ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ৪ আশ্বিন, ১৪২৫ , শরৎকাল, ৮ মুহাররম, ১৪৪০

নিসচা সংবাদ, বিনোদন, লিড নিউজ ইলিয়াস কাঞ্চন এর কর্ম ও জীবনের উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘নায়ক তো এমনই’ রিলিজ (ভিডিও)

ইলিয়াস কাঞ্চন এর কর্ম ও জীবনের উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘নায়ক তো এমনই’ রিলিজ (ভিডিও)

ইলিয়াস কাঞ্চন এর কর্ম ও জীবনের উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘নায়ক তো এমনই’ রিলিজ

নিরাপদ নিউজ:  সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একুশে পদক পেয়েছেন সামাজিক আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। গত ২০ ফেব্রুয়ারি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইলিয়াস কাঞ্চনের হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল ৭১ এ ‘নিরাপদ সড়ক চাই’নিসচার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এক প্রীতি সম্মেলন। সম্মেলনে অভ্যাগত অতিথিদের সামনে তুলে ধরা হয় ইলিয়াস কাঞ্চনের কর্ম ও জীবন উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র। প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় তরুন পরিচালক জাফর ফিরোজ। জাফর ফিরোজ দেশের প্রথম শিশুতোষ ডিজিটাল চলচ্চিত্র দূরবীন তৈরি করেছিলেন। বর্তমানে মালয়েশিয়াতে শিশুদের চলচ্চিত্র নিয়েই পিএইচডি করছেন। তাঁর পিএইচডির বিষয় – Managerial challenges in commercially successful children movies in Bangladesh. তাঁর এই গবেষণা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বিকাশে ভূমিকা রাখবে। বিদেশে বসেই পরিচালক জাফর ফিরোজ সুপারস্টার ইলিয়াস কাঞ্চনকে নিয়ে তৈরি করলেন ডকু ফিল্ম ‘’নায়ক তো এমনই’’ ।

প্রজেক্টরের বড় স্ক্রিনে ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে যখন এ কীর্তিমানের সংগ্রামী জীবন দেখানো হচ্ছিল তখন সেখানে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। সবাই প্রত্যক্ষ করছেন একজন মানুষের সংগ্রামময় জীবন যাতে মিশে আছে গভীর মর্মবেদনা, জীবনবোধ, দেশাত্মবোধ আর সমাজের জন্য কিছু করার তাগিদ। মূলত জীবনের চরম বিমর্ষ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প, যার পরতে পরতে আছে মানুষের জন্য, সমাজের জন্য ভাবনা। যে ভাবনা রুপালি জগতের জনপ্রিয়তার তুঙ্গে অবস্থান থেকে তাকে নামিয়ে এনেছিল রাস্তায়, মানুষের কাতারে। আবার সেখান থেকে পরিণত হন একটি প্রতিষ্ঠানে।

১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর। মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনের মৃত্যু হয়। প্রিয়তমা স্ত্রীর মৃত্যুতে তিনি ভেঙ্গে পড়েছিলেন। জীবন হয়ে পড়েছিল বিপর্যস্ত। এ রকম একটা অবস্থায় অনেকেই যেখানে হতাশ হয়ে পড়েন, সেখানেই ব্যতিক্রম ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন। শোককে শক্তিতে পরিণত করেন। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জীবনের বাকি দিনগুলো কাজ করার প্রতিজ্ঞা করেন। আর কেউ যেন তাঁর মতো ভুক্তভোগী না হন সেজন্য প্রতিষ্ঠা করেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) নামের একটি সংগঠন।

দুর্ঘটনার হাত থেকে মানুষকে বাঁচাতে নেমে পড়লেন রাস্তায়। তাকে দেখে মানুষও সচেতন হলো। সরকারও তাগিদ অনুভব করল। মানুষের মাঝে বাড়তে থাকল সচেতনতা। ২৫ বছর ধরে করে যাচ্ছেন এ কাজ। নেই ক্লান্তি, আছে একাগ্রতা, নিষ্ঠা আর অন্যকে অণুপ্রাণিত করার রসদ।

তার নেতৃত্বাধীন নিসচার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে এ বছর থেকে ২২ অক্টোবর দেশে পালিত হচ্ছে নিরাপদ সড়ক দিবস। সংগঠনটি জাতিসংঘেও প্রশংসিত হয়েছে। তারই স্বীকৃতি হিসেবে ইলিয়াস কাঞ্চন এ বছর পেলেন একুশে পদক সম্মাননা।

সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘বসুন্ধরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ইলিয়াস কাঞ্চনের।  ‘বসুন্ধরা’ চলচ্চিত্রে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন ববিতা। ৩৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে  অভিনয় করেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। নায়িকা হিসেবে কাঞ্চন তার বিপরীতে সবচেয়ে বেশি পেয়েছেন চম্পা, দিতি ও অঞ্জু ঘোষকে। ইলিয়াস কাঞ্চন যৌথভাবে প্রথম প্রযোজনা করেন ‘সর্পরানী’ ও ‘বোনের মতো বোন’ চলচ্চিত্র। এরপর তিনি এককভাবে প্রযোজনা করেন ‘বাদশা ভাই’, মাটির কসম,‘খুনী আসামী’, ‘বদসূরত’, ‘বাঁচার লড়াই’, ‘মুন্না মাস্তান’ ইত্যাদি।‘মাটির কসম ’ তার ক্যারিয়ারের একশো’তম চলচ্চিত্র। ইলিয়াস কাঞ্চন ২টি চলচ্চিত্র নির্দেশনা দিয়েছেন, একটি ‘বাবা আমার বাবা’ এবং অন্যটি ‘মায়ের স্বপ্ন’। ইলিয়াস কাঞ্চনের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ। তার বাবা আব্দুল আলী এবং মা স্বরূপা খাতুন। আলমগীর কবির পরিচালিত ‘পরীণিতা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)