ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট জুন ৫, ২০১৯

ঢাকা শনিবার, ৫ শ্রাবণ, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১৬ জিলক্বদ, ১৪৪০

বিনোদন, লিড নিউজ এটিএম শামসুজ্জামানকে দেখতে ঈদের দিন হাসপাতালে ছুটে গেলেন ইলিয়াস কাঞ্চন

এটিএম শামসুজ্জামানকে দেখতে ঈদের দিন হাসপাতালে ছুটে গেলেন ইলিয়াস কাঞ্চন

নিরাপদ নিউজ: টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা এটি এম শামসুজ্জামান। সম্প্রতি বরেণ্য এই অভিনেতা র শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চিকিৎসকরা শেষ পর্যন্ত বাড়ি ফেরার অনুমতি দেননি তাকে। তাই ঈদটা হাসপাতালেই কাটাতে হচ্ছে এই অভিনেতাকে। অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হবার পর বেশ কয়েকবার প্রিয় এই মানুষটিকে দেখতে ও চিকিৎসার খোঁজ খবন নিতে সেখানে গেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। আজ পবিত্র ঈদ। এই দিনটিতে অসুস্থ্য অবস্থায় কেমন কাটছে এটি এম শামসুজ্জামান এর সময়। মনে পড়তেই সকালে ঈদের নামাজ পড়েই সরাসরি রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বর্ষীয়ান অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানকে দেখতে যান বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। ইলিয়াস কাঞ্চনের সাথে তার ছেলে মিরাজুল মইন জয় ও উপস্থিত ছিলেন। তারা  এটি এম শামসুজ্জামান এর শয্যা পাশে গিয়ে স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর নেন ।

কর্ম জীবনে এদুজন অভিনেতার অসংখ্য সিনেমা রয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ তারা এক সাথে কাজ করেছেন। দর্শকদের উপহার দিয়েছেন অনেক জনপ্রিয় ছবি। ঈদে এই দিনে হাসপাতালে ইলিয়াস কাঞ্চনকে পাশে পেয়ে এটিএম যেন খুশীতে আত্মহারা হয়ে ওঠেন। দীর্ঘদিনের চলার সাথী অতি আপান জনকে বুকে জরিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।

এটিএম এর সাথে দেখা করে আসার পর ইলিয়াস কাঞ্চন জানান, উনি অসুস্থ্য হবার পর আমি নিয়মিত তাঁর খোঁজ খবর রাখছি। বেশ কয়েকবার এখানে তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। আজ ঈদের এই দিনে আমাদের সকলের প্রিয় এই মানুষটি হাসপাতালে সুয়ে আছেন। আমি যতদুর জানি জীবনের এই প্রথম তিনি হাসপাতালে ঈদ করছেন। তাঁর সাথে আমার দীর্ঘ দিনের পরিচয়, এত স্মৃতি। যা বলে বোঝানো যাবেনা। ইলিয়াস কাঞ্চন নিরাপদ নিউজকে বলেন, এটিএম ভাই আমার মরহুমা স্ত্রী জাহানারার ভীষন প্রিয় একজন মানুষ ছিলেন। এটিএম ভাই আমার স্ত্রীকে ভীষন স্নেহ করতেন। যে কথাটি না বললেই নয়,আপনারা জানেন এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আমার স্ত্রী মারা যায়। সেদিন আমার স্ত্রীর সাথে ঐ গাড়িতে এটিম ভাই ও ছিলেন। তিনি বলেন, সেদিন এটিএম ভাই এর কোন সিনেমার সুটিং ছিলোনা। এরপরও তিনি আমার স্ত্রীর সাথে আমার কাছে আসছিলেন দেখা করতে। একজন মানুষ কতটা আপন হলে সে সময় জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা একজন অভিনেতা কাজ ছাড়াই এভাবে আমাদের সময় দেন তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

ইলিয়াস কাঞ্চন দেশবাসী সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন সবার প্রিয় এই মানুষটি যেন দ্রুত সুস্থ্য হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসেন। ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, এটি এম শামসুজ্জামান এখনো পুরোপুরি সুস্থ্য হয়ে উঠেননি। চিকিৎসা চলছে, এই অবস্থায় তাকে বাসায় রেখে চিকিৎসা করাটা ঠিক হবেনা। একারণে চিকিৎসকরা তাকে বাসায় যেতে বারণ করেছেন।  আমরা চাই তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুন। সবাই এটিএম শামসুজ্জামান এর জন্য দোয়া করবেন আল্লাহ যেন তাকে তাড়াতাড়ি সুস্থ করে দেন। ইলিয়াস কাঞ্চন আরো বলেন,হাসপাতালে থাকতে থাকতে উনি নিঃসঙ্গতায় ভুগছেন। এসময় তার পাশে সহকর্মিদের থাকাটা ভীষণ প্রয়োজন। ইলিয়াস কাঞ্চন সকল শিল্পীদের অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান এর পাশে থাকার জন্য আহবান জানান।

উল্লেখ্য,টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা এটি এম শামসুজ্জামান। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চিকিৎসকরা শেষ পর্যন্ত বাড়ি ফেরার অনুমতি দেননি তাকে। তাই ঈদটা হাসপাতালেই কাটাতে হচ্ছে এই অভিনেতাকে।

গত ২৬ এপ্রিল রাত ১২টার দিকে অসুস্থ বোধ করায় এ টি এম শামসুজ্জামানকে আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর হঠাৎ করেই তার রেচন প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দেয়। গত ২৭ এপ্রিল তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। কিন্তু ৩০ এপ্রিল শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। এরপর সুস্থতা অনুভব করলে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেয়া হয়। কিন্তু পুনরায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবারো তাকে লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয়।

১৩ মে আনুষ্ঠানিকভাবে এটিএম শামসুজ্জামানের চিকিৎসার সব ধরনের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই অভিনেতার চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকার চেক হাসপাতালের তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এটিএম শামসুজ্জামান অভিনয়ে পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে পান রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার এবং নির্মাতাও।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)