ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯

ঢাকা সোমবার, ৩০ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৪ সফর, ১৪৪১

আইন-আদালত উচ্চ আদালত প্রাঙ্গণে মিন্নি

উচ্চ আদালত প্রাঙ্গণে মিন্নি

নিরাপদ নিউজ: বর্তমানে বাংলাদেশে বহুল আলোচিত চরিত্র আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় প্রধান সাক্ষী থেকে আসামি বনে যাওয়া নিহতের স্ত্রী মিন্নি  উচ্চ আদালতের নির্দেশে ৩ সেপ্টেম্বর কারাগার থেকে মুক্তি পান। মিন্নির জামিন ও কারাগার থেকে তার মুক্তির জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করছেন সুপ্রিম কোর্টের একদল আইনজীবী। বিনা পয়সায় আইনি লড়াই করা আইনজীবীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে আজ ঢাকায় এসেছেন মিন্নি। সঙ্গে এসেছেন তার বাবা মোজাম্মেল হক কিশোর।

সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে মিন্নি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। প্রথমেই মিন্নি সু্প্রিম কোর্ট বার ভবনে তার প্রধান আইনজীবী জেড আই খান পান্নার চেম্বারে আসেন। সেখানে মিন্নির আইনজীবী প্যানেলের সদস্য অ্যাডভোকেট মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম ও মাহরিন মাসুদ ভূঁইয়া তাকে রিসিভ করেন। গণমাধ্যমকর্মীরা মিন্নির ছবি তুলতে সেখানে ভিড় জমান। ১১টা থেকে প্রায় ১২টা পর্যন্ত চেম্বারের এক পাশে মিন্নি এবং অ্যাডভোকেট মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম ও মাহরিন মাসুদ ভূঁইয়া একান্তে কথা বলেন।

এ বিষয়ে মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম বলেন, মিন্নির ওপর পুলিশ যে অমানবিক নির্যাতন করেছে সে বিষয়গুলো আমাদের কাছে বলেছে। এখনো হাত, পা ও শরীরের নির্যাতনের যে চিহ্ন আছে সেগুলো আমাদেরকে দেখিয়েছে। চোখের সামনে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে মিন্নি কেঁদে ফেলেছিল। মিন্নি বলেছে, এখনো সে ঘুমাতে পারে না। ঘুমের মধ্যে চিৎকার দিয়ে ওঠে। সারা বাসায় রিফাতের স্মৃতি রয়েছে। সেই স্মৃতিগুলো ভুলতে পারে না মিন্নি।

দুপুর ১২টার দিকে চেম্বারে আসেন মিন্নির প্রধান আইনজীবী জেড আই খান পান্না। তাকে দেখেই মিন্নি পা ছুঁয়ে সালাম করেন। জেড আই খান পান্নাও মিন্নির মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। জেড আই খান পান্না বলেন, মিন্নি আজ থেকে আমার মেয়ে।

এরপর মিন্নির আইনজীবী প্যানেলের সদস্য  অ্যাডভোকেট জেসমিন সুলতানা, অ্যাডভোকেট আইন্নুনাহার লিপি, অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল, অ্যাডভোটে নাজমুস সাকিব চেম্বারে এসে মিন্নির সঙ্গে পরিচিত হন।

গণমাধ্যমকর্মীরা মিন্নির প্রধান আইনজীবীর বক্তব্য নেন। এ সময় মিন্নি পাশে বসে ছিলেন।

দুপুর ১টার দিকে জেড আই পান্না মিন্নিকে নিয়ে আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিনের চেম্বারে যান। সেখানে প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থান করেন মিন্নি। সে সময়ে উপস্থিত থাকা অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল বলেন, ‘আমিন উদ্দিন স্যার মিন্নির উদ্দেশে বলেছেন, তুমি চিন্তা করো না। আমরা পাশে আছি। তুমি যেন ন্যায়বিচার পাও, সে চেষ্টা আমরা করব।

বার সভাপতির রুম থেকে বের হয়ে মিন্নিকে নিয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়নের চেম্বারে যান তার আইনজীবীরা।

অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ন মিন্নিকে সাহস দিয়ে বলেন, বুকে সাহস রাখতে হবে। আমরা তোমার পাশে আছি। ভয় পেয়ো না।

ইউসুফ হোসেন হুমায়নের রুমেই মিন্নি দুপুরের খাবার খান।

পরে প্রধান আইনজীবী জেড আই খান পান্নার চেম্বারে এসে মিন্নি প্রায় ১ ঘণ্টা তার সঙ্গে একান্তে কথা বলেন। এর মাঝেই গণমাধ্যমকর্মীরা মিন্নির ছবি তুলতে থাকেন। বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে মিন্নি তার আইনজীবীদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)