আপডেট এপ্রিল ২৯, ২০১৯

ঢাকা সোমবার, ১ শ্রাবণ, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১২ জিলক্বদ, ১৪৪০

ব্যবসা-বাণিজ্য এবি ব্যাংকের দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

এবি ব্যাংকের দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নিরাপদনিউজ: জাল-জালিয়াতি করে দেশের ব্যাংকিং খাতের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটছে কথিত শিল্প উদ্যোক্তারা। ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের ক্ষেত্রে ব্যাংকারদের যোগসাজসের অভিযোগও পুরোনো। কিন্তু এবার ব্যাংকারদের বিরুদ্ধেই দুর্নীতি, হয়রানি, খামখেয়ালী ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ আনলেন প্রবাসী উদ্যোক্তা।

মো. গিয়াস উদ্দিন মুরাদ নামের বস্ত্র খাতের ওই উদ্যোক্তা স্প্রেনের নাগরিক। অনিয়ম-দুর্নীতিতে বিপর্যয়ের শিকার বেসরকারি খাতের এবি ব্যাংক লিমিটেডের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

দায়ী ব্যাংকারদের শাস্তি চেয়ে আজ সোমবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। মেসার্স এনজেলস কম্পোজিট নিটিং ইন্ডাস্ট্রি (প্রা.) লিমিটেড নামের একটি রফতানী মুখি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন গিয়াস উদ্দিন মুরাদ। তার ভাষ্য, এবি ব্যাংক কর্মকর্তাদের খামখেয়ালী ও দুর্নীতির কারনে একটি শতভাগ রফতানিমুখি প্রতিষ্ঠান ধ্বংশের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে বেকার হয়ে পড়েছে দুই সহস্রাধিক শ্রমিক। প্রবাসী ওই উদ্যোক্তার স্বপ্ন ভঙ্গের কান্নায় গতকাল নীল হয়ে ওঠেছিল জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জ।

সংবাদ সম্মেলনে এবি ব্যাংক কর্মকর্তাদের কর্মকান্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেন গিয়াস উদ্দিন মুরাদ। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, হৃদয়ে পাহাড়সম কষ্ট, ক্ষোভ এবং দুঃখ থেকে আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা প্রতিনিয়ত দেশের ব্যাংকগুলোর হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের লোমহর্শক ঘটনা লিখেন। ব্যাংকারদের খামখেয়ালীর শিকার হয়ে সর্বশান্ত হওয়া উদ্যোক্তাদের কষ্টের কথাও ওঠে আসে আপনাদের লেখনিতে। এবি ব্যাংক কর্মকর্তাদের দুর্নীতি, হয়রানি, খামখেয়ালী এবং স্বেচছাচারিতার বলি হয়ে বিপর্যস্ত হওয়া একটি প্রতিষ্ঠানের তেমনি একটি গল্প শোনাতে আজ আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি।

গিয়াস উদ্দিন মুরাদ বলেন, আমি জন্মসূত্রে বাংলাদেশী হলেও দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে স্পেনে বসবাস করছি। মাতৃভূমির জন্য কিছু করার তাড়না থেকেই বিদেশে উপার্জিত অর্থ দিয়ে আমি ১৯৯৮ সালে মেসার্স এনজেলস কম্পোজিট নিটিং ইন্ডাস্ট্রি (প্রা.) লিমিটেড নামে শতভাগ রফতানিমুখি একটি স্পেন বাংলাদেশ যৌথ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলি। আমিই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা- ৩/এ, ভাদাম, টঙ্গী, গাজীপুর। ঢাকার গুলশানে (গুলশানে-১, রোড নং-১৩৬/১৩৭, হাউজ নং-৫/এ) প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় রয়েছে। এছাড়া স্পেনেও এ প্রতিষ্ঠানের একটি শাখা স্থাপন করি। টঙ্গীতে কারখানার জমি ক্রয়, স্থাপনা নির্মাণ, মেশিনারিজ স্থাপনসহ প্রতিষ্ঠাকালীন সকল খরচ বিদেশে উপার্জিত অর্থ থেকেই ব্যয় করেছি। এক্ষেত্রে দেশের কোন ব্যাংকের ঋণ আমি গ্রহণ করিনি।

