ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯

ঢাকা রবিবার, ৩ আষাঢ়, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১৩ শাওয়াল, ১৪৪০

সম্পাদকীয় এবার বৌদ্ধ অনুপ্রবেশ: সীমান্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করুন

এবার বৌদ্ধ অনুপ্রবেশ: সীমান্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করুন

নিরাপদ নিউজ: মিয়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর উভয় পক্ষ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সম্মত হয়েছিল। সেই সমঝোতার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় আড়াই হাজার রোহিঙ্গার প্রথম দলটি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল গত নভেম্বরে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একজনও ফিরে যেতে রাজি হয়নি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও বলেছে, মিয়ানমারে তাদের ফিরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। অন্যদিকে মিয়ানমার থেকে এখনো অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসছে। তার ওপর ভারতে আশ্রয় নেওয়া অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে আসার চেষ্টা করছে।

এরইমধ্যে আড়াই হাজারের বেশি রোহিঙ্গা ভারত থেকে চলেও এসেছে। মিয়ানমারে আবারও শুরু হয়েছে সেনাবাহিনীর অভিযান। এবার শুরু হয়েছে বৌদ্ধ, হিন্দু ও অন্যান্য নৃগোষ্ঠীর লোকজনের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা। বান্দরবান ও অন্যান্য সীমান্ত দিয়ে এরইমধ্যে এ রকম অনেকে বাংলাদেশে চলে এসেছে। ধারণা করা হয়, এরইমধ্যে ১৩ লাখের বেশি মিয়ানমারের নাগরিক বাংলাদেশে চলে এসেছে। এই সংখ্যা কি শুধু বাড়তেই থাকবে? বাংলাদেশ কি পারবে সেই বোঝা বহন করতে?

কক্সবাজারের প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রায় সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত। সামাজিক পরিবেশও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। স্থানীয় অধিবাসীদের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্বিষহ অবস্থা। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাও হুমকির মুখে। বাংলাদেশকে নিজের কথাও ভাবতে হবে। মানবিকতা দেখাতে গিয়ে নিজের অস্তিত্বকে বিপন্ন করা যাবে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে আমাদের তাড়াহুড়া না করার পরামর্শ দিলেও মিয়ানমারে তেমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য কী করেছে?

কত দিনে তেমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে, তা কে বলবে? মিয়ানমারের নাজুক গণতান্ত্রিক অবস্থা কখন ভেঙে পড়বে, তা-ই বা কে জানে? ভবিষ্যতে ভিন্ন ধরনের সরকার এলে তারা কি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে? এমনই হাজারো অনিশ্চয়তা রয়েছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে। আমাদেরই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কক্সবাজারের ওপর চাপ কমাতে ভাসানচরে কিংবা অন্যান্য জায়গায় কিছু রোহিঙ্গাকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন, মিয়ানমারের নাগরিকদের অনুপ্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।

মিয়ানমারের নিয়ন্ত্রণহীন সেনাবাহিনী একটার পর একটা অপকর্ম করে যাবে, আর তার সব দায় কেন বাংলাদেশকেই বহন করতে হবে? যেকোনো উপায়ে সমাধান করার বিষয়টিও চিন্তাভাবনায় রাখতে হবে।

রোহিঙ্গাদের খাদ্য ও অন্যান্য চাহিদা মেটাতে কিছু আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এখনো পাওয়া যাচ্ছে। তবে তা ক্রমেই কমছে। একসময় হয়তো কিছুই পাওয়া যাবে না। তখন কী হবে? অন্যদিকে জীবনধারণের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্ছিত রোহিঙ্গারা সহজেই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর খপ্পরে চলে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই সব দিক বিবেচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)