ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৩ মিনিট ২৩ সেকেন্ড

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৬ আষাঢ়, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১৬ শাওয়াল, ১৪৪০

সম্পাদকীয় ঈদ যাত্রা নিরাপদ ও আনন্দময় হোক

ঈদ যাত্রা নিরাপদ ও আনন্দময় হোক

নিরাপদ নিউজ:  আর কয়েকদিন পর উদযাপিত হবে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ কাটাতে মানুষ নিজ কর্মস্থল থেকে ছুটে যাবে নিজ বাসগৃহে। প্রতি বছর দেখা যায়, ঈদের সময় বিভিন্ন চক্র, ছিনতাইকারী, পার্টির আবির্ভাব হয়। তাদের উদ্দেশ্যই হচ্ছে মানুষকে বিপদে ফেলে। বিশেষ করে মলম পার্টি। ঈদের সময় এদের পাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়।

খাবারের মধ্যে নেশাজাতীয় বা চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে মানুষকে অজ্ঞান করে অর্থ, ফোন, প্রয়োজনীয় জিনিস হাতিয়ে নেয়। অনেক সময় রাস্তার পাশে ছিনতাইকারীরা ওত পেতে থাকে। এর সবচেয়ে বেশি শিকার হয় মেয়েরা। একলা হাঁটার সময় অথবা রিকশায় যাওয়ার সময় আচমকা পেছনে থেকে এসে ফোন, ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। অনেকে ট্রেনে ভ্রমণের সময় ট্রেন দাঁড়ানো অবস্থায় জানালার পাশে বসে ফোন চালায়। এ সময় ছিনতাইকারী বা বখাটেরা জানালার পাশ থেকে ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেকে বাস বা ট্রেনের ছাদে যাতায়াত করেন। তাই যাত্রা পথে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবেন যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। এ ছাড়া অনেক চক্র আছে যারা জাল টিকেট বিক্রি করে, ভালো সিটের কথা বলে অনেক টাকা নেয় কিন্তু শেষে উঠিয়ে দেয় লক্কর-ছক্কর গাড়িতে। তাই এসব প্রতারণা থেকে সাবধান থাকবেন। যাত্রাপথে অপরিচিত কারও দেয়া খাবার পানাহার থেকে বিরত থাকুন।

ঈদ মানে আনন্দ বা খুশি। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় আনন্দ উৎসব হলো বছরে দুটি ঈদ, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর হাজির হয় ঈদুল ফিতর। দিনটি ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাইকে এককাতারে শামিল করার চেতনায় উজ্জীবিত করে। ঈদকে কেন্দ্র করে পোশাক, অলঙ্কার, জুতাসহ অন্যান্য সামগ্রী ক্রয়-বিক্রয়ে সর্বত্র বাড়ছে ব্যস্ততার পরিধি। শহর থেকে কেনাকাটা করে গ্রামের বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। শ্রেণি-ধর্ম-বর্ণ-ধনী-গরিব নির্বিশেষে সব মানুষ ভাগাভাগি করে নেয় ঈদের আনন্দ। দারিদ্র্যের কারণে যাতে কেউ ঈদের আনন্দঘন পরিবেশ থেকে বঞ্চিত না হয় তার জন্য ইসলামে রয়েছে ফিতরা প্রদানের ব্যবস্থা।

এ ছাড়া মুসলিমরা তাদের সম্পদের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে গরিবদের জাকাত প্রদান করে থাকে। এতে অর্থনৈতিক বৈষম্য যেমন দূর হয় তেমনি সামাজিক ও ধর্মীয় দায়বদ্ধতা প্রকাশ পায়। এ ছাড়া সমাজের বিত্তবান মানুষ ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নতুন জামা-কাপড় ও ঈদসামগ্রী প্রদানের মাধ্যমে ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ঈদের আনন্দ স্বজনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্য বিপুলসংখ্যক কর্মজীবী মানুষ ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহর থেকে পরিবার-পরিজনসহ গ্রামের বাড়িতে যান।

কিন্তু নিরাপদে বাড়ি ফেরার নেই কোনো নিশ্চয়তা। বিভিন্ন ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লঞ্চ রং করে নতুনের মতো করে তোলা হচ্ছে। যার ফলে ক্রমেই বাড়ছে দুর্ঘটনা। যানবাহনজুড়েই এখন রয়েছে বাড়ি ফেরার উপচেপড়া ভিড়! ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ট্রেন ও বাড়তি বগি সংযোজন করার পরও অনেককে ট্রেনের ছাদে চড়ে বাড়ি ফিরতে দেখা যায়।

এ ছাড়া অগ্রীম টিকেট বিক্রি শুরু হলেই বেড়ে যায় কালোবাজারিদের তৎপরতা। যার ফলে সাধারণ যাত্রীদের গুণতে হয় তিন-চারগুণ বেশি ভাড়া। তার ওপর সহ্য করতে হয় যানজটের তীব্র যন্ত্রণা।

এতকষ্টের পরও মানুষ বাড়ি ফেরে, এটাই তার আনন্দ। এই আনন্দকে আরও পূর্ণতা দিতে এবং দুর্ভোগ কমানোর জন্য টিকেট কেনাবেচা ও যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করতে হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লঞ্চ সড়ক ও নৌ-পথ থেকে সরানো জরুরি। এ ছাড়া যানজট ও দুর্ঘটনা নিরসনে কর্তৃপক্ষকে বাড়তি নজরদারি করতে হবে। পরিশেষে, ঈদে সবার জীবন হয়ে উঠুক আনন্দময় ও নিরাপদ, এটাই প্রত্যাশা।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)