ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১৩ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ , হেমন্তকাল, ১১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০

নারী ও শিশু সংবাদ উদ্যোক্তা থেকে জয়ীতা হয়ে ওঠা আরজুমান আরা

উদ্যোক্তা থেকে জয়ীতা হয়ে ওঠা আরজুমান আরা

নিরাপদনিউজ : মালয়েশীয়ার প্রবাসী জীবণ ভাল লাগেনি। দুই বছর প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে এসে মোছাঃ আরজুমান আরা আমেরিকান টার্কি পাখি খামার গড়ে তুলে হয়ে উঠেন সফল নারী উদ্যোক্তা। বছর পেরুতেই সমাজের সকল বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতার জন্য হয়ে উঠেন দিনাজপুর জেলার সেরা জয়ীতা নারী ।

প্রবাস জীবণ থেকে দেশে ফেরা 
মোছাঃ আরজুমান আরার জন্ম দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার তর্পনঘাট গ্রামে। পিতার নাম আব্দুল জলিল মন্ডল । বগুড়া আজিজুল হক কলেজ থেকে ভূগোল বিষয় নিয়ে অনার্স পাশ করার পর তার পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়ে যায়। এরপর চলে যান মালওয়েশিয়ায়। কিন্তু ছোট থেকেই যার ইচ্ছা নিজেকে একজন সফল উদ্যক্তা হিসেবে গড়ে তুলবেন, তার কি আর বিদেশে ভাল লাগে। ফিরে আসলেন দেশে। কিন্তু কি করবেন তা ঠিক করতে পারছিলেননা। তবে থেমে থাকেননি খুব বেশী দিন।

ইউটিউবের মাধ্যমে টার্কি পাখির খবর সংগ্রহঃ
বিদেশ থেকে ফিরে স্বামীল সংসারে গিয়েও থেমে থাকেনি তার স্বপ্ন । ইউটিউবের মাধ্যমে জানতে পারে বাংলাদেশে আমেরিকান টার্কি পাখি পালন করা হচ্ছে। সঠিক ভাবে খামার করলে লাভবান হওয়া সম্ভব। তার মনে উৎসাহের জন্ম নেয়। স্বামীর অনুমতিক্রমে তার পিতার বাড়ীর ছাদে ২০১৬ সালে প্রথমে নওগাঁ থেকে ১শ টার্কি পাখির বাচ্চা নিয়ে শুরু করে পরীক্ষা মুলক খামার। সফল ভাবে পাখিগুলিকে বড় করতে সক্ষম হয়। পরে উপজেলা সদরের আধা কিঃ মিঃ দুরে উত্তর শ্যামপুর মৌজায় ৬ বিঘা জমি কিনে নিরিবিলি পরিবেশে বানিজ্যিক ভাবে টার্কি পাখির খামার শুরু করে। এখন তার খামারের পরিথি পুকুরসহ ১২ বিঘা। চলছে হেটারী জন্য তিন তলা ভবনের কাজ। পুকুরে চাষ কচুরি পানা হচ্ছে মাছ । পাশে কলমি শাক । যা টার্কি পাখির প্রধান খাবার। তার খামারে বর্তমানে ৩ হাজারের মত টার্কি পাখি রয়েছে ।

র্টার্কি থেকে উট পাখিঃ
টার্কি পাখি নিয়ে ইউটিউব, ফেইস বুক, ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করতে করতে পেয়ে যান াুট পাখির সন্ধ্যান। মরু ভূমির জাহাজ নামে পরিচিত উট পাখি নিয়ে আসেন তার খামারে। বর্তমানে তার কামারে পাঁচটি উট পাখি বেড়ে উঠছে। তবে উট পাখি নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে । উট পাখি চাষে সফল হতে পারবেন কিনা তা তিনি নিশ্চিত নয় । কারণ উট পাখি পালনে যে পরিমান খোলা জায়গার দরকার তা তার নেই।

