আপডেট ১ মিনিট ১২ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ৩ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৮ মুহাররম, ১৪৪১

সম্পাদকীয় ওয়াসার পানি ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত

ওয়াসার পানি ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত

সম্পাদকীয়

নিরাপদ নিউজ :  ওয়াসার পানি নিয়ে ঢাকাবাসীর অভিযোগের অন্ত নেই এবং এই অভিযোগ অনেক পুরনো। রাজধানীবাসী যতগুলো সমস্যা নিয়ে বসবাস করছে, পানি সমস্যা তার অন্যতম। এমনিতেই রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় পানি সঙ্কট রয়েছে। তার ওপর ময়লা ও দূষিত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। বলা হয়ে থাকে পানির অন্য নাম যদি জীবন হয়, তাহলে দূষিত পানির আরেক নাম মরণ। দূষিত পানি জীবনকে কেমন দুর্বিষহ করে তোলে সেটা সবচেয়ে ভালো বোঝেন রাজধানী ঢাকার বাসিন্দারা।

ঢাকায় পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ বা ওয়াসার সরবরাহ করা পানি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে গ্রাহকদের। ঢাকার অনেক এলাকায়ই পানির সরবরাহ নিয়মিত নয়। আর পানি পাওয়া গেলে অধিকাংশ সময়েই তা থাকে ময়লা, দুর্গন্ধযুক্ত। এ বিষয়ে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও নানা অজুহাত দেখায় ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। রাজধানীর অনেক এলাকার পানিতেই ময়লা এবং দুর্গন্ধ দেখা দিয়েছে। বিশুদ্ধ পানি না পাওয়ায় এসব এলাকার বাসিন্দাদের খাওয়া-দাওয়া, অজু-গোসলসহ প্রাত্যহিক কাজে দুর্ভোগে পড়তে হয়। বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহারের পরও পানিকে ব্যবহার উপযোগী করা যাচ্ছে না। যদিও এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে ওয়াসা।

তাদের বক্তব্য, ৭৮০টি পাম্প, বিদ্যুৎ সংযোগ, বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি ও পানির স্তরের ওপর নির্ভরশীল পানি সরবরাহ ব্যবস্থা। এর যে কোনো একটির তারতম্য হলে পাম্প অকেজো হয়ে যায় এবং ওই এলাকার পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে ওয়াসার একটি কেন্দ্রীয় সরবরাহ পদ্ধতি ছিল, সেটিকে পরিবর্তন করে প্রায় ১৬০টি সরবরাহ সিস্টেম করা হচ্ছে। প্রতিটি সিস্টেমের অধীনে দুই থেকে পাঁচ হাজার বাড়িঘরে পানি সরবরাহ করা হবে। আমাদের কথা হচ্ছে, যে যুক্তিই দেখানো হোক ওয়াসা কর্তৃপক্ষ দায় অস্বীকার করলে হবে না। এ ব্যাপারে দ্রত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ মংলা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির কারণে নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যাবে এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তা ছাড়া ওয়াসার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ অনেক পুরনো। যদি পানির লাইনের কোনো সমস্যা থাকে তা হলে তা দ্রত মেরামত করা হোক। এটা মনে রাখতে হবে, ঢাকাকে তিলোত্তমা নগরীতে পরিণত করার স্বপ্ন অনেক দিনের। ঢাকার বয়স চারশো বছরের বেশি হলেও এই স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন ঘটানো আজও সম্ভব হয়নি।

রাজধানী হিসেবে এর সৌকর্য বৃদ্ধি করে জনসাধারণের বাসোপযোগী করতে সরকার কিংবা ঢাকা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ কিংবা তৎপরতা রয়েছে এটা সত্য, তবে নানা সমস্যা রয়েই গেছে। আয়তনের দিক থেকে ঢাকা এমন কোনো বড় শহর নয় যে পৃথিবীর বড় বড় নগরকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। তবে জনসংখ্যার দিক থেকে ঢাকা পৃথিবীর অন্যতম প্রধান নগরী এবং জঞ্জালময় ও অপরিকল্পিত নগরী হিসেবে রাজধানী ঢাকা দীর্ঘদিন থেকেই বেশ আলোচিত সমালোচিত। আমাদের প্রশ্ন ঢাকাকে দুইভাগ করে কী লাভ হলো? ঢাকায় যদি নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি না পায়, ঢাকা যদি পরিচ্ছন্ন ও জঞ্জালমুক্ত উৎকৃষ্ট নগরীর অভিধা না পেয়ে নিকৃষ্ট নগরীর অভিধা পায় তা হলে এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর কী হতে পারে। বিশ্বের নগরবিষয়ক জরিপে এর আগেও একাধিকবার ঢাকা দ্বিতীয় নিকৃষ্ট নগরীর অভিধা পেয়েছে। যে করেই হোক এই খারাপ অভিধা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন নাগরিক সুবিধা বাড়ানো এবং ধীরে ধীরে একটি পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত করা। সে জন্য নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং এর কোনো বিকল্প নেই।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)