ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৮ মিনিট ৩ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ৪ আশ্বিন, ১৪২৫ , শরৎকাল, ৮ মুহাররম, ১৪৪০

সম্পাদকীয় উত্তরণের ঝুঁকি মোকাবেলা

উত্তরণের ঝুঁকি মোকাবেলা

সম্পাদকীয়

নিরাপদ নিউজ : স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। অবশ্যই অনেক বড় অর্জন। তবে এই উত্তরণের সঙ্গে কিছু ঝুঁকিও তৈরি হবে। উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর জিডিপির প্রবৃদ্ধি কমতে পারে। প্রবাস-আয় (রেমিট্যান্স) কমতে পারে। উন্নত দেশগুলোর সরকারি সহযোগিতা কমবে। রপ্তানিতেও বড় আঘাত আসতে পারে। গত শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত সংলাপে এসব আশঙ্কার বিষয় বিবেচনায় রাখার জন্য সরকার ও অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষকে পরামর্শ দিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সাম্প্রতিক সময়ে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত চারটি দেশের অভিজ্ঞতার নিরিখে এসব কথা বলেছে সিপিডি।

বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিবেশ এখন অনুকূল নয়। এমন সময়ই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও কানাডায় অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা (জিএসপি) পাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশ হলে এ সুবিধা মিলবে না। বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডাব্লিউটিও) সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে রপ্তানিতে বিশেষ ভর্তুকি দেওয়ার যে সুযোগ রয়েছে তাও থাকবে না। উন্নয়নশীল দেশের কাতারভুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রপ্তানি পণ্যে বাড়তি ৬.৭ শতাংশ শুল্ক আরোপিত হবে। ফলে বছরে রপ্তানি কমবে ২৭০ কোটি ডলার (প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা)। তাই বলে কি বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশই থেকে যাবে? উন্নততর অবস্থায় পৌঁছবে না?

ব্যক্তি থেকে শুরু করে রাষ্ট্র সবারই উন্নত স্তরে পৌঁছানোর বাসনা রয়েছে। শুধু বাসনা নয়, এজন্য সবার চেষ্টাও থাকে। বাংলাদেশেরও চেষ্টা ছিল এবং শেষ পর্যন্ত উত্তরণ ঘটতে যাচ্ছে। উন্নত অবস্থাটিকে ধরে রাখতে হবে। সে জন্যই চিহ্নিত ঝুঁকিগুলোর বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে। সতর্ক থেকে কিছু ব্যবস্থা নিতে হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে ওঠার প্রস্তুতি নিতে হবে।

কয়েক দশক ধরে আমাদের রপ্তানি পোশাক খাতনির্ভর। এক পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পণ্যবৈচিত্র্য আনতে হবে। রাজস্ব আদায়ের হার দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় কম। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ের ওপর জোর দিতে হবে। এআইআইবি ব্যাংকসহ সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার উৎসগুলোর দিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে, নতুন শিল্প গড়ে তুলতে হবে। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর জিএসপি সুবিধা ও সহজ শর্তের ঋণ পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছার চেষ্টা করতে হবে। সুশাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলে, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা থাকলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা কঠিন হবে না। উত্তীর্ণ অবস্থাটি ধরে রাখতে হবে সেটিই মূল কথা।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)