ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১৫ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ২৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৩ রবিউস-সানি, ১৪৪১

এই দিনে ইতিহাসের এই দিনে

ইতিহাসের এই দিনে

আজ (শুক্রবার) ২৭ সেপ্টেম্বর’২০১৯

(রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যু)
সংস্কারক, বহুভাষাবিদ, চিন্তাবিদ, রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যুদিবস আজ। ১৮৩৩ সালের এই দিনে ইংল্যান্ডে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সেখানেই সমাহিত আছেন তিনি। উনবিংশ শতাব্দীর বাংলার নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ রাজা রামমোহন রায় পাশ্চাত্য জ্ঞান, রীতিনীতি ও চিন্তাধারার সঙ্গে ভারতীয় জ্ঞান, রীতিনীতি ও চিন্তাধারার সমন্বয় সৃষ্টির প্রথম উদ্যোক্তা। বাংলা গদ্যের বিকাশ সাধনে তার অবদান স্মরণীয়। প্রাচীন সংস্কৃত শাস্ত্রসমূহকে বাংলায় প্রকাশ করে বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি। বেদান্তগ্রন্থ, বেদান্তসার, গৌড়ীয় ব্যাকরণসহ ৩০টি বাংলা গ্রন্থ ছাড়াও প্রায় ৪০টির মতো ইংরেজি রচনা রয়েছে রাজ রামমোহন রায়ের । তার জন্ম ১৭৭২ সালে হুগলীর রাধানগরে। তরুণ বয়সেই তার মধ্যে আধ্যাত্মিক চিন্তার উন্মেষ ঘটে। যৌবনে কিছুকাল পিতার জমিদারির তত্ত্বাবধান করেন। পরে নিজেই অর্থ অর্থনৈতিক প্রথম রচনা বত্তে সমৃদ্ধ হন। ইংরেজ কোম্পানির কাগজ ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করে সফলতা পান। ১৮০৩ সালে মুর্শিদাবাদে একেশ্বরবাদ সম্পর্কে তার তুহফাৎউল মুয়াহহিদীন প্রকাশিত হয় আরবি এবং ফার্সি ভাষায়। ধর্মীয় গোঁড়ামি ত্যাগ করে পাশ্চাত্য ধারায় জীবনযাপন করেছেন। ১৮১৫ তে একেশ্বর উপাসনার উদ্দেশ্যে গঠন করেন আত্মীয়সভা। তার প্রচারিত ধর্মমতের নাম দেয়া হয় ব্রাহ্মধর্ম। এ নিয়ে রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের সঙ্গে তার তুমুল বিরোধ বাধে। বাইবেলের ব্যাখ্যা নিয়ে বিরোধ বাধে পাদ্রিদের সঙ্গেও। ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরসহ বিভিন্ন খ্যাতিমানদের সহায়তায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ব্রাহ্মসমাজ। পাশ্চাত্য শিক্ষার বিস্তারকল্পে কলকাতায় প্রতিষ্ঠা করেন হিন্দু কলেজ, অ্যাংলো হিন্দু স্কুল। হিন্দুসমাজের প্রচলিত সহমরণ (সতীদাহ প্রথা) এর বিলোপ ঘটানো তার অন্যতম কীর্তি। সংবাদপত্রের বিকাশেও তার অবদান অপরিসীম। ইংরেজি-বাংলা দু’ভাষাতেই তিনি প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণ সেবধি। বাংলায় সম্বাদ কৌমুদী বহুল আলোচিত পত্রিকা । ফারসি ভাষায় করেছেন মীরাৎ-উল আখবার। দিল্লীর বাদশা কর্তৃক রাজা উপাধি লাভের পর রাজার দূত হিসেবে ইংল্যান্ড যান। তিনিই প্রথম বাঙালি যিনি ধমীয় কুসংস্কার উপেক্ষা করে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ইংল্যান্ড যান ।