প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে ২ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয় উল্লেখ করে গিয়াস উদ্দিন মুরাদ বলেন, কারখানায় উৎপাদিত পন্য ইউরোপ এবং আমেরিকার বাজারে সুনামের সঙ্গে রফতানি হয়েছে। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। বিদেশে পন্য রফতানির প্রয়োজনেই ২০০৮ সালে এবি ব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ত হই। রফতানির ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালে মেসার্স এনজেলস কম্পোজিট নিটিং ইন্ডাস্ট্রি (প্রা.) লিমিটেডের ব্যাক-টু-ব্যাংক এলসি লিমিট ছিল ১১ কোটি টাকা। ২০১৪ সাল পর্যন্ত আমাদের প্রতিষ্ঠানের ৩৫ কোটি টাকার এলসি খোলা হয়। এসব এলসির বিপরীতে ক্যাশ ইনসেনটিভ (রফতানির বিপরীতে নগদ প্রণদনা) বাবদ ২ কোটি টাকা পাওনা হই। কিন্তু এবি ব্যাংকের স্বেচ্ছাচারিতা ও খামখেয়ালির কারনে ইনসেনটিভের সে অর্থ আমরা পাইনি। ব্যাংকটি আমাদের কাগজপত্র বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠায়নি। এ কারনে সে অর্থ বাতিল হয়ে যায়।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন ২০০৮ সাল পরবর্তী সময়ে ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিশ্বব্যাপী আর্থিক মন্দার ঝড় শুরু হয়। বৈশ্বয়িক এ অর্থনৈতিক মন্দার কারনে ২০১০-১১ সালে আমাদের ৯ কোটি টাকার রফতানি আদেশ বাতিল হয়ে যায়। সেই থেকে এবি ব্যাংক আমাদের সব ধরনের ব্যবসায়িক সহযোগীতা বন্ধ করে দেয়। এর পর থেকে ব্যাংকটি তিলে তিলে আমার প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংশের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

গিয়াস উদ্দিন মুরাদ বলেন, দীর্ঘ চার বছর ধরে তারা আমাদের কোন ধরনের ব্যবসা বাণিজ্য করতে দেয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ি, রফতানি আদেশ বাতিল হলে ঋণটি পুনঃতফসিল করে দেয়ার কথা। কিন্তু এবি ব্যাংক আমাদের ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেয়নি। পরবর্তীতে আমরা বড় বড় রফতানি আদেশ পেলেও ব্যাংকারদের অসহযোগীতার কারনে সেটি গ্রহণ করতে পারেনি। তারা রফতানির ক্ষেত্রে কোন ধরনের সহযোগীতা করেনি। অথচ এ সময়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে হাজার হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুন:তফসিল করা হয়েছে।

উপরন্তু এবি ব্যাংক ২০ শতাংশ সুদ আরোপ করে জোরপূর্বক ফোর্স লোন সৃষ্টি করেছেন উল্লেখ করে গিয়াস উদ্দিন মুরাদ বলেন, ব্যাংকের শর্ত অনুযায়ি, আমাদের ঋণের সুদহার ছিল ১৩ শতাংশ। ব্যাংক ২০ শতাংশ হারে পাঁচ বছরের সুদকে আসল বানিয়ে ২০১৫ সালে সাড়ে ১৪ কোটি টাকা ঋণ দেখায়। যদিও এর আগে চার বছরে আমরা প্রতিষ্ঠানের সব স্টক লট বিক্রি করে এবি ব্যাংককে সাড়ে ৬ কোটি টাকা পরিশোধ করি। আমাদের জমাকৃত টাকা তারা সুদ হিসেবে গণ্য করেছে।

তিনি বলেন, ঋণটি পুন:তফসিল করে দেয়ার জন্য আমরা এবি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ শাখা কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। পরে ২০১৫ সালে ব্যাংকটি মেসার্স এনজেলস কম্পোজিট নিটিং ইন্ডাস্ট্রি (প্রা.) লিমিটেডের ঋণটি সাড়ে ১৪ কোটি দেখিয়ে পুনঃতফসিল টাকা করে দেয়। ততদিনে প্রবাসে কষ্টার্জিত অর্থে গড়ে তোলা আমার প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে পঙ্গু হয়ে যায়। ঋণটি পুন:তফসিল করা হলেও কোন ধারনের ব্যবসায়িক সুযোগ সুবিধা না দিয়ে কিস্তি পরিশোধ করতে বলে। এই স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে তাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করলেও কোন লাভ হয়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাষ্টমার সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্টে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাইনি।

গিয়াস উদ্দিন মুরাদ বলেন, অনেক শ্রম, তদবির ও চেষ্টায় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে অন্য একটি রফতানিমুখি শিল্প প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে মেসার্স এনজেলস কম্পোজিট নিটিং ইন্ডাস্ট্রি (প্রা.) লিমিটেড পুনরায় চালু হয়। ব্যাংকের সঙ্গে ত্রিপক্ষিক চূক্তির মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানটি চালু করা হয়েছিল। এসময় ডাউন পেমেন্ট হিসেবে আমরা এবি ব্যাংকে ১ কোটি টাকা জমা দেই। তারা মৌখিক আশ্বাস দেয় যে, আমরা পুনরায় ব্যাংকের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবো। ব্যাংক মাসে ৩৬ লক্ষ টাকা জামা দেয়ার শর্তে ৬০টি কিস্তি তফসিল করে দেয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় মাত্র তিন মাস পর তারা পুনরায় আমাদেরকে ৩৬ কিস্তিতে ৫৫ লক্ষ টাকা করে মাসে পরিশোধ করতে বলে। ব্যাংকটির এমন হঠকারিতায় দিশেহারা হয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোন সুরাহা পাইনি।

