আপডেট অক্টোবর ১৩, ২০১৯

ঢাকা রবিবার, ২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৮ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

এই দিনে ইতিহাসের এই দিনে

ইতিহাসের এই দিনে

আজ (রোববার) ১৩ অক্টোবর’২০১৯

(গেরিলা বাহিনীর হাতে গভর্নর মোনেম খান নিহত)
১৩ অক্টোবর একটি উল্লেখযোগ্য দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিবাহিনীর একটি গেরিলা গ্রুপ মোনেম খানকে তার বনানীস্থ বাসভবনে গুলি করে । আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে তার মৃত্যু ঘটে। যদিও তখন তিনি পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন না। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধী তৎপরতা অব্যাহত রাখেন। মৃত্যুর দু’বছর পূর্বেই ৬৯-এ গণআন্দোলনের চাপে জেনারেল আইয়ুব খান তাকে পদচ্যুত করতে বাধ্য হন।

মোনেম খানের জন্ম কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে ১৮৯৯ সালে। ১৯১৬ সালে তিনি ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে এন্ট্রান্স, ১৯১৮ সালে ঢাকা কলেজ থেকে আইএ এবং ১৯২০ সালে স্নাতক পাস করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন শাস্ত্রে উচ্চডিগ্রি নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৪ সালে পুনরায় আইন ডিগ্রি নেন। ১৯৩৫ সালে ময়মনসিংহ জেলা মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৫৫ পর্যন্ত এ পদে ছিলেন। পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও নিখিল পাকিস্তান মুসলিম লীগের কাউন্সিলরও ছিলেন । ৫২’র ভাষা আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন প্রকাশ্যে ।

৬২ তে ময়মনসিংহ-৮ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ সদস্য হন। একই বছরের জুনে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হন। আইয়ুব খানের খুব পছন্দের লোক ছিলেন মোনেম খান। যে কারণে ওই বছরের অক্টোবরেই আইয়ুব খান তাকে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর নিযুক্ত করেন। আইয়ুব খানের একনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে তিনি পূর্ব বাংলার স্বাধিকার আন্দোলন-সংগ্রামের প্রচ- বিরোধিতা করেন। আন্দোলন দমনে নানা কলাকৌশল অবলম্বন করেন। মুসলিম লীগের আদর্শ ও দ্বিজাতিতত্ত্বে আজীবন বিশ্বাসী ছিলেন তিনি। তার শাসন-প্রশাসনের প্রায় প্রতিটি পদক্ষেপই ছিলো বাঙালিদের বিরুদ্ধে। এ কারণে বাঙালি মুক্তিসেনা ও আন্দোলনকারীরা তার ওপর ছিলো মহাক্ষিপ্ত। যার পরিণতি ৭১’র ১৩ অক্টোবর তার বাসভবনে গেরিলা হামলা ।

(ইলা মিত্রের মৃত্যু)
উপমহাদেশের কমিউনিষ্ট আন্দোলনের কিংবদন্তী নেত্রী ইলা মিত্র ২০০২ সালের ১৩ অক্টোবর কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭৭ বছর। অনেক আন্দোলন-সংগ্রামের আদর্শবাদী নেত্রী তিনি। ইলা মিত্র সিপিআই নেত্রী হিসেবে ৪ বার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধান সভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘদিন কলেজে অধ্যাপনা করেন। ১৯৮৯ সালে কলকাতা সিটি কলেজের অধ্যাপনা থেকে অবসর নেন । দীর্ঘ কারাজীবনও ভোগ করেছেন বাম আন্দোলন করতে গিয়ে একজন খ্যাতিমান লেখিকা হিসেবেও তিনি নাম করেছেন। তার জেলখানার চিঠি, হিরোশিমার মেয়ে, মনেপ্রাণে (দুই খ-ে), লেনিনের জীবনী প্রভৃতি বেশ সাড়া জাগানো গ্রন্থ।

(অমলেন্দু বিশ্বাসের মৃত্যু)
যাত্রা শিল্পের মহানায়ক বা যাত্রা স¤্রাট খ্যাত অমলেন্দু বিশ্বাসের মৃত্যুদিন আজ। ১৯৮৭ সালের এই দিনে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। ১৯২৫ সালে তিনি জন্মেছিলেন তার পিতার কর্মক্ষেত্র বার্মায়। স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ ভারতীয় বিমান বাহিনীতে চাকরি নেন। যুদ্ধের পর কিছুদিন চাকরি করেন রেলওয়ের্তে। এ চাকরি ছেড়ে যোগ দেন বাবুল অপেরায়। প্রায় ২৫ বছর বিভিন্ন যাত্রা দলে অভিনেতা ও নির্দেশক হিসেবে কাজ করেছেন। প্রায় দেড় দশক ছিলেন নিজের প্রতিষ্ঠিত চারনিক যাত্রা দলের পরিচালক। ১৯৬১ সালে তার যাত্রার জুটি নায়িকা জোৎস্নাকে বিয়ে করেন। মধুসূদন, জানোয়ার, লেনিন, আচল পয়সা, ভাওয়াল রাজা, সন্ন্যাসী, সিরাজুদ্দৌলা, স¤্রাট জাহাঙ্গীর ইত্যাদি যাত্রাপালায় নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করে এ অঞ্চল মাত করে দিয়েছেন। ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের সদস্য ছিলেন তিনি । যাত্রা শিল্পে অনন্য অবদানের জন্যে বাচসাস, সিকোয়েন্স, থিয়েটার ও শিল্পকলা একাডেমী পুরস্কার পেয়েছেন। মরণোত্তর পেয়েছেন একুশে পদক। শিল্পীজীবনে বসবাস করেছেন মানিকগঞ্জের জাবড়া গ্রামে। বাংলা ছায়াছবির নায়িকা অরুনা বিশ্বাস তার মেয়ে।