(কামিনী রায়ের মৃত্যু)
কবি কামিনী রায়ের মৃত্যুদিন আজ। বাঙালী নারী জাগরণের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। তার কবিতায় জীবনের সুখ-দুঃখ, আশা-আকাক্সক্ষা ও আনন্দ-বেদনার সহজ-সরল বলীল প্রকাশ ঘটেছে। আলো ও ছায়া, নির্মাল্য, পৌরানিকী, গুঞ্জন তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। ঐতিহাসিক, ঔপন্যাসিক চন্ডীচরণ সেনের কন্যা কামিনী রায় ১৮৮৬ সালে কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে সংস্কৃতিতে অনার্সসহ বিএ পাস করেন। পরে ওই কলেজে তিনি অধ্যাপনাও করেছেন। ১৯২২-১৯২৩ সালে নারী শ্রমিক তদন্ত কমিশনের অন্যতম সদস্য এবং ১৯৩২ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সহসভানেত্রী হন। ১৯০৯ সালে স্বামী কেদারনাথ রায়ের অকাল মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে অনেকটা ভেঙে পড়েছিলেন। তার কাব্য সাধনার মধ্যেও সেই বেদনার ছাপ মূর্ত হয়েছে। ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কবি কামিনী রায় ইহলোক ত্যাগ করেন ।
(ময়েজউদ্দিন খুন)
এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ১৯৮৪’র এই দিনে কালীগঞ্জে হরতালের নেতৃত্ব দানকালে দুষ্কৃতকারীর গুলিতে নিহত হন বিশিষ্ট রাজনীতিক-আইনজীবী ময়েজউদ্দিন । হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোটে খ্যাতনামা আইনজীবী ছিলেন তিনি। সেইসঙ্গে আলীগের অন্যতম নেতা। ময়েজউদিনের জন্ম ১৯৩৩ সালে গাজীপুরের কালীগঞ্জে। ১৯৫৪ তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ এবং ৫৫ তে এলএলবি পাস করে শুরু করেন আইন ব্যবসা। পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্য ছাড়াও তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সমাজসেবামূলক কর্মকা-ে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৪ পর্যন্ত ছিলেন বাংলাদেশ রেডক্রস সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট । বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতির মহাসচিব ছিলেন অনেক দিন ।

১৯৪০ সালের এই দিনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানী, ইতালী ও জাপানের মধ্যে ঐতিহাসিক মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়ের্ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে জাপানের হামলা এবং এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িয়ে পড়ার ঘটনা ছিল এই চুক্তিরই ফল ।

১৯৪১ সালের এই দিনে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জার্মান বাহিনী বড় বিজয় অর্জন করে। সোভিয়েত ইউনিয়নের দক্ষিণভাগে রুশ সেনারা ক্লান্ত হয়ে পড়ায় এবং তাদের সামরিক সরঞ্জাম শেষ হয়ে আসায় জার্মান বাহিনীর সর্বাত্মক হামলা প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়। ঐ যুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের ছয় লাখেরও বেশী সৈন্য বন্দী হয়েছিল এবং তাদের প্রায় এক হাজার ২০০টি ট্যাংক ও পাঁচ হাজার ৪০০টি কামান হয় ক্ষতিগ্রস্ত হয় অথবা জার্মান বাহিনী সেগুলোকে গণিমত হিসাবে নিয়ে নেয়। অবশ্য এর কিছু দিন পর শীতকাল এসে পড়ায় এবং প্রচন্ড বৃষ্টি ও বরফ পড়া শুরু হওয়ায় জার্মান বাহিনী বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের সেনারা জার্মান সেনাদের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান শুরু করে ।

১৯৪৯ সালের এই দিনে বেইজিংকে আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের রাজধানী হিসাবে ঘোষণা করা হয়। বেইজিং চীনের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত এবং রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসাবে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসাবে বিবেচিত। মাওবাদী কমিউনিষ্ট পন্থীরা চীনের ক্ষমতা গ্রহণের পর এবং বিরোধী নেতা চিয়ান কাই চেক চীনের মূল ভখন্ড থেকে তাইওয়ান দ্বীপে স্থানান্তরিত হওয়ার পর বেইজিংকে রাজধানী হিসাবে ঘোষণা করা হয়।

