ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট জুলাই ৮, ২০১৯

ঢাকা বুধবার, ৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

বিনোদন এখনও বড় পর্দায় অভিনয়ের আগ্রহ রয়েছে: চাঁদনী

এখনও বড় পর্দায় অভিনয়ের আগ্রহ রয়েছে: চাঁদনী

নিরাপদ নিউজ: মূলত নৃত্যশিল্পী, তবে মডেল ও অভিনেত্রী হিসেবে সমানতালে জনপ্রিয়। বলছি মাহবুবা মেহনূর চাঁদনীর কথা। কিন্তু চলচ্চিত্রের পর্দায় তার উপস্থিতি নেই বললেই চলে। কিন্তু কেন? কথা উঠতেই চাঁদনী বললেন, দুখাই, লালসালু, জয়যাত্রা ও বিষ- এই চারটি ছবি আমার ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। জয়যাত্রা এবং লালসালু ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ট অভিনেত্রী (প্রধান চরিত্র) ও শ্রেষ্ট অভিনেত্রী (পার্শ্ব চরিত্র) হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করি। এসব অর্জন আমাকে আরও দায়িত্বশীল করেছে। তাই বড়পর্দায় কাজ করতে হচ্ছে হিসেব করে। তাছাড়া নানামুখী ব্যস্ততা, পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে এ মাধ্যমে আর কাজ করা হয়ে ওঠেনি। তবে ভালো কাজের সুযোগ পেলে এখনও বড় পর্দায় অভিনয়ের আগ্রহ রয়েছে। দেশে এখন অনেকে ভালো ছবি নির্মাণ করছেন। ইন্ডাস্ট্রিও একটা বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মাঝে সময়টা খারাপ গেছে, যার অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পেরেছি আমরা।
এখন নতুন করে কোন পরিকল্পনা আছে কিনা বা ক্যারিয়ার ভাবনা কি জানতে চাইলে চাঁদনী বলেন, ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন করে সেভাবে কিছু ভাবিনি। কারণ মিডিয়ায় আসার শুরু থেকেই চেষ্টা করেছি ভালো কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে। এমন কাজ করতে চেয়েছি, যার মাধ্যমে দর্শক আমাকে অনেক দিন মনে রাখে। এটা ঠিক, মাঝে বেশ কিছু সময় মিডিয়া থেকে দূরে ছিলাম। তবে কাজে ফেরার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের স্বীকৃতিই অনুপ্রেরণা। এছাড়াও নিয়মিত হওয়ার পর চেষ্টা করেছি ভিন্ন ধরনের কাজের মধ্য দিয়ে আবারও দর্শকের কাছাকাছি যাওয়ার। নাচ নিয়েও বিভিন্ন নিরীক্ষাধর্মী কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। এতদিনের বিরতিতে কিছুটা আশঙ্কা ছিল, দর্শক কি আমাকে ভুলে যেতে বসেছে? তবে এ ধারণা সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। কারণ, আমার অভিনীত কোনো নাটক প্রচার হলে এখনও অনেক ভক্ত শুভকামনা জানান। এটা ভীষণ ভালো লাগার ব্যাপার।
নাটক প্রসঙ্গ আসতেই বাংলাভিশনে প্রচারচলতি ধারাবাহিক নাটক ‘পাগলা হাওয়া’র কথা আসে। এ নাটক দিয়ে দর্শক রেসপন্স ভালই পাচ্ছেন চাঁদনী। নাটকটির এই সাড়া কেন জানতে চাইলে চাঁদনী বলেন, আমি মনে করি ভিন্ন ধারার গল্প অবলম্বনে যখন কোনো নাটক নির্মিত হয়, তা নিয়ে দর্শকের মাঝে এক ধরনের আলোড়ন তৈরি হয়। সমসাময়িক অন্যান্য গল্প থেকে পাগলা হাওয়া অনেকটাই আলাদা। সে কারণে অনেকে নাটকটি নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।এ ছাড়া নাটকে আমার অভিনীত ভারসাম্যহীন নারীর চরিত্রটিও অনেকে পছন্দ করেছেন বলে জানিয়েছেন। আসলে এ ধরনের গল্পে নাটক সেভাবে নির্মিত হয়নি। অন্যান্য হাসির নাটকের চেয়ে ‘পাগলা হাওয়া’র গল্প কিছুটা হলেও আলাদা। গল্পে মজার ঘটনার মধ্য দিয়ে সমাজের অবহেলিত একটি শ্রেণিকে দেখানো হয়েছে। একটি মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কিছু ভারসাম্যহীন মানুষের চালচিত্র উঠে এসেছে এ নাটকে। নির্মাতা আশিক মাহমুদ রনি গল্পটি এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন, যাতে দর্শক আনন্দ পাওয়ার পাশাপাশি মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষদের নিয়ে আলাদা করে ভাবেন। এ জন্যই অনেকে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নাটকটি নিয়মিত দেখছেন।
একজন নৃত্যশিল্পী হয়েও অভিনয়ে বেশি সময় ব্যয় কেন? বললেন নাচ কি অভিনয়ের বাইরে। নাচের প্রতিটি মুদ্রায় অভিনয় রয়েছে। তবে এখন নাচে তেমন একটা ব্যস্ততা নেই। ঈদের পর সেভাবে কোনো নাচের অনুষ্ঠানে অংশ নিইনি। এ সময় দেশের বেশ কিছু স্থান ঘুরে বেড়িয়েছি। তবে ঈদুল আজহার জন্য বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেল ও স্টেজ শো পারফরম্যান্সের জন্য কথাবার্তা চলছে। সবকিছু চূড়ান্ত হলে আগামী ঈদে বেশ কয়েকটি নাচের অনুষ্ঠানে দেখা যাবে আমাকে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)