ব্রিডিং ফার্ম শুরু
তার খামারে দুটি অটোমেটিক ইনকিউবেটর মেশিন রয়েছে। তার মেশিনে প্রতিমাসে ২৫ হাজার বাচ্চা ফুঠানোর ক্ষমতা রয়েছে । তিনি জানান- তার জানামতে বাংলাদেশে কোথাও এত বড় ব্রিডিং ফার্ম নাই। নিজের খামারে থাকা ৩ হাজার প্যারেন্টস টার্কি যে ডিম দেন তা ফুটিয়ে বাচ্চা বিক্রি করেন। আকার নিজের খামারেও পালন করেন। শুধু নিজের টার্কির ডিমের বাচ্চা ফুটাননা। অনেক ক্ষুদ্র টার্কি কামার রয়েছে যাদের বাচ্চা ফুটানো মেশিন কেনার ক্ষমতা নেই । তাদের ডিম গুলোর বাচ্ছাও তিনি তার মেশিনের মাদ্যমে ফুটিয়ে দেন। তার খামারে বাচ্চা ফুটানোর জন্য দিনাজপুর,ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় থেকেও ক্ষুদ্র কামারিরা আসেন।

টার্কির বাজারঃ
দিনাজপুর জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই টার্কি পাখি বিক্রি হয়ে থাকে। বিশেষ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ফাইফ ষ্টার, থ্রি ষ্টারসহ অভিযাত হোটেল গুলো তার সব চেয়ে বড় বাজার। টার্কি পাখি জবাই করে প্রসেসিং করে মাংস পাঠতে হয়। তা ছাড়াও প্রায় ৫০ জন যুবক রয়েছে যারা তার কাছ থেকে টার্কি পাখি সংগ্রহ করে দেশের বিভিন œ হোটেল মোটেলসহ জন ষাধারণের কাছে বিক্রি করে জীবীকা নির্বাহ করছে । যারা প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করে থাকে।

সমাজে সম্মান 
দুই বছর আগেও তাকে কেউ চিনতনা। তার এ পরিচিতি সম্মান এনে দিয়েছে তার প্রবল আত্ম প্রত্যয়, অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে উঠা তার ইকো এগ্রো ফার্ম। সফল নারী উদ্যোক্তা থেকে হয়ে উঠেছেন জেলার শ্রেষ্ঠ জয়ীতা নারী। ২০১৭ সালে পেয়েছেন এই সফলতার পুরুস্কার।

মোছাঃ আরজুমানআরার কথাঃ
আঞ্জুমার আরা ফজরের নামাজ পরে রানানা-বান্নাসহ সংসারের কাজ সেরে স্বামী সন্তা কে প্রস্তুত করেন। স্বামী চলে যান ব্যবসার কাজে আর সন্তানদের স্কুলে পৌছে দিয়ে চলে আসেন কামারে। তার প্রবল আত্ম প্রত্যয়, অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে উঠা তার ইকো এগ্রো ফার্ম থেকে তিনি প্রতি মাসে কমপক্ষে একলক্ষ টাকা আয় করেন। প্রথম দিকে আপন জন ও প্রতিবেশীদের থেকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে তাকে। শিক্ষিত মেয়ে হয়ে চাকুরী না করে এসব খামার করছে কেন? মেয়ে মানুষের দ্বারা এসব হয় না এমন বিভিন্ন ধরনের কথা। কিন্তু তার স্বামী, শশুরবাড়ীর লোকজন, বাবা তাকে সব সময় সাহস যুগিয়েছে এবং তাদের সার্বিক সহযোগীতায় সে তার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। এখন তাকে আর কেউ এসব বলেনা। কেউ তাকে ছোট করে দেখেনা। বরং তার সফলতা দেখে এলাকার অনেক নারীরা উৎসাহিত হচ্ছে।

আগামী দিনঃ
আগামী দিনে তিনি এই টার্কি ও উট পাখির খামারটিকে আরো বড় করতে চান। সহযোগীতা করতে চান নতুন উদ্যোক্তাদেরকে। নিজের ফার্মে কর্মসংস্থান বাড়ীয়ে বেকারত্ব দুর করতে চান। তিনি বলেন পড়া লেখা শিখে চাকরির পিছনে না ছুটে প্রবল আত্ম প্রত্যয়ী হয়ে নতুন কিছু করতে হবে। তাহলেই আমরা এগিয়ে যাব। দেশ এগিয়ে যাবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)