আপডেট ২৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৫ সফর, ১৪৪১

নিসচা সংবাদ, লিড নিউজ এরশাদের মৃত্যুতে নিসচা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনের শোক

এরশাদের মৃত্যুতে নিসচা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনের শোক

নিরাপদনিউজ : জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন নিরাপদ সড়ক চাই এর চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। রবিবার এক শোকবার্তায় ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। এসময় তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন,মহান আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি বড়ই ক্ষমাশীল ও দয়ালু। বান্দাদের কোন না কোন ভালো কাজের উছিলায় আল্লাহ তার বান্দাদের ক্ষমা করেন। আমি দোয়া করছি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সাহেবের জীবনের ভালো কাজগুলোর জন্য তিনি ক্ষমা পাক এবং বেহেস্ত নসীব হোন।

তিনি বলেন,আজ আমি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সাহেবকে বিশেষভাবে স্মরন করে একটি ঘটনার কথা বলতে চাই। যে ঘটনাটি আমার ব্যক্তি জীবনে স্মরনীয় একটি ঘটনা। ১৯৮৯সালে আমি এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই। সে সময় সারাদেশে প্রচার হয় সম্ভবত ইলিয়াস কাঞ্চন আর বাঁচবেন না। এমন সংবাদে সবাই তখন হত বিহ্বল। দুর্ঘটনার পর চিকিৎসকরা আমার পরিবারকে জানিয়ে দেন আমার হাত পা কেটে ফেলতে হবে। আমি আকেজন এর কথা স্মরন করছি তিনি হলেন আমাদের চলচ্চিত্রের খসরু ভাই। আমার দুর্ঘটনার পর এই খসরু ভাই অনেক চেস্টা করেছেন সে মুহুর্ত্বে কি করা যায় কি করলে পরে কি হবে। তখন তিনি এরশাদ এর সাথে কথা বলেন এবং আমার দুর্ঘটনার কথা সুনে আমাকে দেখতে এরশাদ সাহেব ও রওশন এরশাদ ছুটে আসেন। বাংলােদেশের ডাক্তাররা বলেছিলেন, কাঞ্চনকে বাঁচানো গেলেও হাত পা সব বাকা কিংবা অবশ হয়ে যাবে অথবা হাত পা কেটে ফেলতে হবে। প্ল্যাস্টিক সার্জারি করলেও একই অবস্থা ও আশঙ্কা হেতু সবাই ছিলেন উদ্বিগ্ন। তখন আমার স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন বেকে বসেন ও সবাইকে বলে দেন, আমার হাত পা কাটতে দেবেন না। জাহানারা কাঞ্চন সবাইকে সর্বচ্চ চেস্টা চালিয়ে যেতে বলেন। এ কথা সুনে সেদিন এরশাদ সাহেব সমস্ত আইনী জটিলতাকে তোড়াই কেয়ার করে নেতার মতো কঠিণ বজ্র কন্ঠে সব জায়গায় নির্দেশ দিয়েছেন, যে করেই হউক পরবর্তী ৬ ঘন্টার মধ্যেই বিশেষ ফ্লাইটে হলেও কাঞ্চনকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে সিঙ্গাপুর পাঠানোর সব ব্যবস্থা ও আয়োজন করতে হবে এবং পরিশেষে আমাকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। এরপর আমি সেখানে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে হাত পা কাটা ছাড়াই সুস্থ্য হয়ে দেশে ফিরে আসি। সেদিন যদি এরশাদ সাহেব আমার জন্য এ কাজ না করতেন তাহলে হয়তো আমি আজ ইলিয়াস কাঞ্চন থাকতাম না। আমার অধ্যায় হয়তো তখনই শেষ হয়ে যেত। আমি চির কৃতঞ্জ সে সময়ে আমার পাশে থাকা সেই সব মানুষগুলোর প্রতি যাদের ভেতর এরশাদ সাহেব এবং খসরু ভাই এর কথা না বললেই নয়। আজ আমি আল্লাহ কাছে এই পার্থনাই করি এরশাদ সাহেবের এই ভালো কাজটির জন্য আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে বেহেস্ত নসীব করেন।

ইলিয়াস কাঞ্চন আরো বলেন, বাংলাদেশে জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য এরশাদ সাহেব স্মরণীয় হয়ে থাকবেন চিরকাল ।

উল্লেখ্য, এরশাদ ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের ডিনহাটা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন জন্ম শহরেই। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৫০ সালে সেখান থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫২ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে অফিসার পদে নিয়োগ লাভের মধ্য দিয়ে পেশাগত জীবন শুরু করেন এরশাদ। গত ৪ জুলাই দুপুরে এরশাদকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। তখন থেকেই তার শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে যেতে থাকে বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। আজ রবিবার সকাল পৌনে ৮টায় তার মৃত্যুর ঘোষণা দেন চিকিৎসকরা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)