুল আলীমের অভাব দূর হবার মতো নয়। তার গাওয়া দুয়ারে আইসাছে পালকি, নাইয়ারে, নায়ের বাদাম তুইলা, বধূর বাড়ি মধুপুর, এই যে দুনিয়া কিসের লাগিয়া, রয়েছে।
১৯৩১ সালের ২৭ জুলাই মুর্শিদাবাদের তালিবপুরে এক নিম্নবিত্ত পরিবারে আবদুল আলীমের জন্ম। তালিবপুর স্কুলে পড়েছেন ৬ষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত। ছোট্টবেলা থেকেই গান বাজনার প্রতি ছিলো তার অদম্য আগ্রহ। ওস্তাদ ধরে গান শেখা হয়নি। অন্যের গাওয়া গান শুনে শিখেছেন, পালা-পার্বনে ওইসব গান গেয়ে মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে তার নাম। কলকাতার মেয়র সৈয়দ বদরুদ্দোজা আবদুল আলীমের প্রতিভা দেখে তাকে কলকাতায় নিয়ে ওস্তাদ সৈয়দ গোলাম ওলির হাতে তুলে দেন। দরাজগলার গান অল্প সময়ের মধ্যে জনপ্রিয় করে তোলে আবদুল আলীমকে । তার সুকণ্ঠে মুগ্ধ হয়েছিলেন শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, কবি কাজী নজরুল ইসলাম আব্বাস উদ্দিন। ১৪ বছর বয়সে তাঁর গানের গ্রামোফোন রেকর্ড প্রকাশ হয়। বিখ্যাত দোতারা বাদক কানাইলাল শীলের কাছে আবদুল আলীম কিছুদিন শিক্ষা নেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর ১৯৪৮ সালে তিনি কলকাতা ছেড়ে ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকা বেতার থেকে নিয়মিত পল্লীগীতি পরিবেশন করেন। মেগাফোন, কলম্বিয়া, হিজ মাস্টার্স ভয়েস, গ্রামোফোন কোম্পানি তার বহু গান প্রকাশ করে। ঢাকার প্রথম চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশসহ প্রায় অর্ধশত চলচ্চিত্রের গানে তিনি কণ্ঠ দেন। সঙ্গীতে বিশেষ অবদান রাখায় বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৭ সালে তাকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে।

১৮৮৭ সালের এই দিনে চীনের বৃহত্তম হোয়াং হো নদীর ব্যাপক জলোচ্ছাস শুরু হয়। জলোচ্ছাসের ফলে সৃষ্ট বন্যা প্রায় এক মাসেরও বেশী সময় ধরে অব্যাহত থাকে। চীনের ইতিহাসে ভয়াবহ ঐ বন্যা ও বন্যা পরবর্তী পরস্থিতির কারণে প্রায় নয় লক্ষ মানুষ প্রাণ হারায়। এছাড়া বেশ কয়েকটি শহর, শতশত গ্রাম ও বহু ফসলী জমি সম্পূর্ণ পানির নীচে তলিয়ে যায়। হোয়াং হো নদীর দৈর্ঘ্য পাঁচ হাজার ২০০ কিলোমিটার এবং এটি পূর্ব চীনে অবস্থিত। হোয়াং হো নদীকে চীনের দু:খ বলা হয়ে থাকে।

১৯৯৩ সালের এই দিনে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মরোক্কর কাসাব্লাঙ্কা শহরে বিশ্বের অন্যতম একটি বৃহৎ মসজিদ উদ্বোধন করা হয়। এই মসজিদ তৈরীতে আধুনিক প্রযুক্তি ও ইসলামী শিল্পকলা ব্যবহৃত হয়। মসজিদের ভেতরে ২৫ হাজার এবং মসজিদের আশেপাশের জায়গাগুলোতে আরো ৭৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবে। মসজিদের ভেতরে নামাজ পড়ার প্রধান জায়গাটিতে জ্যামিতিক পদ্ধতিতে চমৎকার প্লাষ্টারিং এর কারুকাজ করা হয়েছে যা মসজিদের সৌন্দর্যকে বহু গুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। মসজিদের পাশে একটি গ্রন্থাগার ছাড়াও ধর্ম শিক্ষা কেন্দ্রও রয়েছে ।

ফার্সী ১৩৫৭ সালের এই দিনে ইরানের স্বৈর শাসক রেজা শাহর বিরুদ্ধে ইরানের ধর্মপ্রাণ ও বিপ্লবী জনতা দেশ ব্যাপী ব্যাপক বিক্ষোভ সমাবেশ করে। গণআন্দোলনে ভীত রেজা শাহ যে কোন বিক্ষোভ সমাবেশ নিষিদ্ধ করে। কিন্তু ইরাকের নাজাফে অবস্থানকারী মরহুম ইমাম খোমেনী (র:) শাহের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও বিক্ষোভ কর্মসূচী অব্যাহত রাখার জন্য ইরানের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি ইসলামের লক্ষ্য অর্জনের জন্য এই বিক্ষোভ কর্মসূচীকে ইবাদত হিসাবে অভিহিত করে বলেন, স্বৈর শাসনের অবসান না ঘটা পর্যন্ত এ আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে হবে ।

আরবী ৫৭৬ সালের এই দিনে ইরানের খ্যাতনামা ব্যাকরণবিদ, কবি ও লেখক মোহাম্মদ বিন মোহাম্মদ পরলোক গমন করেন। তিনি ইবনে খোরাসানি নামে বেশী পরিচিত। হিজরী ৪৯৪ সালে ইরানের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় খোরাসানে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। ইবনে খোরাসানি শিক্ষা গ্রহণের জন্য বাগদাদ সফর করেন এবং পরে তিনি সেখানেই আবাস গড়ে তোলেন। ইবনে খোরাসানি বাগদাদে সে সময়কার খ্যাতনামা শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং তিনি ছিলেন প্রত্যুপন্নমতি বা উপস্থিত বুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তি। তার লেখা দশ খন্ডের কবিতার বইএর কথা উল্লেখ করা যায় যার অধিকাংশই আজ আর সংরক্ষিত নেই ।

ইতিহাসের এই দিনে আরো যেসব ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে

বাংলাদেশের মরমি কণ্ঠশিল্পী আবদুল আলীম আজ থেকে ৩৪ বছর আগে এই দিনে পরলোক গমন করেন ।

১৫৬৬ সালে তুর্কী সুলতান সোলাইমান আজম ইন্তেকাল করেন।
১৯০৫ সালে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ।

চারটি যুদ্ধজাহাজ নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নৌবাহিনী গঠন (১৬১২)
ব্রিটিশদের সঙ্গে যুদ্ধে মীর কাশিমের পরাজয় (১৭৬৩)
ফ্রান্সের বিরুদ্ধে তুরস্কের যুদ্ধ ঘোষণা (১৭৯৮)
পোর্ট মাউথের সন্ধি। রুশ-জাপান যুদ্ধের অবসান (১৯০৫)
জার্মানিতে অলিম্পিক ক্রীড়াস্থলে ১১ ইসরাইলিকে হত্যা (১৯৭২)
পি ডব্লিউ বোথা দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত (১৯৮৪)
নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মাদার তেরেসার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় মৃত্যু (১৯৯৭)

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)