খ্রীস্টপূর্ব ৫৩৯ সালের এই দিনে ইরানে হাখামানেশিয় সা¤্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সাইরাস ইরাকের ঐতিহাসিক বাবেল শহর দখল করে। বাবেল শহরটি অত্যন্ত মজবুত ও দুর্ভেদ্য প্রাচীর দিয়ে ঘেরা থাকার কারণে এই শহরটি দখল করা ছিল অসম্ভব ব্যাপার। তবে শহরটির মাঝখান দিয়ে দজলা নদী প্রবাহিত ছিল। বাদশাহ সাইরাস শহরটি দখলের জন্য নদী পথ ব্যবহার করে শহরের মধ্যে ঢুকে পড়ে শহরটি দখল করে নেয়। ঐ সময় বাবেল ছিল শক্তিমত্তা ও প্রাচুর্যে ভরপুর একটি শহর।

১৯৪৪ সালের এই দিনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ইউগোশ্লাভিয়ার বিখ্যাত নেতা মার্শাল টিটো সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সেনা বাহিনীর সহায়তায় জার্মানীর দখলে থাকা ইউগোশ্লাভিয়ার রাজধানী বেলগ্রেড মুক্ত করতে সক্ষম হন। ১৯৪১ সালে জার্মান বাহিনী হামলা চালিয়ে বেলগ্রেড দখল করে। কিন্তু ইউগোশ্লাভিয়ার জনগণ ও সেনা বাহিনী বেলগ্রেড পুনরুদ্ধারের জন্য জার্মান বাহিনীর বিরুদ্ধে একের পর এক হামলা চালায় এবং রুশ সেনা বাহিনীর সহায়তায় আজকের এই দিনে তারা বেলগ্রেড মুক্ত করতে সক্ষম হয়।

হিজরী ১৩২৩ সালের এই দিনে খ্যাতনামা আলেম ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ শেইখ মোহাম্মদ তাহা ৮৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। শেইখ তাহা ইরাকের নাজাফ শহরে সেসময়কার খ্যাতনামা আলেম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন তৎকালীন সময়ের বিখ্যাত আলেম ও ফকিহ শেইখ মোর্তজা আনসারির ছাত্র। শেইখ তাহা ফিকাহ, ওসুলে ফিকাহ, হাদিস ও কোরানের তাফসির বিষয়ে পান্ডিত্য অর্জন করেন। তিনি ব্জ€˜মাআলেমুল ওসুলের’ ব্যাখ্যা সম্বলিত গ্রন্থ রচনা করেন।

১৯৬৬ সালের এ দিনে বাংলাদেশের প্রখ্যাত চিন্তাবিদ, আইনজীবী, বিচারক ও রাজনীতিক মুহম্মদ ইবরাহিম ঢাকায় পরলোকগমন করেন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনেরও নেতৃত্ব দেন। এই প্রথিতযশা ব্যক্তি জন্মেছিলেন ১৮৯৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার শৈলডুবি গ্রামে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর এবং ঢাকা আইন কলেজ থেকে বিএল ডিগ্রি অর্জন করেন। উদার মনোভাবের অধিকারী মুহম্মদ ইবরাহিম ১৯২০ সালে অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার পরিচালিত শিক্ষা বর্জনের জন্য কংগ্রেসের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নাগপুর সম্মেলনে যোগদান করেছিলেন।

আজকের এই দিনে সংঘটিত আরো কিছু ঘটনার মধ্যে রয়েছে,

৬৩৫ খ্রীস্টাব্দে খালিদ বিন ওয়ালিদ সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক জয় করেন।
১৯৯৯ সালে ভারতে হিন্দুত্ববাদী দলের নেতা অটল বিহারী বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন।
১৯৬৪ সালে বাংলাদেশের বিশিষ্ট কবি গোলাম মোস্তফা ইন্তেকাল করেন।

খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা:)এর দামেস্ক বিজয় (৬৩৫)
মোগল স¤্রাট আকবরের রাজত্বের সূচনা (১৫৫৬)
তামার পয়সার বদলে আনির প্রচলন শুরু (১৭৭০)
হোয়াইট হাউসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত (১৭৯২)
কুইন্সটন হাইডমের যুদ্ধ শুরু (১৮১২)
সিসিলির রাজা জোযামিন মোরাটের মৃত্যুদ- (১৮১৫)
আংকারাকে তুরস্কের নতুন রাজধানী ঘোষণা (১৯২৩)
সাহিত্যিক গোলাম মোস্তফার মৃত্যু (১৯৬৪)
বাজপেয়ীর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ (১৯৯৯)

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)