তিনি বলেন, আমাদের হতবাক করে দিয়ে গত ১২ মার্চ এবি ব্যাংক দৈনিক যায়যায় দিন পত্রিকায় প্রতিষ্ঠানটি নিলামে বিক্রি করার জন্য বিজ্ঞাপ্তি প্রকাশ করে। এ হঠকারিতা ঠেকাতে আমরা অর্থঋণ আদালতে এবি ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। একই সঙ্গে অন্য একটি মামলা করেছি দেওয়ানি আদালতেও। নিলাম বন্ধে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন (পিটিশন নং-৩২২২/১৯) দায়ের করতে বাধ্য হয়েছি।

গত কয়েক বছর ধরে এবি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন চালছে উল্লেখ করে গিয়াস উদ্দিন মুরাদ বলেন, গত কয়েক বছরে ব্যাংকটির বেশ কয়েকজন চেয়ারম্যান ও এমডি পরিবর্তন হয়েছে। ব্যাংকটির সাবেক এমডি কাইজার আহমেদ চৌধুরী, এম ফজলুর রহমান, শামীম আহম্মেদ চৌধুরী, মসিউর রহমান চৌধুরীসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বড় অংশই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়েরকৃত মামলার আসামী। মামলার আসামী হয়ে জেলে গিয়েছেন এবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হকসহ অনেক কর্মকর্তা। জনগনের অর্থে পরিচালিত ব্যাংকটির হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। অফশোর ইউনিটের মাধ্যমে শতশত কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান, এমডিসহ ব্যাংকটির অন্য পরিচালক ও কর্মকর্তারা এসব অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। আমার প্রিয় প্রতিষ্ঠানটির ঋণ নিয়ে বহুবার এবি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুদকের দোহাই দিয়ে আমাদের কোন সহযোগীতা করেনি। উল্টো বিভিন্ন সময়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবং সেটি ভঙ্গ করে মেসার্স এনজেলস কম্পোজিট নিটিং ইন্ডাস্ট্রি (প্রা.) লিমিটেডের মতো একটি সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংশ করে দিয়েছে।

ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান অনিয়ম-দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে গিয়াস উদ্দিন মুরাদ বলেন, অর্থের পরিমানের বিচারে আমার প্রতিষ্ঠানের ঋণটি খুবই ছোট। কিন্তু এ প্রতিষ্ঠানটির বিপর্যয়ের মাধ্যমে আমার মতো একজন প্রবাসীর স্বপ্নের মৃত্যু হতে চলছে। শুধুমাত্র এবি ব্যাংক কর্মকর্তাদের স্বেচছাচারিতা ও খামখেয়ালীপনার শিকার হয়ে এনজেলস কম্পোজিট নিটিং ইন্ডাস্ট্রি (প্রা.) লিমিটেড আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। তিনি এনজেলস কম্পোজিট নিটিং ইন্ডাস্ট্রি (প্রা.) লিমিটেডের সমস্যা নিরসনের জন্য অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সাংবাদিকদেও প্রশ্নের জবাবে গিয়াস উদ্দিন মুরাদ বলেন, ৯ কোটি টাকার রফতানি আদেশ বাতিল হওয়ায় আমরা স্টক লট বিক্রি করে এবি ব্যাংককে সাড়ে ৬ কোটি টাকা পরিশোধ করেছি। কিন্তু ব্যাংক সে টাকা সুদ হিসেবে গণ্য করেছে। তারপরও এবি ব্যাংককে আমরা নগদ ৯ কোটি টাকা পরিশোধ করে দিতে রাজি আছি। ব্যাংকের যুলুম থেকে আমরা বাঁচতে চাই।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০১২ সালের দিকে রফতানি আদেশ বাতিল হওয়ার পর বহুবার এবি ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা বলেছিল এবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান সিঙ্গপুর থাকেন। সেখানে আমার ফাইল পাঠাবেন। কিন্তু এরপর থেকে ব্যাংক কর্মকর্তাদের খামখেয়ালীতে আমার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংশ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এনজেলস কম্পোজিট নিটিং ইন্ডাস্ট্রি (প্রা.) লিমিটেডের পরিচালক দেলোয়ার হোসেন, জয়ন্ত কুমার এবং রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)