ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট জুলাই ৬, ২০১৫

ঢাকা রবিবার, ২৯ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৪ সফর, ১৪৪১

ব্যবসা-বাণিজ্য, রংপুর ঈদের কেনাকাটায় পঞ্চগড় নারীদের দুর্বলতা কিরণমালায়!

ঈদের কেনাকাটায় পঞ্চগড় নারীদের দুর্বলতা কিরণমালায়!

ঈদ ঘিরে পোশাক প্রচ্ছদে থাকে আকর্ষণ। থাকে নতুনত্ব। থাকে অনুকরণ ও অনুসরণ

ঈদ ঘিরে পোশাক প্রচ্ছদে থাকে আকর্ষণ। থাকে নতুনত্ব। থাকে অনুকরণ ও অনুসরণ

০৬ জুলাই ২০১৫, নিরাপদ নিউজ ,শামীম ডি এসঃ সামনেই ঈদ। মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম আনন্দের দিন। আর ঈদ মানেই নতুন আনন্দ। ঈদে চাই সব কিছুই নতুন। ঈদের আনন্দে ছোট বড় মেতে উঠেন সবাই। মুসলমানদের পাশাপাশি অন্য ধর্মাবলম্বীরা কম যান না। তবে তারা নিরবে ঈদের আনন্দটুকু উপভোগ করেন। কেনাকাটা করেন, ঈদের ছুটি মানে সবারই ছুটি। তাই তো ঈদের আনন্দকে উপভোগ করতে মেতে উঠেন সবাই। আর কয়েক পরই ঈদ। দেখা যাবে রোজা শেষে শাওয়ালের চাঁদ। ঈদকে সামনে রেখে এবার আগেবাগেই লেগে গেছে কেনাকাটা ধূম। জেলা ও উপজেলা শহরগুলোর গার্মেন্টস, জুতার দোকান, জুয়েলারী, কসমেটিক্স দোকানগুলোতে প্রচন্ড ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে কাপরের দোকানগুলোতে খুবই ভীড়। জমজমাট হয়ে উঠছে ঈদের বাজার।

বরাবরের মতোই ঈদ ঘিরে পোশাক প্রচ্ছদে থাকে আকর্ষণ। থাকে নতুনত্ব। থাকে অনুকরণ ও অনুসরণ। এবারও বাজারে বলিউড ও ভারতীয় বাংলা সিরিয়ালের অভিনেত্রীদের নামের ট্যাগ ঝুলানো পোশাকের দিকে ক্রেতাদের নজর টানতে দেখা যাচ্ছে। এসব ক্রেতাদের বেশির ভাগই উঠতি বয়সের তরুণী। বাদ যাচ্ছেন না বিবাহিত নারীরাও। পঞ্চগড় সদর ও তেঁতুলিয়া উপজেলার বেশ কিছু দোকানপাট ঘুরে দেখা গেছে, এবারের ঈদের বাজারে এসেছে ভারতীয় টিভি চ্যানেল স্টার জলসার মেগাসিরিয়াল নাটকের ‘কিরণমালা’ নামের পোশাকটি।

পোশাকটি ঘিরে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। এ পোশাকটির সম্পর্কে এক বিক্রেতার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘কিরণমালা পোশাকে লং ড্রেসের ওপরে থাকে কটি, নিচে ঘের, এরপর ফলস, পেছনে নকশা আর দুই পাশে দুটি ঝুমকা। এ পোশাকের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। তিন থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত।’ সাধারণত মেয়ে ও শিশুরা এসে কিরণমালা পোশাক চায়। অনেক বিক্রেতাই এ রকম নকশার পোশাক আনতে পারেননি। তাই যেকোনা নকশার পোশাক বের করে তাঁরা বলেন, এটা ‘কিরণমালা’। কোনো পোশাকে পুঁতি বা পাথরের কাজ করা থাকলেই নাম ‘কিরণমালা’। এই নাম না বললে ক্রেতারা নিতে চান না বলে জানালেন ওই দোকানি।

এছাড়াও বিভিন্ন গার্মেন্টস দোকানে শোভা পাচ্ছে সারারা, মৎস্যকুমারী. ফ্লোর টাচ ও রাজকুমারী নামের বিচিত্র সব নামের মেয়েদের পোশাক। এসব পোশাকের চাহিদাও চোখে পড়ার মতো। ‘কিরণমালা’, কোনটিতে ‘ইচ্ছে নদী’, ‘পামেলা’, ‘জলকন্যা’, ‘পাতালপুরি’, ‘ছুঁয়ে দিলে মন’, ‘রাজকুমারী’ বা ‘বউ কথা কও’—এসব নাম নিয়ে ঝুলছে রকমারি পোশাক। গতবারের আলোচিত ‘পাখি’ পোশাকের এবারের বিক্রি কেমন জানতে চাইলে এক বিক্রেতা বলেন, পাখি ব্যাকডেটেড। এবার পাখি চলছে না। তাই নতুন পোশাক ‘পাখি রিটার্নস’। পাখি ড্রেস’ এর প্রতি তেমন একটা আগ্রহ নেই জানালেন কিরণ মালা কিনতে আসা এক কলেজপড়–য়া তরুণী।

ভারতীয় এসব পোশাক কেনার পর বিক্রির ধরন দেখে নাম দেন বিক্রেতারাই। আবার পরিবতর্নও করেন। হিন্দি সিরিয়ালের নামে পোশাক না করলে বিক্রি বাড়ে না। এসব জমকালো পোশাকের পাশাপাশি রয়েছে সুতি ও হালকা কাজের নানারকম থ্রি পিস। এর মধ্যে সেমি-লং, লং কামিজ ইত্যাদি বিভিন্ন স্টাইলের পোশাকের পসরা রয়েছে গাউছিয়ার প্রায় সব দোকানে। এই পোশাকগুলোর দাম ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা। সুতি থ্রি পিসের দাম ১ হাজার ৫শ’ থেকে আড়াই হাজার টাকা। এক বিক্রেতা বলেন, এবার ভারতীয় ক্যাটালগের জর্জেটের পোশাক বেশ জনপ্রিয়।’ এর মধ্যে বিনয়, ফিওনা, কাসিন এইগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এসব পোশাকের দাম পড়বে ২ হাজার ৫শ’ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা।

এছাড়াও এখানে পাওয়া যাচ্ছে কটন, ইন্ডিয়ান বুটিকের পোশাক, দাম ১হাজার ৮শ’ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। জরি সুতার কাজ করা লন পাওয়া যাবে ৩শ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায় এবং ইন্ডিয়ান বোম্বে কটনের গজ পাওয়া যাচ্ছে প্রতি গজ ৬শ’ টাকায়। ঘের দেওয়া কামিজের দাম ৩হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা। ব্লকবাটিক লং থ্রি পিস ২থেকে ৭ হাজার টাকা। কটনের থ্রি পিস ১হাজার ৫শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা। জেলা মার্কেটে তানিয়া ও মারিয়া নামের কলেজপড়ুয়া দুই তরুণী ‘কিরণমালা’ পোশাক কিনতে এসেছেন। তাঁরা তিনটি দোকানে ঘুরে ওই পোশাকটি দেখেন। কেন ‘কিরণমালা’ কিনবেন জানতে চাইলে বললেন, ‘এবারের ঈদের লেটেস্ট ফ্যাশন কিরণমালা। এছাড়া অন্য বান্ধবীরা কিনছে, এ জন্য কিনতে চাই।’সব মিলিয়ে এবার ঈদের কেনাকাটা বেশ ভাল হবে মনে করছেন বিক্রেতারা।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)