ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৬

ঢাকা শনিবার, ৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২৫ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

লিড নিউজ, সড়ক সংবাদ এনা পরিবহনের চালকদের কর্মশালায় ইলিয়াস কাঞ্চন: গতির একটা ক্ষতি আছে, অতি গতি নিয়ন্ত্রণহীন

এনা পরিবহনের চালকদের কর্মশালায় ইলিয়াস কাঞ্চন: গতির একটা ক্ষতি আছে, অতি গতি নিয়ন্ত্রণহীন

এনা পরিবহনের চালকদের কর্মশালায় ইলিয়াস কাঞ্চন: গতির একটা ক্ষতি আছে, অতি গতি নিয়ন্ত্রণহীন

এনা পরিবহনের চালকদের কর্মশালায় ইলিয়াস কাঞ্চন: গতির একটা ক্ষতি আছে, অতি গতি নিয়ন্ত্রণহীন

লিটন এরশাদ, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬, নিরাপদনিউজ: এনা পরিবহন (প্রাঃ) লিঃ এর চালকদের সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে গতকাল ২৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার মহাখালী বাস টার্মিনালে আলোচনা সভা ও ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি পালিত হয়। এনা পরিবহনের মালিক খন্দকার এনায়েত উল্যাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সচেতনতামূলক কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।আরো বক্তব্য রাখেন মহাখালী আন্তঃ জেলা বাস টার্মিনালের শ্রমিক নেতা সাদেকুর রহমান হিরু।
উল্লেখ্য এবারের ঈদের ছুটিতে সংগঠিত সড়ক দুর্ঘটনায় এনা পরিবহন বাসের নামটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনা পরিবহনের একটি বাস মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে একাধিক যাত্রীর হতাহতের ঘটনা ঘটে। গণমাধ্যমে সেই সময় প্রকাশ পেয়েছিল গাড়িটি ওভার স্পীডে চলছিল বলে এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। সেই সময় এই পরিবহনের মালিক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ দেশের বাহিরে ছিলেন। তিনি দেশে ফিরে এসে ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে জানতে পারেন, তার নির্দেশিত নিয়মাবলী গাড়ির চালকেরা পালন করেন নি। বিষয়টিতে তিনি মর্মাহত হয়ে বিভিন্ন রুটে চলাকারী এনা পরিবহন (প্রাঃ) লিঃ এর ১৫০ টি গাড়ির চালক, সুপারভাইজার , হেলপারদের নিয়ে গতকালের এই আয়োজন করেন। এই চালক-শ্রমিক সমাবেশে তিনি দুঃখ করে বলেন, আমি কোটি-কোটি টাকা বিনিয়োগ করে দেশের মানুষের কাছে অসম্মানিত হচ্ছি। আমি চালক ভাইদের বলব এই বিনিয়োগ কি আমার অপরাধ ছিল? আপনাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দুর্নাম কেন অর্জন করবো। তিনি আরো বলেন, আমি শ্রমিক নেতাদের অনুরোধে হেলপার থেকে সুপারভাইজার হওয়া ব্যাক্তিদের আমার বাসে সুপারভাইজার পদে নিয়োগ করি শ্রমিকদের কল্যাণার্থে। কিন্তু প্রায়শই দেখা যায় আমার গাড়ির চালকেরা যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করছে তার সঠিক রিপোর্ট পাই না। বিষয়টির একটু গভীরে গিয়ে বুঝতে পারি, এই সুপারভাইজারদের অনেকে এই সব চালকদেরই হেলপার ছিলেন। তাই ওস্তাদের বিষয়টি মাথায় রেখে তারা সঠিক রিপোর্ট দেয় না। আমি বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা হিরু ভাইয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলবো, আপনাদের সুপারিশে সুপারভাইজার নিয়োগ করে কি ভুল করেছি? সঠিক কারণ না জানতে পারলে সমাধান যখন হবে না প্রশ্ন হচ্ছে এর কারণে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায়দায়িত্ব কে বহন করবে? আমি মালিক হিসেবে সব দায় কি আমার?