১৯৯৬ সালের এই দিনে তালেবান যোদ্ধারা আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখল করে নেয়। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে এবং পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় তালেবান গঠিত হয়। তালেবানরা প্রথমে আফগানিস্তানের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চল দখল করে নেয় এবং এরপর পূর্বাঞ্চলিয় রাজধানী কাবুলের দিকে অগ্রসর হয়। তালেবানরা রাজধানী দখলের একদিন আগেই আহমেদ শাহ মাসুদের নেতৃত্বাধীন আফগানিস্তানের সরকারী বাহিনী কাবুল ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। তালেবানরা কাবুল দখলের পর ইসলামকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে। তারা ইসলামের নামে অত্যন্ত কঠোরতা অবলবম্বন করে এবং জনগণ বিশেষ করে নারীদের সাথে তারা মধ্যযুগিয় কায়দায় অত্যন্ত নির্মম আচরণ করে। ২০০১ সালে মার্কিনীদের সামরিক আগ্রাসনে তালেবান ক্ষমতা হারায়।

হিজরী ১১২৫ সালের এই দিনে ইরানের প্রখ্যাত আলেম মোহাম্মদ খনসারি পরলোক গমন করেন। তিনি জামালুদ্দীন নামেই বেশী পরিচিত ছিলেন। তিনি ধর্মীয় পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন এবং ইস্পাহান শহরে কালাম, যুক্তিবিদ্যা, দর্শন, ফিকাহ, ওসুলে ফিকাহ ও কোরআনের তাফসীরের উপর ব্যাপক পড়ালেখা করেন। এছাড়া জামালুদ্দীন খনসারি ইবনে সিনার চিকিৎসা বিষয়ক এশারাত ও শাফা গ্রন্থের ব্যাখ্যাও লিপিবব্ধ করেন।

বিশ্ব পর্যটন দিবস। ১৯৮০ সাল থেকে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়ে আসছে। ১৯৭৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে স্পেনে বিশ্ব পর্যটন সংস্খার জেনারেল অ্যাসেম্বলি থেকে এই দিনে এ দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য হলো পর্যটন বিষয়ক সচেতনতা গড়ে তোলা। একই সাথে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পর্যটন শিল্পের সাথে সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর একটা যোগসূত্র স্খাপন করার মধ্য দিয়ে দারিদ্র্যতামুক্ত বিশ্ব গড়ে তোলা ও এর উদ্দেশ্য।

চীনে প্রবল ভূমিকম্পে এক লাখ লোকের প্রাণহানি (১২৯০)
মীর জাফরকে গদিচ্যুত করে মীর কাশিম বাংলার নবাব পদে অধিষ্ঠিত (১৭৬০)
হায়দার আলী ও ব্রিটিশ সেনাদের মধ্যে শালনগড় যুদ্ধ শুরু (১৭৮১)
স্বাধীনতা সংগ্রামী বরকতুল্লাহর মৃত্যু (১৯২৭)
জার্মান বাহিনীর কাছে ওয়ারশের আত্মসমর্পণ (১৯৩৯)
সশস্ত্র বিপ্লবী রাজনীতিক সিরাজ শিকদারের জন্ম (১৯৪৪)
বিশ্ব সেরা মহিলা ক্রীড়াবিদ ডিডরিকসন জাহরিয়াসের মৃত্যু (১৯৫৬)
ভারতীয় সাতারু মিহির সেনের ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম (১৯৫৮)
শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী সলোমান বন্দর নায়েকে আততায়ীর হাতে নিহত (১৯৫৯)
আফগানিস্তানে তালেবানদের কাবুল দখল; প্রেসিডেন্ট নজিবুল্লাহকে ফাঁসি (১৯৯৬)

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)