ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৩১ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ৯ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২৪ সফর, ১৪৪১

কিডস একুশে গ্রন্থমেলায় শিশুপ্রহর শেষ

একুশে গ্রন্থমেলায় শিশুপ্রহর শেষ

 একুশে গ্রন্থমেলায় শিশুপ্রহর শেষ


একুশে গ্রন্থমেলায় শিশুপ্রহর শেষ

ঢাকা, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, নিরাপদনিউজ : শনিবার ছিল অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ছিলো শিশুপ্রহরের শেষ দিন। এছাড়া মেলায় নতুন বই এসেছে  ১৪৭টি এবং ১২টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এ পর্যন্ত মেলায় মোট নতুন বই এসেছে ১৯২৯টি। শনিবার সকাল ১০টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোরদের সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব। প্রতিযোগিতায় ক-শাখায় সাধারণ জ্ঞান বিভাগে ১ম হয়েছেন, দীপাণিতা বিশ্বাস শৈলী, ২য়-হোসাইন এবং ৩য় হয়েছেন আকিবা আফরোজ। খ-শাখায় উপস্থিত বক্তৃতা বিভাগে ১ম হয়েছেন ফারিয়া তাসনিম, ২য়-নামিরা রহমান অন্তনা এবং ৩য় হয়েছেন আনাম আবরার। এতে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খায়রুল আলম সবুজ, অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এবং শাহিদা খাতুন। প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন একাডেমির উপপরিচালক মুর্শিদুদ্দিন আহম্মদ।
বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় অধ্যাপক সরদার ফজলুল করিম শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রায়হান রাইন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম এবং অধ্যাপক জিয়া রহমান। সভাপতিত্ব করেন এমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
প্রাবন্ধিক বলেন, সরদার ফজলুল করিমের দর্শনে আমরা এই সত্য পাই যে- জীবন জয়ী হবে, মানুষ স্বপ্ন দেখে বলেই। আমরা স্বপ্নের দিকেই এগিয়ে যাই। সরদার এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আমাদের সংকটকে খুব স্পষ্ট দেখতে পেতেন। আমাদের রাজনৈতিক সংকটের মূলে তিনি আবিষ্কার করেছেন শ্রেণিচরিত্রহীন মধ্যবিত্তকে। তিনি মনে করেন আমাদের রাজনৈতিক সংকটের সমাধান এই মধ্যবিত্তের হাতে নেই, আছে নিপীড়িত মানুষের হাতে। সেই নিপীড়িত মানুষ যে সঙ্কট সমাধানে এগিয়ে আসবে, নতুন নেতৃত্ব তৈরির শর্তগুলি সৃষ্টি হবে, এমন রাজনীতির সক্রিয় উপস্থিতিই সরদার ফজলুল করিমের স্বপ্নকে সফল করতে পারে।
আলোচকবৃন্দ বলেন, সরদার ফজলুল করিম মানুষের মুক্তির জন্য সারাজীবন লড়াই করে গেছেন। তিনি জ্ঞানের চর্চাকে সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। একদিকে যেমন দর্শনের বিশ্বখ্যাত পুস্তকসমূহ বাংলায় অনুবাদ করে বাঙালি পাঠকের সঙ্গে বিশ্বমনীষার যোগ ঘটিয়েছেন অন্যদিকে সাংগঠনিক সক্রিয়তার মধ্য দিয়ে একটি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সরদার ফজলুল করিম দর্শন ও তত্ত্বের পরিসরের সঙ্গে অনুবাদের মাধ্যমে আমাদের পরিচয় ঘটিয়েছেন। কিন্তু এই কাজে ব্যাপৃত থেকে সমাজবিচ্ছিন্ন বুদ্ধিজীবীতে পরিণত হননি। মানুষের সার্বিক মুক্তির লক্ষে তিনি সাম্যবাদী রাজনৈতিক তৎপরতায় নিজে সক্রিয় ছিলেন, তরুণ প্রজন্মকেও উদ্বুদ্ধ করেছেন সমাজের মানবিক রূপান্তরের স্বপ্নে। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিদিনের সংগ্রামে ও স্বপ্নে সরদার ফজলুল করিম চির-ভাস্বর হয়ে থাকবেন।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সুলতানা হায়দারের পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন : ‘সুকন্যা নৃত্যাঙ্গন’ নৃত্য পরিবেশন করেন। সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী খুরশিদ আলম, আঞ্জুমান আরা শিমুল, নবীন কিশোর, হাসান মাসুদ, সুমনা হক, খালেদ মুন্না, সোমা হক, মাহবুব আর বিপাশা এবং এস.এম. মেজবা উদ্দীন। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন বাবু জয় প্রসাদ সিংহ রায় (তবলা), হাসান আলী (বাঁশি), মোঃ ফারুক (প্যাড) এবং শাহরাজ চৌধুরী তপন (গীটার)।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)