ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১২ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ৭ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ২২ মুহাররম, ১৪৪১

জাতীয়, লিড নিউজ ইসলামী পর্যটনকে বিশ্ববাণিজ্যের ব্র্যান্ড করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার

ইসলামী পর্যটনকে বিশ্ববাণিজ্যের ব্র্যান্ড করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার

নিরাপদ নিউজ: ইসলামী পর্যটনকে বিশ্ববাণিজ্যের ব্র্যান্ড করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার পাশাপাশি একটি রোডম্যাপ তৈরি করলে পর্যটকদের আকর্ষণ করা সম্ভব বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ঢাকা দি ওআইসি সিটি অব ট্যুরিজম-২০১৯’ উদ্যাপন উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

গত বছর আন্তর্জাতিক ইসলামী সংস্থা অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কনফারেন্সভুক্ত (ওআইসি) দেশগুলোর পর্যটন মন্ত্রীদের দশম সম্মেলনে ২০১৯ সালের জন্য ঢাকাকে ‘ওআইসি সিটি অব ট্যুরিজম’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ওই সম্মেলনে মুসলিম ফ্রেন্ডলি ট্যুরিজমকে গ্লোবাল ব্র্যান্ডিং হিসেবে সারা বিশ্বে তুলে ধরতে পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়ে সব দেশ সম্মত হয়।

অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ওআইসিভুক্ত দেশগুলো ব্যবসা-বাণিজ্য, ট্যুরিজম সব ক্ষেত্রেই কাজ করতে পারি, সেই সুযোগটা আমাদের রয়েছে। আমরা সেদিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি।’

ওআইসির ২০১৮ সালের একটি প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে মুসলিম পর্যটকের সংখ্যা ১৫৬ মিলিয়ন, যা ২০২০ সালে বেড়ে দাঁড়াবে ১৮০ মিলিয়ন। একই বছর সারা বিশ্বের জনসংখ্যার ২৬ শতাংশ হবে মুসলিম।

থমসন-রয়টার্সের আরেকটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৫ সালে ইসলামী পর্যটনের বাজার ছিল ১৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের, যার মধ্যে ওআইসিভুক্ত দেশসমূহের বাজার ছিল প্রায় ১০৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। ইসলামী পর্যটনের বাজার বার্ষিক ৮.৩ শতাংশ হারে বেড়ে ২০২১ সাল নাগাদ ২৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়াবে। সুতরাং ইসলামী পর্যটনকে বিশ্ব বাণিজ্য ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে, যা পর্যটকদের আকর্ষণ করতে পারবে।’

ওআইসি দেশগুলোতে পর্যটনের উন্নয়নে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ এবং ভিসা সহজীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্র্যান্ডিং ও মানোন্নয়নের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বপ্ন পূরণে পর্যটন খাতের বিকাশ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ইসলামী পর্যটন আমাদের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাত, যেখানে আমাদের সবার একত্রে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। ওআইসি রাষ্ট্রসমূহের পর্যটন শিল্পের বিকাশের জন্য আমার প্রচেষ্টা, সমর্থন ও সহযোগিতা সব সময় থাকবে।’

বাংলাদেশে পর্যটনের বিকাশে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। মুসলিমদের ভাগ্য নিয়ে কেউ যেন খেলতে না পারে, সে জন্য ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান র আ ম ওবায়দুল মুকতাদির চৌধুরী, মন্ত্রণালয়টির সচিব এম মহিবুল হক এবং ওআইসির সহকারী মহাসচিব মুসা কুলাকলিকায়া বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে ৪০০ বছরের প্রাচীন নগরী ঢাকার মুসলিম ঐতিহ্য ও নিদর্শন নিয়ে একটি অডিও ভিজ্যুয়াল পেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে ৩০টির মতো দেশের পর্যটন মন্ত্রী ও তাঁদের প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)