ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১৯ মিনিট ২৯ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ , হেমন্তকাল, ১১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০

শিল্প-সংস্কৃতি ঋত্বিক সম্মাননা পদক পেলেন ভাষাসৈনিকসহ দু’জন গুনী

ঋত্বিক সম্মাননা পদক পেলেন ভাষাসৈনিকসহ দু’জন গুনী

নিরাপদনিউজ: ঋত্বিক কুমার ঘটক, উপমহাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাঙালি চলচ্চিত্রকার। আজ রোববার (৪ নভেম্বর) এ খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকারের ৯৩তম জন্মবার্ষিকী। জন্মবার্ষিকীতে চলচ্চিত্রকারের স্মরণে রাজশাহীতে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘৭ম ঋত্বিক ঘটক সম্মাননা পদক প্রদান ও চলচ্চিত্র উৎসব’। ২০০৯ সাল থেকে রাজশাহীতে প্রচলন ঘটেছে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক কুমার ঘটকের নামে প্রবর্তিত ‘ঋত্বিক কুমার ঘটক সম্মাননা পদক প্রদান ও চলচ্চিত্র উৎসব’। রাজশাহীর ঋত্বিক ঘটক ফিল্ম সোসাইটি প্রতিবছর পদ্মাশ্রী পুরষ্কারপ্রাপ্ত গুনী চলচ্চিত্রকারের স্বরণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। থিয়েটার, সিনেমা তথা সংস্কৃতি অঙ্গনে অসমান্য অবদানের জন্য এ উৎসবে গুনীব্যাক্তিদের সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়।

ঋত্বিক কুমার ঘটকের বহুল প্রচলিত উক্তি ‘ভাবো, ভাবো। ভাবা প্র্যাক্টিস করো’-কে স্লোগান হিসেবে সামনে রেখে ৭ম বারের মত আয়োজন করা হয়েছে ‘ঋত্বিক কুমার ঘটক সম্মাননা পদক প্রদান ও চলচ্চিত্র উৎসব-২০১৮’। তিন দিনব্যাপী (৪-৬ নভেম্বর) এ চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হবে রাজশাহীতে। আজ রোববার (৪ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় রাজশাহীর মিয়াপাড়াস্থ ঋত্বিক ঘটকের পিতৃভিটায় (রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বর) এ উৎসবের উদ্বোধন করা হয়েছে। ঋত্বিক ঘটক ফিল্ম সোসাইটি রাজশাহী আয়োজিত ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেদকে ঋত্বিক ঘটক সম্মাননা পদক-২০১৮ প্রদান করা হয়।

ঋত্বিক ঘটক ফিল্ম সোসাইটি রাজশাহীর সভাপতি ডা. এফএমএ জাহিদের সভাপতিত্বে উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন, উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক।

কথা সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক বলেন, ‘চলচ্চিত্র এমন একটি শক্তিশালী হাতিয়ার, যার দ্বারা ভালোকিছু সমাজের মানুষের কাছে পৌছে দিলে সমাজের ভালো পরিবর্তন আসবে। কারণ চলচ্চিত্র মানুষকে শিক্ষা দেয়। যার মানুষের মনে অনেক বেশি প্রভাব বিস্তার করে। তাই ভালো ভালো বিষয় নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হবে যাতে সমাজের মানুষের কল্যান হয়।’ অবিভক্ত ভারতবর্ষের বিষয়ে বলতে গিয়ে দেশভাগ আমি কখনো মেনে নেই নি, কখনো মনেও নি বলে উল্লেখ করে কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক বলেন, ‘ঋত্বিক ঘটক দেশ ভাগের কষ্টটা যেমন অনুভব করেছেন ঠিক তেমনি ভাবেই আমিও অনুভব করি। কারণ দেশ ভাগের কারণে ঋত্বিক ঘটক যেমন এপার বাংলা থেকে ওপার বাংলায় চলে গেছেন, আমিও তেমনি ভাবে ওপার বাংলাথেকে এপার বাংলায় চলে এসেছি’।
ঋত্বিক ঘটক ফিল্ম সোসাইটির উৎসব সমন্বয়কারী চলচ্চিত্র নির্মাতা আহসান কবীর লিটন এবং সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হোসেন মাসুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, শিক্ষাবিদ ও কবি রুহুল আমিন প্রামানিক, বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার আকরাম খান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ সভাপতি অধ্যাপক সাজ্জাদ বকুল। ঋত্বিককে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন, চলচ্চিত্র প্রযোজক হাবিবুর রহমান খান।
রাজশাহীর সিনেমা হলের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে রাজশাহীতে আগে সিনেমা হল ছিল। একে একে রাজশাহীতে সব সিনেমা হল বন্ধ করে সেগুলো ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। সম্প্রতিকালে উপহার হলও বন্ধ হয়েছে। হয়তো অল্পসময়ের মধ্যেও সেটিও ভেঙ্গে ফেলা হবে বলে উল্লেখ করে মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘রাজশাহীতে বেশকিছু সিনেপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে। সেগুলো হবে অত্যাধুনিক মানের। কিন্তু সেগুলোতে তো সকল শ্রেনীপেশার মানুষ প্রবেশ করতে পারবে না। তাই সমাজের সকল শ্রেনীপেশার জনসাধারণের একসাথে চলচ্চিত্র দেখার জন্য রাজশাহীতে সিনেমা প্রদর্শনীর হল করার বিষয়ে আমি পদক্ষেপ নেব। যাতে সাধারণ জনসাধারণ সিনেমা হলের অভাব অনুভব না করেন।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনা করেন, রাজশাহীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ধ্রুপদালোক এবং সঙ্গীত পরিবেশনায় ছিলেন, রকিবুল হাসান রবিন।
নগরীর পাঠান পাড়াস্থ লালন শাহ মুক্তমঞ্চে সন্ধ্যা ৬টা হতে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় সোমবার (৫ নভেম্বর) কমলেশ্বর মুখাজীর ‘মেঘে ঢাকা তারা (ঋত্বিক বয়োপিক) ও তৃতীয় দিন মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) ঋত্বিক কুমার ঘটক’র ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)