এনা পরিবহন (প্রাঃ) লিঃ এর চালকদের সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে গআয়োজিত আলোচনা সভা ও ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন খন্দকার এনায়েত উল্যাহ ও শ্রমিক নেতা সাদেকুর রহমান হিরু

এনা পরিবহন (প্রাঃ) লিঃ এর চালকদের সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে গআয়োজিত আলোচনা সভা ও ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন খন্দকার এনায়েত উল্যাহ ও শ্রমিক নেতা সাদেকুর রহমান হিরু

তিনি আরো দুঃখ করে বলেন, আমার পরিবহনের চালকদের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশ্রাম, ঘুম, খাওয়া-দাওয়া ঠিকমত করতে পারে তার জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করেছি। এখন চালকেরা যদি পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নিয়ে যদি গাড়ি চালান তার জন্য কি আমি দায়ী ? অথচ বিদেশের মাটিতে বসে আমাকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে। আমি চালক-শ্রমিক বান্ধব একজন মালিক হিসেবে তাদের বেতন বাড়ানোসহ চিকিৎসা, পুনর্বাসন, নানাবিধ আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে তাদের আমার নির্দেশিত পথে গাড়ি চালাতে সব সময় অনুরোধ করে থাকি। সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের একজন সদস্য হিসেবে নির্দিষ্ট গতিবেগ (৮০কিঃমিঃ) অনুসরণ করতে আমার সকল চালকদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছি। এমনকি মনিটরিং যাতে যথাযথ ভাবে হয় তার জন্য নিজ খরচে গাড়িতে গর্ভণর সিল লাগিয়েছি। অথচ দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় প্রায় গাড়িতে গর্ভণর সিলের তার কাটা হয়েছে। কে কাটলো বা কেন কাটলো তার এখনো কোন সদ্বউত্তর পাই নি। তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে কঠোর কোন সিদ্ধান্ত নিতে গেলে নানা বাধার সম্মুখিন হই।তিনি বলেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে পরিবহন ব্যবসায় আমার থাকাটা দায় হয়ে দাঁড়াবে। আমি সকল চালক-শ্রমিক ভাইদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাবো আজকের পর থেকে সবাই এনা পরিবহনের নির্দেশমত গাড়ি চালাবেন, যাত্রি-পথচারীদের জান-মালের হেফাজতের দায়িত্ব নিবেন, যিনি যে গাড়ি চালাবেন নিজের গাড়ি মনে করে রক্ষণাবেক্ষন করবেন। আমি আপনাদের পাশে আছি পাশে থাকবো- এই কথা দিলাম। আপনাদের প্রতি আরেকটি অনুরোধ জানাবো আজকের এই আয়োজিত কর্মশালায় নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের প্রবাদ পুরুষ চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন যা বলবেন, যা শেখাবেন, যা করতে বলবেন, যা পালনীয়- সর্বপরি নিয়ম মানার যে আহবান জানবেন তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন। আমি বিশ্বাস করি, গুণী এই মানুষটির সংস্পর্শে-নির্দেশে সড়কে সফল একজন চালক হতে পারবেন।
বিশিষ্ট পরিবহন শ্রমিক নেতা সাদেকুর রহমান হিরু বলেন, এখন থেকে যারা অতিরিক্ত ট্রিপ দিতে যাবেন তাদের আর গাড়ি চালাতে দেওয়া হবে না। আপনাদের চাকরীতে নিয়োগের সময় যে শর্তাবলী দেওয়া হয়েছে তার একটার ব্যতিক্রম হলে গাড়ির স্টিয়ারিং-এ বসতে দেওয়া হবে না। গাড়িই যদি রাস্তায় না থাকে তাহলে আপনাদের কর্মসংস্থান কিভাবে হবে? তাই সকলে গাড়ির প্রতি যত্নবান হয়ে সড়কে নিয়ম মেনে গাড়ি চালাবেন এই আহবান জানাচ্ছি।

এনা পরিবহন (প্রাঃ) লিঃ এর চালকদের সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে গআয়োজিত আলোচনা সভা ও ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি

এনা পরিবহন (প্রাঃ) লিঃ এর চালকদের সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে গআয়োজিত আলোচনা সভা ও ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি

