আপডেট ১৪ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড

ঢাকা শুক্রবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ , গ্রীষ্মকাল, ৯ রমযান, ১৪৩৯

বিনোদন, লিড নিউজ ইলিয়াস কাঞ্চনের একুশে পদক অর্জনে উচ্ছ্বসিত সহকর্মীরা যা বললেন…

ইলিয়াস কাঞ্চনের একুশে পদক অর্জনে উচ্ছ্বসিত সহকর্মীরা যা বললেন…

ইলিয়াস কাঞ্চন

নিরাপদনিউজ:  ২০১৮ সালের জন্য একুশে পদক পাচ্ছেন অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি সমাজকর্মে অবদানের স্বীকৃতিসরূপ এই পদক পাচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার একুশে পদক জয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সেখানে রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত হওয়ার এই খবর প্রকাশ হয়। তার এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত তার সহকর্মীরা। তারা বলেন, ইলিয়াস কাঞ্চন আমাদের গর্বিত করেছেন।

এমন খবরে তারকা অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘এ পদক আমার নয়, এটা কর্মের ফল। আর ফল দৃশ্যমান। যা এ আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে। রাষ্ট্র আমাকে এ পদক দিয়ে নিসচার আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়ার সংগ্রামে সামিল হলো।’

এদিকে তার এমন প্রাপ্তিতে উচ্ছ্বসিত প্রকাশ করেছেন তার সহকর্মীরা তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রীরা।

বাণিজ্যিক ছবির তারকা অভিনেতা ওয়াসিম বলেন, ‘আমি বিস্মিত হই ওর কাজে। কিভাবে সম্ভব এমন একটা আন্দোলন চালিয়ে রাখা। এই কাজটির সঙ্গে আমাদের যে সম্পৃক্ততা দরকার ছিলো সেটা আমরা করতে পারিনি তবে ও পেরেছে বলেই আজ এমন একটা স্বীকৃতি পেয়েছে। আমরা শিল্পী সমাজ ওর কাছে ঋণী হয়ে গেলাম।’

খ্যাতিমান অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদ বলেন, ‘ইলিয়াস কাঞ্চন তার তারকাখ্যাতিকে যেভাবে নিরলসভাবে কাজে লাগিয়েছেন এটা রীতিমত উদাহরণ। আশা করছি তার এই ধারা ভবিষ্যতে অন্যদের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।’

শিল্পী সমিতির সভাপতি শক্তিমান খলঅভিনেতা মিশা সওদাগর বলেন, ‘এই পদকে আমরা গর্বিত। কাঞ্চন ভাই একটা পথ দেখিয়েছেন। আমরা যেন সে পথ ধরে এগিয়ে যেতে পারি।’ তিনি বলেন, ‘অবাক হই যে তিনি ব্যক্তিগত চাওয়া পাওয়ার ঊর্দ্ধে উঠে যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তাতে আমাদের এগিয়ে আসা উচিৎ ছিল। কিন্তু সেটা করছি না। যিনি করছেন তাকেও খুব বেশি সহযোগিতা করছি সেটাও বলব না। উনি শিল্পী হিসেবে এ ক্রেডিট হয়তো আমরা নিতে পারি কিন্তু আমাদেরও ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। এটা আমাদের সবার উপলব্ধি করতে হবে।’

মিশা সওদাগরের রেশ ধরে পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমরা গর্বিত আমাদের পরিবারের কেউ এবার একুশে পেলেন। এজন্য পরিচালক সমিতির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। ভবিষ্যতে তার কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেক তারকারাই সমাজকর্মে ভূমিকা রাখবে এটা আশা করছি।’

হল প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ও মধুমিতা সিনেমা হলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, ‘অনেকদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করছেন। ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া নয় একটা ক্ষতকে সারিয়ে তুলতে যে চেষ্টা ডাক্তাররা করেন সেটা কাঞ্চন করেছেন/করছেন। সেটার স্বীকৃতি হলো রাষ্ট্রীয় পদক। প্রধানমন্ত্রীকে এজন্য ধন্যবাদ প্রকৃত এক সমাজকর্মীকে এবার রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ এ পদক দেওয়ার জন্য।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস বলেন, ‘আমার সৌভাগ্য কাঞ্চন ভাইয়ের মতো বড় মাপের একজন শিল্পীর সঙ্গে অভিনয় করতে পেরেছি। একজন সহশিল্পী হিসেবে তার হৃদয়ে মানবতার যে ডাক সেটা বুঝতে পেরেছি। তিনি কেবল সে ডাক, সে আহ্বান নিজের বা আমাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে দিয়েছেন। আন্দোলন করেছেন। তার এমন কাজের স্বীকৃতি তাকে আরও তেজস্বী করবে।’

পুরস্কারখ্যাত পরিচালক সি বি জামান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘নিঃশন্দেহে এটা আমাদের অহংকার। ওর (কাঞ্চন) যে ডেডিকেশন নিসচা নিয়ে, তা দেশবাসীকেও ঝাঁকুনি দিয়েছে। আশা করছি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে কাঞ্চন ও তার নিসচা। সেজন্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি চলচ্চিত্র অঙ্গনের সকলের এগিয়ে আসা উচিৎ হবে।’

ফোক ছবির অভিনেতা ছাত্তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে আপ্লুত হয়ে পড়েন। বলেন, ‘মনে হচ্ছে কাঞ্চন ভাই নন আমি পাচ্ছি। তিনি অনেক আগেই এ পদকটির যোগ্য ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ অনেক পরে হলেও তাকে ও তার কর্মকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন।’

চিত্রনায়িকা মুনমুন বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে সৌভাগ্যবান তার মতো একজন গুণী, ধর্মভীরু এবং কর্মচঞ্চল মানুষের সঙ্গে কাজ করতে পেরেছি বলে। আমি আশা করব কাঞ্চন ভাইয়ের এ পদকটি ভবিষ্যতে তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সম্মানিত করবে। এজন্য তার উদ্যোগের পাশে চলচ্চিত্র অঙ্গনের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ প্রতিবেশী দেশের শাহরুখ খান যখন সুইজারল্যান্ডে পুরস্কৃত হন তখন আমার মনে প্রশ্নের উঁকি দিয়েছিল আমাদেরও কাঞ্চন ভাইয়ের মতো কেউ আছেন যিনি তার পুরো জীবন সমাজের জন্য উৎসর্গ করেছেন। তিনি কেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পুরস্কৃত হচ্ছেন না। আশা করছি রাষ্ট্র এবং গণমাধ্যমের সবাই এটা ভেবে দেখবেন। এতে করে কাঞ্চন ভাই নন দেশ ও জাতি সমৃদ্ধ হবে।’

এছাড়া রাষ্ট্রীয় এই পদক প্রাপ্তিতে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, চিত্রসম্পাদক ফজলে হক, আবু মুসা দেবু, শিল্পী চক্রবর্তী, প্রয়াত আতিকুর রহমানের স্ত্রী শামীম আরা ডলি, এফ আই মানিক, রেজা হাসমত, গাজী মাহবুব, মুস্তাফিজুর রহমান মানিক প্রমুখ।

নিজের সড়ক দুর্ঘটনা এবং পরবর্তীতে সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনের অকাল (১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর) মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন নব্বই দশকের শুরুতে প্রতিষ্ঠা করেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন (নিসচা)। তারকা খ্যাতিকে তিনি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেন। তার অক্লান্ত চেষ্টায় সরকার গত বছরে ২২ অক্টোবরকে ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস’ ঘোষণা করে।

আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের হাতে এ পদক তুলে দেবেন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)