ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৫ মিনিট ১৭ সেকেন্ড

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ , হেমন্তকাল, ৫ রবিউস-সানি, ১৪৪০

বিনোদন, লিড নিউজ এফডিসিতে জানাজা শেষে কুষ্টিয়ার পথে মিজু আহমেদের লাশ

এফডিসিতে জানাজা শেষে কুষ্টিয়ার পথে মিজু আহমেদের লাশ

এফডিসিতে জানাজা শেষে কুষ্টিয়ার পথে মিজু আহমেদের লাশ

২৮ মার্চ ২০১৭, নিরাপদ নিউজ : জনপ্রিয় অভিনেতা মিজু আহমেদকে শেষবারের মতো তার প্রিয় কর্মস্থল বিএফডিসিতে আনা হয়েছিল। সেখানে জানাজা শেষে লাশ এখন জন্মস্থান কুষ্টিয়ায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিএফডিসির পেশ ইমাম তার জানাজা পড়ান।

জানাজার আগে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন, অমিত হাসান, ওমর সানী, আমিন খান, মিশা সওদাগর, সাইমন, জায়েদ খান, পরিচালক শেখ নজরুল ইসলাম, অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড প্রমুখ।
জানাজার আগে পরিচালক শেখ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার হাত ধরে মিজু আহমেদ চলচ্চিত্রে এসেছিল। তার জানাজা পড়তে সত্যিই অনেক কষ্ট হচ্ছে। ’
মিজু আহমেদের ছোট ছেলে আশরাফুল আহমেদ জানান, বাবাকে কুষ্টিয়ায় দাদা-দাদির কবরের পাশে দাফন করা হবে। এর আগে সকাল ১০টায় রাজধানীর পান্থপথে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জনপ্রিয় অভিনেতা মিজু আহমেদ সোমবার রাতে ট্রেনে করে দিনাজপুর যাওয়ার পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ‘মানুষ কেন অমানুষ’ নামের একটি ছবির শুটিং করতে দিনাজপুর যাচ্ছিলেন তিনি।
রাতেই লাশ মিজু আহমেদের মোহাম্মদপুরের বাসায় গোসল করানো শেষে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়। সকাল ১০টায় পান্থপথে মিজু আহমেদের বাসভবনে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর লাশ আনা হয় বিএফডিসিতে।
মিজু আহমেদ ১৯৫৩ সালের ১৭ নভেম্বর কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্ম নাম হচ্ছে মিজানুর রহমান। শৈশবকাল থেকে তিনি থিয়েটারের প্রতি খুবই আগ্রহী ছিলেন। পরবর্তীতে কুষ্টিয়ার স্থানীয় একটি নাট্যদলের সাথে অন্তর্ভুক্ত হন।

শক্তিশালী খল অভিনেতা মিজু আহমেদ বাস্তবে নীতি ও সততার সঙ্গে জীবন কাটাতেন। নিয়মিত পাঁচওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন এই অভিনেতা। তিনি বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বহুবার। নিরপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সঙ্গেও ছিলেন যুক্ত।

১৯৭৮ সালে ‘তৃষ্ণা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন মিজু আহমেদ। পরবর্তী কয়েক বছরে ঢালিউডে অন্যতম সেরা একজন খলনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এ ছাড়াও নিজের চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা ফ্রেন্ডস মুভিজের ব্যানারে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন।
তার অভিনীত ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, মহানগর (১৯৮১), স্যারেন্ডার (১৯৮৭), চাকর (১৯৯২), সোলেমান ডাঙ্গা (১৯৯২), ত্যাগ (১৯৯৩), বশিরা (১৯৯৬), আজকের সন্ত্রাসী (১৯৯৬), হাঙর নদী গ্রেনেড (১৯৯৭), কুলি (১৯৯৭), লাঠি (১৯৯৯), লাল বাদশা (১৯৯৯), গুণ্ডা নাম্বার ওয়ান (২০০০), ঝড় (২০০০), কষ্ট (২০০০), ওদের ধর (২০০২), ইতিহাস (২০০২), ভাইয়া (২০০২), হিংসা প্রতিহিংসা (২০০৩), বিগ বস (২০০৩), আজকের সমাজ (২০০৪), মহিলা হোস্টেল (২০০৪), ভন্ড ওঝা (২০০৬) ইত্যাদি।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)