পরিশেষে এনা পরিবহন (প্রাঃ) লিঃ এর চালকদের জন্য আয়োজিত এই কর্মশালার প্রধান আর্কষণ নিরাপদ সড়ক চাই এর চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সড়কে দুই ধরণের চালক রয়েছে। এক দক্ষ চালক, দুই অদক্ষ চালক, ধৈর্যশীল চালক, অধৈর্যশীল চালক, মানবিক চালক, অমানবিক চালক, ভালো ব্যবহারের চালক, মন্দ ব্যবহারের চালক- অথচ যারা দক্ষ, ধৈর্যশীল, মানবিক ও ভালো ব্যবহারের চালক তারা অদক্ষ, অধৈর্যশীল, অমানবিক ও মন্দ ব্যবহারের চালকদের জন্য সমাজে হেয় হচ্ছেন, ঢালাওভাবে দোষী হচ্ছেন, অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছেন। অদক্ষ, অধৈর্যশীল, অমানবিক ও মন্দ ব্যবহারের চালকদের জন্য সড়ক অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে, সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। ফলে দক্ষ, ধৈর্যশীল, মানবিক ও ভালো ব্যবহারের চালকেরাও এর দায় বহন করছেন। আজ সময় এসেছে এদের চিহ্নিত করে আপনাদেরই নিবৃত্ত করতে হবে। অদক্ষ, অধৈর্যশীল, অমানবিক ও মন্দ ব্যবহারের চালকেরা যেন সড়কে গাড়ি না চালাতে পারে, কাউকে যেন গাড়ির চাকায় পিষ্ট করে না মারতে পারে সে দিকে কঠোর নজরদারী করতে হবে। এই ধরনের চালকদের ‘কাউকে মারবো না, ঠিকমত গাড়ি চালাবো’ এই মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
আপনাদের আরেকটা কথা জানতে হবে, গতির একটা ক্ষতি আছে। অর্থাৎ যত গতি তত ক্ষতি। অতি গতি নিয়ন্ত্রণহীন। দ্রুত গতিতে গাড়ি যখন সড়কে চলাচল করে তখন গাড়ি হালকা হয়ে যায়, তখন রাস্তা এবং গাড়ির চাকার মাঝে একটা গ্যাপ তৈরী হয়। যেমন জাপানে একটি ট্রেন যখন ৩০০ কিঃ মিঃ বেগে চলে তখন রেল লাইনের সাথে ঐ ট্রেনের চাকার একটা গ্যাপ তৈরী হয়। কিন্তু ট্রেনটি নিয়ন্ত্রণ করে চুম্বক যে কারণে গতি কমে এলে লাইনের উপরেই ট্রেনটি থামে। কিন্তু সড়কেতো এই ব্যবস্থা নেই। সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট গতি বেগের বাহিরে গাড়ি চালালে তখনই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। আরেকটি কথা মনে রাথতে হবে। ওভার স্পীডে গাড়ি চলার সময় গাড়ি হালকা হয়ে যায়। তখন সামান্য একটু টোকা লাগলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। অতএব গতির যে ক্ষতি আছে তা আজ থেকে মাথায় নিয়ে আগামীতে গাড়ি চালাবেন। আরেকটি কথা এই গতি কতটা শক্তিশালী তা বিমান আকাশে উড়ার দিকে তাকালে বোঝা যায়। যেমন বিমান যখন আকাশে উঠে তখন অতিরিক্ত গতি দিয়ে উঠাতে হয়। আবার যখন নামে তখন গতি কমিয়ে আনতে হয়।গতিই একটি বিমানকে যেখানে আকাশে উঠতে সাহায্য করে সড়কে ঐ গতি একটি গাড়িকে অনিরাপদ করে তোলে। এই বিষয়টি আপনদের মনে রাখতে হবে।
ওভারটেকিং এর ব্যাপারে প্রতিটি সড়কে একটি নির্দেশিকা আছে কোথায় ওভারটেক করতে হবে কোথায় করা যাবে না। অতিরিক্ত গতিতে ওভারটেকিং করবেন না। নিয়ম মেনে গতি কমিয়ে গাড়ির ব্যাস দেখে সামনের গড়ির দুরত্ব অনুধাবন করে সঠিক মাপে ওভারটেকিং করবেন। তেমনি আপনি যেমন ওভারটেক করবেন অন্যকেও ওভারটেক করতে দিবেন। নিজে করবেন অন্যকে করতে দিবেন না- এই মানসিকতা থেকে আপনাদের বের হয়ে আসতে হবে। সবশেষে বলবো নিয়ম মেনে গাড়ি চালাবেন, নিরাপদে বাড়ি ফিরবেন, এই প্রতিজ্ঞা করে প্রতিদিন সড়কে নামবেন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)