আপডেট ২১ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড

ঢাকা শুক্রবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ , গ্রীষ্মকাল, ৯ রমযান, ১৪৩৯

রংপুর, সড়ক সংবাদ উদ্বোধনের অপেক্ষায় স্বপ্নের দুই সেতু

উদ্বোধনের অপেক্ষায় স্বপ্নের দুই সেতু

উদ্বোধনের অপেক্ষায় স্বপ্নের দুই সেতু

আজিজুল ইসলাম বারী,নিরাপদনিউজ: অবশেষে লালমনিরহাটের দ্বিতীয় তিস্তা ও কুড়িগ্রাম জেলার দ্বিতীয় ধরলা সেতুর জন দুর্ভোগ দ্রুত লাঘব হতে যাচ্ছে। লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগের উন্নতি সাধনে জেলা দুটিকে বিভক্তকারী ধরলা নদীর ওপর ৯৫০ মিটার দ্বিতীয় ধরলা সেতুর মূল নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।

অন্যদিকে রংপুর-লালমনিরহাট জেলার মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনতে তিস্তা নদীর ওপর ৮৫০ মিটার দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর নির্মাণকাজও শেষ হয়েছে। আগামী মার্চেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতু দুটি উদ্বোধন করতে পারেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্টরা জানান , দ্বিতীয় ধরলা সেতু চালু হলে সহজেই কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার মানুষ লালমনিরহাট সদর উপজেলায় যাতায়াত করতে পারবেন। একই সঙ্গে রংপুর বিভাগীয় শহরের সঙ্গেও যুক্ত হতে পারবেন। এতে রংপুরের সঙ্গে ফুলবাড়ী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার দূরত্ব কমবে প্রায় ২০ কিলোমিটার।

ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও এ অঞ্চলের দৃশ্যপট বদলে যাবে। ফুলবাড়ী উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম বলেন, ‘বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় ধরলা সড়ক সেতু এ অঞ্চলের অর্থনীতি বদলে দেবে। সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষ জাতির জনক বন্ধবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞ।’ এদিকে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সব কাজ শেষে হয়েছে। এখন শুধু সেতুটি খুলে দেয়ার অপেক্ষায় আছে। সেতুটি খুলে দেয়া হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রংপুর শহরের সঙ্গে লালমনিরহাটের আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার লোকজন যোগাযোগ করতে পারবে। এর সুফল পাবে রংপুরের পিছিয়ে থাকা গঙ্গাচড়া উপজেলার মানুষও। ব্যবসায়ীরা জানান, সেতু দুটি এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাতে দারুণ ভূমিকা রাখবে। আর দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু চালু হলে পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরের সঙ্গে সড়কপথে বিভাগীয় শহর রংপুর ও ঢাকার দূরত্ব কমে যাবে কমপক্ষে ৬০ কিলোমিটার। এতে তারা কম সময়ে পণ্য পরিবহনে সক্ষম হবেন।

বুড়িমারী স্থলবন্দর ব্যবহারকারী মেসার্স সায়েদ এন্টারপ্রাইজ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক ব্যবসায়ী সায়েদুজ্জামান সাঈদ বলেন, ‘কাকিনা-মহিপুর দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু চালু করা হলে বুড়িমারী-লালমনিরহাট-বড়বাড়ী হয়ে ঘুরে আর রংপুর যেতে হবে না। এতে অল্প সময়ে পণ্য গন্তব্যে পাঠানো যাবে। কমবে পরিবহন খরচও।’ লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে ১২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কাকিনা-মহিপুর দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উদ্বোধন করেন। ২০১৪ সালের ৩১ জুনের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নাভানা (জেভি) কনস্ট্রাকশন তা শেষ করতে পারেনি। এদিকে ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লালমনিরহাটের কুলাঘাট-কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ধরলা নদীর ওপর ৯৫০ মিটার পিসি গার্ডার দ্বিতীয় ধরলা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

২০১৪ সালের ২৪ এপ্রিল ২৯১ কোটি ৬৩ লাখ ২২৩ টাকা ব্যয়ে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৭ সালের ২৪ জুন। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিমপ্লেক্স-নাভানা কাজ শেষ করতে না পারায় সময় বৃদ্ধি করা হয়। লালমনিরহাটের সাবেক চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শেখ আব্দুল হামিদ বলেন, ‘সেতু দুটি পিছিয়ে থাকা রংপুর অঞ্চলের ইতিবাচক আর্থসামাজিক পরিবর্তন আনবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান ও বাণিজ্য সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট (অব.) মোতাহার হোসেন বলেন, ‘তিস্তা ও ধরলা নদী লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুরবাসীর উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্তরায় ছিল। এ অঞ্চলের দারিদ্র্যপীড়িত মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে কাকিনা-মহিপুরে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু এবং কুলাঘাট-ফুলবাড়ী এলাকায় দ্বিতীয় ধরলা সেতু নির্মাণ করেছে সরকার।

শিগগিরই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতু দুটির উদ্বোধন করবেন।’ প্রসঙ্গ: গত বুধবার (২৫ শে অক্টোবর ২০১৭ খ্রি:) লালমনিরহাট-রংপুরের ককিনা-মহিপুর পথে নিমার্ণাধীন তিস্তা দ্বিতীয় সড়ক সেতুটি কবি শেখ ফজলল করিমের নামে নামকরণের দাবীতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয়রা।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)