আপডেট ৪ মিনিট ২২ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ , গ্রীষ্মকাল, ১০ রমযান, ১৪৩৯

জীবনযাপন এমন প্রেম আর হয় না: এসিডে ঝলসানো এক স্বর্গীয় ভালোবাসা!

এমন প্রেম আর হয় না: এসিডে ঝলসানো এক স্বর্গীয় ভালোবাসা!

প্রশান্ত-আরতি: যেন স্বর্গীয় প্রেমজুটি-বোনকে ছোড়া এসিডে নিজে পুড়লেন, এবার বিয়েও করবেন এসিডদগ্ধকে!

০৪ এপ্রিল ২০১৭, নিরাপদ নিউজ : ভালোবাসার শক্তি আসলে কতটা? আপাতত যে ঘটনা আপনাদের বয়ান করতে যাচ্ছি তাতে এটা অন্তত বলা যায়- নিজের জীবন ও জগৎসংসারের ওপর বীতশ্রদ্ধ দুজন মানুষকে নতুন করে বাঁচার পথ দেখিয়েছে এটা। এ ঘটনায় প্রমাণ হয়েছে ভালোবাসার যাদুকরী শক্তি মনের গভীর থেকে গভীরতর ক্ষতকেও সারিয়ে তোলে- এমনকি ভুলিয়ে দেয় শরীরের ক্ষতজনিত অসুন্দরতা বা অস্বাভাবিকতাকেও।

এটাকে বলতে ইচ্ছে করে আগুনে পোড়ানো খাদহীন স্বর্ণ। কিংবা বলতে পারেন এসিডে ঝলসানো ভালোবাসা!

কিছুদিন আগেও ভারতের মুম্বাইর নালা সোপারা এলাকার বাসিন্দা আরতি ঠাকুর (২৭) ও ভুসাবলের বাসিন্দা প্রশান্ত পিঙ্গলে প্রকাশ্যে লোকজনের সামনে হাজির হতে ইতস্তত করতেন।

এসিড হামলায় শরীরের ৫৪% পুড়ে যাওয়া প্রশান্ত উত্যক্তকারীদের হাত থেকে নিজের বোনকে বাঁচাতে গিয়ে এই নিষ্ঠুরতর বর্বরতার শিকার হন।

অপরদিকে, বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় পাঁচবছর আগে গুরগাঁও রেলস্টেশনে এসিড হামলার শিকার হন আরতি। প্রত্যাখ্যানে ক্ষুব্ধ সাবেক বাড়িওয়ালা তিন সঙ্গীসহ হামলা চালায় আরতির ওপর। একপর্যায়ে তরল আগুনে ঝলসে দেয় আরতির শরীর আর স্বপ্নকে। এসিড তার দেহের প্রায় ২০% পুড়িয়ে দিয়েছে আর এজন্য তাকে আটটি অপারেশন করাতে হয়। আরও চারটি অপারেশন অপেক্ষা করছে তার জন্য।

প্রশান্ত আর আরতির পরিচয় হয় গত বছরের নভেম্বরে। এসিড হামলার শিকারদের নিয়ে মুম্বাই শহরে হিউম্যান রাইটস ল নেটওয়ার্ক আয়োজিতে এক অনুষ্ঠানে অন্য অনেক এসিড দগ্ধের মতো হাজির ছিলেন তারা দুজনও।

মুম্বাইর ওই অনুষ্ঠানে আরতি নিজের যন্ত্রণাময় অভিজ্ঞতার মাঝেও টিকে থাকার পক্ষে অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তব্য দিচ্ছিলেন। প্রশান্ত তা দেখ মুগ্ধ হযে যান।

আরতির প্রেমে পরার ওই সময়টার বর্ণনায় প্রশান্ত বলেন, এটাকে প্রেম বলতে পারেন, আকর্ষণ বলতে পারেন আবার বলতে পারেন একধরনের সম্ভ্রম জাগানিয়া মুগ্ধতা… সে বলছিল তার যন্ত্রণার বিষয়ে কিন্তু আমি দেখছিলাম সে লড়তে চাইছে এর বিরুদ্ধে, এমন এক লড়াই যাতে হার মানতে প্রস্তুত নয় সে। আমি তাতে বিমোহিত হয়ে যাই।

আরতি বলেন, প্রশান্ত গত জানুয়ারিতে বিয়ের প্রস্তাব দেয় আমাকে। কিন্তু আমি তো জগৎসংসারের প্রতি চরম ক্ষুব্ধ ছিলাম। এটা সত্য যে আমি হামলাকারীদের কখনোই ক্ষমা করবো না কিন্তু প্রশান্তকে পাশে পেয়ে আমি নতুন করে হাসতে শিখেছি।

যদিও এসিড হামলা পরবর্তী নির্মম মনোদৈহিক যন্ত্রণায় থাকা আরতিকে প্রশান্তের প্রস্তাব তার পুরনো ভীতিকে ফের জাগিয়ে তোলার অবস্থায় ফেলে দেয়। তবে এই আহ্বানে ছিল স্বর্গীয় আবহ, সে আরতির ব্যক্তিত্ব আর মনকে ভালবেসেই এগিয়ে এসেছিল। তাই শেষপর্যন্ত আরতিও দুর্বল হয়ে পড়েন সত্যিকারের প্রেমভরা ওই আহ্বানে।

গত ৫ মার্চ তিনি  প্রশান্তকে জানান, হ্যাঁ, আমি বউ হবো তোমার।

এখন সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুনে তারা মালাবদল করবেন। উভয়ের পরিবারই তাদের সিদ্ধান্তে একমত রয়েছে।  আরতির মা সীমা হবু জামাই সম্পর্কে মেয়েকে বলেন, প্রশান্তর মতো সত্যিকারের এক জীবন-যোদ্ধাই হতে পারে তোমার জীবনসঙ্গী। আর আরতি বলেন, সে তার বোনের সম্ভ্রম বাঁচাতে তার নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েছে। – এটা অসাধারণ।

প্রশান্তর হৃদয় অবশ করে দেয়া প্রেমের পরশে বদলে গেছেন আরতিও। প্রেমমুগ্ধ আরতি দয়িত সম্পর্কে বলেন, সে একজন সৎ মানুষ। হামলার পর এই প্রথম আমি ভাবতে পারছি বিয়ে করার কথা এবং সন্তান ধারণেরও আশা করছি।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)