সংবাদ শিরোনাম

২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং

00:00:00 শুক্রবার, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ , বসন্তকাল, ৭ই জমাদিউস-সানি, ১৪৩৯ হিজরী
চট্টগ্রাম, পরিবেশ কক্সবাজারের ফুলেশ্বরী হতে পারে মিনি সুন্দরবন!

কক্সবাজারের ফুলেশ্বরী হতে পারে মিনি সুন্দরবন!

পোস্ট করেছেন: Nsc Sohag | প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮ , ১০:১৬ অপরাহ্ণ | বিভাগ: চট্টগ্রাম,পরিবেশ

কক্সবাজারের ফুলেশ্বরী হতে পারে মিনি সুন্দরবন!

সেলিম উদ্দিন, নিরাপদনিউজ : কক্সবাজার জেলার যে কয়েকটি নদীর মধ্যেই ঈদগাঁও ফুলেশ্বরী নদীটি অন্যতম। মিয়ানমারের পাহাড় থেকে উৎপত্তি হয়ে বান্দরবন,রামুর বুক চিরে কক্সবাজার সদর হয়ে ফুলেশ্বরী নদী মিশেছে বঙ্গোপসাগরে। নদী আর সাগরের মিলন মোহনার নাম গোমাতলী পয়েন্ট তথা মহেশখালী চ্যানেল। এ নদী পার হয়ে যাওয়া যায় কাঁউয়াডিয়া নামক একটি পর্যটন এলাকায় । আবার এ চ্যানেলটি সাথে আরো একটি ছোট্র নদী রয়েছে তার নাম ইসলামপুর লবনঘাট। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে যে নদী দিয়ে ঢুকে পড়ে সেই নদীটি ইসলামপুর ঘাট। এ নদীগুলোর মোহনায় বিশেষ পরিকল্পনার মাধ্যমে গড়ে তোলতে পারে প্যারাবন সমৃদ্ধ গভীর দৃষ্টিনন্দন অরণ্য। শুধুমাত্র উদ্যোগ প্রয়োজন।

সদরের শিল্প নগরী ইসলামপুর লবন ঘাট থেকে এই অরণ্যর দূরত্ব ৩/৪ কিলোমিটার হতে পারে। যাতায়াত পথে দেখা মিলবে শতশত হেক্টর জায়গায় প্যারাবন।অযন্তে অবহেলায় পড়ে বনগুলো। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় কেটে নিয়ে যাচ্ছে এ বনের গাছ। বাইন,কেওড়াসহ অসংখ্য প্রজাতির উদ্ভিদে সমৃদ্ধ এই এলাকাগুলো। গাছের মাথা ছুঁয়ে শত শত বকের ঝাঁক ও পরিযায়ী পাখি। পাখির কল-কাকলী,বাইন,কেওড়াসহ অন্যান্য উদ্ভিদে প্রজাতির ঘন সবুজ অরণ্য আর নদীর জোয়ার ভাটা স্রোত ও ঢেউ দেখে ঐ এলাকার নাম দেওয়া যেতে পারে মিনি সুন্দরবন। সাগর,নদী সবুজ আর শত প্রাণবৈচিত্রের অপূর্ব এই প্রাকৃতিক স্থানকে ঘিরে সুদুর প্রসারী পরিকল্পনা নিতে পারে বন ও পর্যটন মন্ত্রনালয়। বিশ্বের সর্ব দক্ষিনে দীর্ঘ সাগরের সৈকতের শহর কক্সবাজার ভ্রমনে আসা দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে এ অরণ্যকে আকৃষ্ট করতে পারে। নির্মান করা যেতে পারে একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ও প্রাকৃতিক বিনোদন কেন্দ্র। কক্সবাজার সদরের এই প্যারাবন গুলো এতদঞ্চলের পর্যটন শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারেন বলে মনে করে অনেকেই।

স্থানীয়রা জানায়, সুন্দরবনের আদলে গড়ে তোলা হলে অসংখ্য জীববৈচিত্রেকে রক্ষা করা যাবে। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমন্ডিত এলাকাটি কক্সবাজার পর্যটন শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। এই প্রাকৃতিক নদী, চিংড়ি ঘের, সাগর বেষ্টিত বনে শুধু পর্যটককের ঢল নামবে না, উদ্যোগ নিলে চলচিত্রের চিত্র ধারণের একটি অদ্বিতীয় স্থানও হতে পারে। বর্তমানে এই এলাকায় শতাধিক প্রজাতির পাখির বিচরন রয়েছে। অনেক অতিথি পাখিও চোখে পড়েছে। এমন কি বিলুপ্ত প্রায় পাখিও দেখা গেছে। প্যারাবনে রয়েছে শামুক,ঝিনুক, কাঁকড়া ও চিংড়িসহ নানান প্রজাতির মাছ।

উপকুলীয় বাসিন্দাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশ ধ্বংশের কারনে বহুপ্রজাতির প্রাণী আজ বিলুপ্ত প্রায়। একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার নির্মাণ করা হলে পর্যটক ও স্থানীয় এবং পরিযায়ী পাখি ও প্রাকৃতিক নানাবিধ সৌন্দর্য্য অবলোকন করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে পাখি ও বন্যপ্রাণী শনাক্তকরণ এবং গবেষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষনার জন্য সহজ হবে।

Share this...
Print this pageShare on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedInEmail this to someone

comments

Bangla Converter | Career | About Us