আপডেট জানুয়ারি ২৩, ২০১৬

ঢাকা মঙ্গলবার, ৪ আষাঢ়, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১৪ শাওয়াল, ১৪৪০

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, রংপুর, লিড নিউজ, সড়ক সংবাদ উত্তরাঞ্চলে যাত্রীবীমা ছাড়াই চলছে গণপরিবহন!

উত্তরাঞ্চলে যাত্রীবীমা ছাড়াই চলছে গণপরিবহন!

 দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা বীমার অর্থ প্রাপ্তি থেকে হচ্ছে বঞ্চিত

দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা বীমার অর্থ প্রাপ্তি থেকে হচ্ছে বঞ্চিত

শাহ্ আলম শাহী,দিনাজপুর থেকেঃ দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় যাত্রীবাহী গণপরিবহন যাত্রীবীমা ছাড়াই চলাচল করছে। ফলে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা বীমার অর্থ প্রাপ্তি থেকে হচ্ছে বঞ্চিত। অসাধু কিছু বাস মালিক বীমা কোম্পানী গুলোর যোগসাজসে যাত্রীদের বীমার টাকা নিজেরা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে চলেছে অহরহ।
সরকার ১৯৮৩ সালে সব ধরনের যাত্রী পরিবহনকারী যানবাহনে যাত্রীদের স্বার্থে যাত্রীবীমা আইন পাশ করা হয়। জানা গেছে, ওই আইনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত যাত্রীর ক্ষেত্রে ২০ হাজার টাকা, আহত প্রতি জনের জন্য ১০ হাজার টাকা এবং সামান্য আহত প্রতিজন যাত্রীর জন্য ৫ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিধান করা হয়। কিন্তু বাস মালিকরা কেউ এ আইনের তোয়াক্কা করছে না। এ আইন এখন কাগজ কলমে শুধু সীমাবদ্ধ।

Road acci

এখন পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে এ আইনের বাস্তবায়ন নেই বললে চলে। জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, রংপুর, জয়পুরহাট, বগুড়া, লালমনিরহাট, নাটোর, রাজশাহী, পাচাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, পাবনাসহ ১৬টি জেলার যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, টেম্পু, স্কুটার মালিকরা কেউই আইনটি মানছেন না। যাত্রী পরিবহনকারী যানবাহনগুলোর মালিকদের অনীহা এবং আইনের প্রতি অবজ্ঞার কারণে তারা যাত্রীবীমা না করায় যাত্রীরা এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে গণ কুয়াশা ও শৈত প্রবাহের কারণে বর্তমানে গণপরিবহনগুলো প্রায় দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। এছাড়া সরকারী গণপরিবহন বিআরটিসির যাত্রীবহনকারী বাসগুলোর ক্ষেত্রেও এ আইন অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে। হাতে গোনা দু’একটি বাস, মিনিবাস ও কোচে যাত্রীবীমা সুবিধা থাকলেও সে গুলোর ক্ষেত্রে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ।

এসব যাত্রী পরিবহণকারী যানবাহনগুলো থেকেও ক্ষতিগ্রস্তযাত্রীরা কিংবা তাদের পরিবারের সদস্যরা কোন রকম বীমার অর্থ পান না। কিছু সংখ্যক অসাধু বাস মালিক ও বীমা কোম্পানীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজসে যাত্রীদের বীমার টাকা নিজেরাই উত্তোলন করে তা আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলে চলাচলকারী রিকন্ডিশন পুরোনো গাড়ীর ৯০ শতাংশেরই কোন ফিটনেস সার্টিফিকেট নেই। এতে করে লক্কড়ঝক্কর মার্কা যাত্রীবাহী গাড়ীগুলো প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলে চলাচলকারী যানবাহনগুলোর চালকদেরও কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। আবার অনেকেরই ড্রাইভিং লাইসেন্স পর্যন্ত নেই। যেসব চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে সেগুলো অধিকাংশই জাল।
বীমা আইন অনুযায়ী প্রতিটি যানবাহনের প্রতি বছর তাদের বীমা নবায়ন করার বিধান থাকলেও উত্তরাঞ্চলের চলাচলকারী যানবাহনের বেশির ভাগ মালিকগণই বীমা নবায়ন করে না। ফলে দুর্ঘটনা কবলিত যানবাহনের দায় বীমা কোম্পানীগুলো কৌশলে এড়িয়ে যান।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)