আপডেট ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৯

ঢাকা মঙ্গলবার, ৪ আষাঢ়, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১৪ শাওয়াল, ১৪৪০

মিডিয়া এক গ্ল্যামার ফটোগ্রাফারের গল্প

এক গ্ল্যামার ফটোগ্রাফারের গল্প

নিরাপদ নিউজ: কোন চিন্তা- ভাবনা ছাড়াই মিডিয়াতে জড়িয়ে পড়েন এ সময়ের জনপ্রিয় গ্ল্যামার ফটোগ্রাফার তুহিন হোসেন। বর্তমানে দেশীয় শোবিজ গ্ল্যামার ফটোগ্রাফিতে বেশ সুনাম রয়েছে তার। তবে আজকে তার সফলতার পিছনে রয়েছে দায়িত্বশীলতা, কঠোর পরিশ্রম ও সৃজনশীলতা। তার দীর্ঘ ২০ বছরের ক্যারিয়ারে এই ৩টির মাধ্যমেই নিজকে প্রতিষ্ঠা করেছেন তুহিন হোসেন। দেশে-বিদেশে কাজ করে যাচ্ছেন সুনামের সাথে। তুহিন হোসেনের সাথে তার ক্যারিয়ার নিয়ে আলাপকাল জানান তার শুরু ও সফল হবার গল্প। তুহিন ১৯৯৮ সালে সাংবাদিকতায় নাম লেখান। ওই সময় জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ‘ সাপ্তাহিক ২০০০’ ও পাক্ষিক আনন্দধারা’ পত্রিকায় যোগ দেন ষ্টাফ ফটোগ্রাফার হিসেবে। তার দায়িত্ব পালনে কর্তৃপক্ষ খুশী হওয়ায় তাকে ২০০২ সালে দায়িত্ব দেয়া হয় চিফ ফটোগ্রাফার পদে। এ দায়িত্ব পালন করেন ২০১৫ সাল পর্যন্ত। এ ছাড়া ডেইলে ষ্টার পত্রিকার সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ‘ ষ্টার শোবিজ’ এরও দায়িত্ব পালন করেন । তার হাত দিয়ে দেশে অনেক সেলিব্রিটির কাভার ফটোশুট হয়েছে। তার তোলা ছবি দিয়ে দেশের বিভিন্ন ম্যাগাজিন পত্রিকায় ৩ শতাধিক কাভার প্রকাশিত হয়েছে। শুধু তাই না দেশের আলোচিত বিউটি কনটেষ্ট ‘ লাক্স আনন্দধারা মিস ফটোজেনিক’ ১৯৯৮-২০০৪ সাল পর্যন্ত অফিসিয়াল ফটোগ্রাফার ছিলেন তুহিন হোসেন । এবং ২০০৭ ও ২০০৮ সালে ‘ লাক্স – চ্যানেল আই সুপারষ্টার’ প্রতিযোগিতায় অফিসিয়াল ফটোগ্রাফারের দায়িত্ব পালন করেছেন। তুহিন হোসেন জানান, তার প্রথম গ্ল্যামার ফটোগ্রাফির তারকা ছিলেন প্রিয়দর্শিণী মৌসুমী। এটাই ছিলো ২০০২ সালে আমার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। শুধু সাংবাদিকতাই করিনি, এর পাশাপাশি গড়ে তুলি ফটো ষ্টুডিও। এর নাম রাখি ‘ তুহিন হোসেন ফটোগ্রাফি’। সেলিব্রিটিদের ফটোগ্রাফির সাথে সাথে আমি কর্মাশিয়াল কাজও করতে থাকি। এরমধ্যে রয়েছে বিঞ্জাপন ও বিলবোর্ড ফটোগ্রাফি। এর পাশে গ্ল্যামার ফটোগ্রাফি, ফ্যাশন ফটোগ্রাফি, প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি, কর্পোরেট ফটোগ্রাফিসহ সব ধরনের কাজ করতে থাকি। এক সময় ব্যস্ত হয়ে পড়ি। ব্যস্ততার কারনে আর চাকুরী করা সম্ভব হচ্ছিলো না তাই ২০১৫ সালে চাকুরিটা ছেড়ে দেই।

চাকুরী ছেড়ে দিয়ে হয়ে যাই ফ্রিল্যান্স।বর্তমানে ফ্রিল্যান্সার হয়েই কাজ করছি। আজ আমি স্বাধীন। নতুন নতুন কাজ করছি। আনন্দও পাচ্ছি। দেশীয় শীর্ষ স্থানীয় বিঞ্জাপনী এজেন্ট, ফ্যাশন হাউজ, মাল্টিন্যাশনাল কর্পোরেট সেক্টরে কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে কাজের মূল্যায়ন হিসেবে স্বীকৃতিও পেয়েছি। বিনোদন সাংবাদিকদের সংগঠণ বাংলাদেশ কালচারাল রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন থেকে ‘ বেষ্ট গ্ল্যামার ফটোগ্রাফার’ এ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। এ বছরের ৫ সেপ্টেম্বর ইনডেক্স মিডিয়া আয়োজিত ‘ বেষ্ট গ্ল্যামার ফটোগ্রাফার ‘ এ্যাওয়ার্ড পেলাম। এছাড়া এ সেপ্টেম্বর মাসেই আরেকটি এ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। সেটি হচ্ছে বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘ বেষ্ট ফটোগ্রাফার’ এ্যাওয়ার্ড। এ বছরের শুরুতে গত মে মাসে দৃক গ্যালারীতে একক প্রদর্শণীর আয়োজন করেন । তার তোলা বিভিন্ন সময়ের নির্বাচিত ৭৫ জন সেলিব্রিটির ছবি নিয়ে একক প্রদর্শণী অনুষ্ঠিত হয়ে। প্রদর্শণীটি উদ্বোধন করেন জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী অপি করিম। এতে অনেক সেলেব্রিটি ও দর্শক উপস্থিত হন। সাড়াও পান। এদিকে, তুহিন হোসেন সেপ্টেম্বর মাসেই ভারতের রাজধানী দিল্লীতে ফটোশুট করতে ভারত যান।

দিল্লীতে তার ফটোশুট এর কাজ চলে। তবে এবার ছিলো বিদেশী মডেল। ৬ জন রাশিয়া ও পোল্যান্ডের মডেল নিয়ে ফটোশুট করেন। এদের ফটোশুট নিয়ে ফ্যাশান ইন্ডাষ্ট্রিতে ব্রোশিয়ার প্রকাশিত হবে। তুহিন হোসেন বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি থেকে বেসিক ফটোগ্রাফি, ভারতের দিল্লী ও মুম্বায় থেকে অ্যাডভান্স ফটোগ্রাফি কোর্স সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন ফটোগ্রাফি ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করেছেন বলে জানান। তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি রয়েছে জানতে চাইলে এ সময়ের জনপ্রিয় গ্ল্যামার ফটোগ্রাফার তুহিন হোসেন বলেন, আমার স্বপ্ন ইন্টারন্যাশনাল পর্যায়ে ফটোগ্রাফি করার। এ স্বপ্নকে লালন করে নিষ্ঠার সাথে ফটোগ্রাফি করে যাচ্ছি।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)